স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ২৫ জুন : রাজ্যে যে সুশাসন জামানা চলছে তা ভুলে গেছে শাসক দল বিজেপি। বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মনের এক মন্তব্য ঘিরে বুধবার আগরতলা শহরের হাই সিকিউরিটি জোনে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করলেন শাসক দলের জনজাতি মোর্চার নেতৃত্ব ও কর্মী সমার্থক। এদিন বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মনের হোস্টেলে প্রবেশ করে চেয়ার, টেবিল ভাঙচুর চালায় শাসক দলের জনজাতি মোর্চার নেতা তথা প্রদেশ বিজেপি-র সাধারণ সম্পাদক বিপিন দেববর্মা নেতৃত্বে কর্মী সমর্থকরা। এমনটাই অভিযোগ উঠল। প্রদেশ বিজেপি-র সাধারণ সম্পাদক বিপিন দেববর্মা জানান, মঙ্গলবার আমবাসা টাউন হলে কংগ্রেসের আদিবাসী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সেখানে সি ডব্লিউ সি -র সদস্য তথা বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন বলেছেন, বিজেপি নেতারা আদিবাসীদের গায়ের উপর প্রস্রাব করে। উনার এই অসংবিধানিক মন্তব্যের প্রতিবাদে জনজাতি মোর্চা প্রতিবাদ জানাতে এসেছে। বিধায়কের এই ধরনের মন্তব্যের জন্য দেশের জনজাতিরা অপমানিত হয়েছে। এ ধরনের মন্তব্য যাতে বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন আগামী দিন না করেন তার জন্য উনাকে হুঁশিয়ার করতে আজকের এই প্রতিবাদ কর্মসূচি। একই সাথে দাবি জানানো হচ্ছে যাতে বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন যাতে জনজাতিদের কাছে ক্ষমা চান। নয়তো তিনি পদত্যাগ করেন। নাহলে এই প্রতিবাদ আগামী দিন গোটা রাজ্যের বিভিন্ন মন্ডলের ছড়িয়ে পড়বে বলে জানান। এদিকে বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, উল্টা চোর কোতোয়াল কো ডাঁটের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। উল্টা চোর কোতোয়াল কো ডাঁটে” এই হিন্দি প্রবচনটির বাংলা অর্থ হল, “দোষী ব্যক্তি উল্টো যিনি দোষ করেননি, তাকেই বকা দিচ্ছেন”। অর্থাৎ, নিজের দোষ ঢাকতে গিয়ে যিনি নির্দোষ তাকেই দোষারোপ করা বা ভর্ৎসনা করা।
এই প্রবচনটি সাধারণত ব্যবহার করা হয় যখন কেউ নিজের ভুল বা দোষ অন্যের উপর চাপানোর চেষ্টা করে। সুতরাং, সুদীপ রায় বর্মন বোঝাতে চেয়েছেন বিজেপি নিজের দোষ ঢাকতে চাইছে। তিনি বলেন জনজাতি মোর্চার পক্ষ থেকে এসে গেটের তালা ভেঙ্গেছে, তারপর চেয়ার টেবিল জানালা ভাঙচুর করেছে এবং ইট পাটকেল ছুড়েছে। কিন্তু তাদের উপর কোন রকম রাগ নেই। কারণ জনজাতিদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়েই আমবাসা টাউন হলে মন্তব্য করেছিলেন। বিজেপি এস সি, এস টি এবং ওবিসি মানসিকতার দিক দিয়ে বিরোধী এবং তাদের নিয়ে বিজেপি-র মাথায় বিষ ঢুকে আছে। তাদের ঘৃণা করে বিজেপি। এমন না হলে বিজেপি-র মধ্যপ্রদেশের এক দেবতুল্য কার্যকর্তা প্রকাশ্যে জনজাতিদের উপর কি প্রস্রাব করতে পারে? তারই উল্লেখ করা হয়েছিল আদিবাসী কংগ্রেসের সম্মেলনে। এটাতো বানানো কোন গল্প নয়। অন্যায় কি হয়েছে বলে জানতে চান সুদীপ রায় বর্মন? তিনি আরো বলেন, মঙ্গলবার উড়িষ্যায় এস সি সম্প্রদায়ের দুই যুবক গরু কেনার পর গোরক্ষা বাহিনীকে মোটা অংক না দেওয়ায় তাদের মাথা ন্যাড়া করে মুখে গাছ তুলে দিয়ে রাস্তায় হামাগুড়ি দেওয়া হয়েছে। এর দ্বারা প্রমাণ হয় বিজেপি বংশগতভাবে জনজাতিদের ঘৃণা করে। এবং উচ্চবর্ণের লোকের পূজারী বিজেপি। সুতরাং, আসল সত্যটা তুলে ধরে মানুষকে সজাগ করার চেষ্টা করেছেন তিনি। তিনি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে আরো বলেন, জনজাতি মোর্চার পক্ষ থেকে যখন হোস্টেলে প্রবেশ করে পাবলিক প্রপার্টি ভাঙচুর করা হয় তখন পুলিশ ঠোঁটো জগন্নাথ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। কোন ব্যবস্থা নেয়নি।
কিন্তু আজ যদি কোন মন্ত্রী বা শাসকদলের বিধায়কের হোস্টেলে এমন ঘটনা ঘটত তখন কি পুলিশ এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতো প্রশ্ন করেন তিনি? ত্রিপুরার পুলিশ এতটা দলদাসে পরিণত হয়েছে সেটা কল্পনা করা যায় না। বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন বলেন, উনার উপর নয় বার আক্রমণ হয়েছে। কিন্তু একজন গ্রেফতার হয়নি। এতেই প্রমাণ করে পুলিশ কতটা অসহায়।এদিকে প্রদেশ বিজেপি সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য বলেন, বয়স হয়ে গেলে যা মতিভ্রম হয় তাই হচ্ছে বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মনের। এর বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে আমবাসা টাউন হলে উনার মন্তব্যের মধ্যে দিয়ে। তাই বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মনের এখন বিশ্রাম নেওয়া উচিত। দীর্ঘদিন সুদীপ রায় বর্মন সব সময় সিপিআইএমকে পেছন থেকে সহযোগিতা করেছেন। আরো বলেন, সুদীপ বাবুরা সবসময়ই জনজাতিদের কিভাবে পিছিয়ে রাখা যায় এবং তাদের লুণ্ঠন করা যায় সেদিকে নজর ছিল। এটা তাদের নৈতিক অধঃপতন বলে জানান প্রদেশ বিজেপি সভাপতি। এদিকে জেলা পুলিশ সুপার কিরণ কুমার কে জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। খবর লেখা পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করে নি। জনজাতি মোর্চার আন্দোলনে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। খবর লেখা পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করে নি।

