খোয়াই (ত্রিপুরা), ২৭ জুলাই (হি.স.) : খোয়াই জেলার আশারামবাড়িতে বিজেপির উদ্যোগে আয়োজিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মাসিক বেতার অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’ কার্যক্রমে শাসক জোট শরিক তিপ্রা মথা দলের যুব সংগঠনের কর্মীদের আক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে বিস্ফোরক মন্তব্য তুলে ধরলেন বিজেপির প্রদেশ স্তরের অন্যতম নেতা বিপিন দেববর্মা।
গোটা ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিপিন দেববর্মার বক্তব্য তিপ্রা মথা দলের যুব অংশের উগ্র সদস্যদের আক্রমণে “মন কি বাত” কার্যক্রম চলার সময় বিজেপি দলের আশারামবাড়ি মণ্ডলের সভাপতি সহ দলের বেশ কিছু স্থানীয় নেতৃত্ব এবং কর্মী সমর্থকরা আহত হয়েছেন। এর মধ্যে দুইজন গুরুতর আহত বলে দাবি করেন বিপিন দেববর্মা। তিনি জানান, ধারালো অস্ত্র সহ দেশীয় তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে।
বিপিন দেববর্মার বক্তব্য হচ্ছে মূলত তিপ্রা মথা স্লোগান তুলছে টিটিএএডিসি এলাকাতে প্রধানমন্ত্রীর “মন কি বাত” কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না। এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে তিপ্রা মথা যেহেতু শাসকগোষ্ঠীর শরিক, এই কারণে বিজেপি প্রদেশ সভাপতি থেকে শুরু করে সংগঠন মন্ত্রী এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর গোচরে গোটা বিষয় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যারা আক্রমণে জড়িত তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যাপারে ইতিমধ্যে পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছেন বিপিন দেববর্মা।
প্রসঙ্গত, ত্রিপুরার উপজাতি-ভিত্তিক রাজনৈতিক দল তিপ্রা মথার হামলায় সাত বিজেপি কার্যকর্তা আহত হয়েছেন। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিপ্রা মথার প্ৰতিষ্ঠাতা প্রদ্যোত কিশোর মাণিক্য দেববর্মণ। বিজেপি কার্যকর্তাদের ওপর হামলার জন্য তিনি দায়ী করেছেন সিপিআইএম-কে।
ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র মণ্ডল সভাপতি জয়ন্ত দেববর্মা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ‘আজ (রবিবার) খোয়াইয়ের আশারামবাড়িতে ৩০ নম্বর বুথে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠান চলছিল। ‘মন কি বাত’ শুনতে বিজেপি-র বিভিন্ন পদমৰ্যাদার স্থানীয় নেতা ও কার্যকর্তারা সমবেত হয়েছিলেন। তখন আচমকা তিপ্রা মথার অৰ্ধশতাধিক গুণ্ডা বিজেপি কাৰ্যকৰ্তাদের ওপর ধারালো অস্ত্র, রড, লাঠিসোঁটা ইত্যাদি নিয়ে হামলা চালিয়েছে। কেবল তা-ই নয়, আমাদের কার্যকর্তাদের লক্ষ করে কাঁচের বোতল এবং ইটপাটকেলও ছুঁড়েছে তারা।’
মণ্ডল সভাপতি জয়ন্ত দেববর্মার বক্তব্য, ‘হামলায় সাতজনের বেশি বিজেপি-কার্যকর্তা আহত হয়েছেন। তাঁদের মাথায়, মুখে ও বুকে আঘাত লেগেছে। আহতদের মধ্যে ছয়জনের আঘাত গুরুতর।’ তাঁর অভিযোগ, ‘এখানেই ক্ষান্ত না হয়ে তারা আমার গাড়ি সহ বেশ কয়েকটি যানবাহন এবং ১৫ টি বাইক ভাঙচুর করেছে।’
এদিকে বিজেপির অভিযোগকে অস্বীকার করেছেন তিপ্রা মথার প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মণ। ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, তাঁর দলের (তিপ্রা মথা) একজন কর্মীও হামলার সাথে জড়িত ছিলেন না। তাঁর দাবি, একদা সিপিআইএম-কর্মী অধুনা বিজেপির মণ্ডল সভাপতি জয়ন্ত দেববর্মার বিরুদ্ধে পুরনো এক বিবাদের জেরে সিপিআইএম এই হামলা সংগঠিত করেছে।
এদিকে সর্বশেষ সংবাদ অনুযায়ী গোটা আশারামবাড়ি সহ সন্নিহিত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এলাকাজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।

