Monday, March 4, 2024
বাড়িরাজ্যস্যন্দন পত্রিকার খবরের জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

স্যন্দন পত্রিকার খবরের জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ১১ জানুয়ারি : দীর্ঘ ২৫ বছরেও চাকমা ঘাটের পৌষ মেলা সরকারি ক্যালেন্ডারের স্থান পায়নি। গত ৮ জানুয়ারি স্যন্দন পত্রিকায় এই সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে। বিধানসভায় পঞ্চম দিন এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে প্রশ্ন উত্থাপন করেন বিধায়িকা কল্যাণী রায়। এ জবাবে মুখ্যমন্ত্রী রেফারেন্স পিরিয়ডে বলেন, রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের কালচার ক্যালেন্ডার ২০২৩-২৪ -এ চাকমা ঘাটের সংক্রান্তি মেলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই মেলার জন্য তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর এ বছর ৯০ হাজার টাকা অর্থ বরাদ্দ করেছে।

উল্লেখ্য গতবছর এই মেলার জন্য অর্থ বরাদ্দ ছিল ৭৫ হাজার টাকা। তবে খবরটি ছিল, তেলিয়ামুড়া চাকমাঘাটের পৌষ সংক্রান্তি মেলা ১৯৯৮ সালে গোটা রাজ্যে জঙ্গিদের বাড়বাড়ন্তে ঐতিহ্যবাহী ডুম্বুরের পৌষমেলা বন্ধ হয়ে পড়ে। রাজ্যের জাতি-উপজাতির এক অনবদ্য মিলনমেলা জঙ্গিদের বন্দুকের বারুদের গন্ধে জাতি-উপজাতির মধ্যে চরম বিভেদের সৃষ্টি হয়েছে। আতঙ্ক সাধারণ মানুষের কাছেও। ডুম্বুর জলপ্রপাতকে কেন্দ্র করে মকর সংক্রান্তিতে ঐতিহাসিক মেলা বসতো। রাজ্য সরকারের তথ্য সংস্কৃতি পর্যটন দপ্তরের বাৎসরিক ক্যালেন্ডারে জায়গা করে নিয়েছিল। যার ফলে প্রতিবছর রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই মেলার আয়োজন করা হতো। জনজাতিদের কাছে ডুম্বুর জল প্রপাত হয়েছিল পবিত্র গঙ্গা। সারারাত জেগে পূজার্চ্চনা শেষে ভোরে এই পবিত্র গঙ্গায় অবগাহন করে পিতৃপুরুষের অস্থি বিসর্জন করতো।

 কেউ কেউ পিতৃপুরুষের প্রতি তিল দান, জল দান করে শুদ্ধিকর্ম করতেন। লাখো মানুষের ভিড়ে জমে উঠতো এই মেলা।জঙ্গি আতঙ্কে যখন এই মেলা বন্ধ হয়ে পড়ে, তখন ১৯৯৯ সালে তৎকালীন সিপিআইএমের এমডিসি হরিমোহন দেববর্মার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এই চাকমাঘাটের ব্যারেজকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছিল জাতি-উপজাতির ঐতিহ্যবাহী পৌষ মেলা। এবছর তার ২৫ বছরপূর্তি। কালের বিবর্তনে ধীরে ধীরে এই মেলা পরিধি ও জৌলুষ বৃদ্ধি পায়। ১৯৯৯ সালে হাতে গোনা ৮-১০ জন বৈঠক করে যে মেলার শুরু করেছে আজ সেই মেলার বৈঠকে অর্ধশত চেয়ারও কম পড়ে। আগামী ১৪ই জানুয়ারি মরক সংক্রান্তিতে চাকমাঘাট ব্যারেজ প্রাঙ্গণে দুইদিনব্যাপী মেলা বসবে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জাতি-উপজাতি মানুষের ভিড় জমবে। সারারাতব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিভিন্ন দপ্তরের স্টল খোলা হবে। তাছাড়া প্রায় পাঁচ শতাধিক দোকানি তাদের পসরা সাজিয়ে বসবে। কিন্তু আক্ষেপের বিষয় দীর্ঘ পঁচিশ বছরেও চাকমাঘাটের পৌষমেলা রাজ্যের তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরের ক্যালেন্ডারে স্থান পায়নি। ফলে তেলিয়ামুড়া মহকুমার বিভিন্ন দপ্তরের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে মেলা করা হচ্ছে। কিন্তু রেভিনিউ আদায় করা হয় অবশ্য মেলায় আসা দোকানিদের কাছ থেকে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য