স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৪ ফেব্রুয়ারি :মঙ্গলবার মাঝ রাত থেকে আগরতলা শহরে বুল ডজার চালিয়ে শহরকে ফুটপাত দখলমুক্ত করার দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চেয়েছে আগরতলা পুর নিগম কর্তৃপক্ষ। বুধবার দুপুর পর্যন্ত চলে এই অভিযান। মেয়র দীপক মজুমদার নিজে দাঁড়িয়ে থেকে অভিযান চালায় শহরের বিভিন্ন এলাকায়। অভিযানের পর নিগম এবং সরকারকে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়।
বিকল্প ব্যবস্থা না করে কেন বুলডোজার চালিয়েছে নিগম। প্রশ্ন উঠছে আগরতলা শহরের বিভিন্ন খালি জায়গা গুলি কি শুধুমাত্র সরকারের বিভিন্ন মেলার আয়োজন করার জন্য? যাইহোক রাজ্যের প্রাক্তন পরিবহন মন্ত্রী মানিক দে বলেন, কিছুদিন পরপরই উচ্ছেদ করা হচ্ছে। উচ্ছেদের সাত দিন পর আবার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ম্যানেজ করে ফুটপাত দখল করেন। এটা শিশুদের খেলাধুলার মত অবস্থা হয়ে উঠেছে। কিন্তু তারা কারোর মাথায় বারি দিয়ে, চুরি করে, তোল্লাবাজি করে বা ঠকিয়ে খায় না। তাদের জন্য কোন বিকল্প ব্যবস্থা না করে এভাবে অভিযান চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে প্রতিবাদ জানান প্রাক্তন পরিবহন মন্ত্রী মানিক দে।
এদিকে অল ত্রিপুরা নির্মাণ শ্রমিক সমিতি ও ত্রিপুরা ফুটপাত হকার সংগ্রাম সমিতির উদ্যোগে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা ফুটপাত হকার সংগ্রাম সমিতির সভাপতি বিপ্লব কর বলেন, গভীর রাতে ফুটপাত হকারদের দোকানপাট তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, কোনও রকম নোটিশ ছাড়াই হকারদের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র মাধ্যম দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়েছে। এর ফলে বহু হকার পরিবার চরম সমস্যার মুখে পড়েছে বলে দাবি করা হয়। অবিলম্বে প্রশাসনের কাছে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান ও হকারদের পুনর্বাসনের দাবি জানান।
কিন্তু নিগমের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে গত তিন দিন ধরে ফুটপাত দখলকারীদের বলা হয় রাস্তাঘাট আটকে যেন তারা যানজট সৃষ্টি না করে এবং পথচারীদের সমস্যার কারণ হয়ে না দাঁড়ায়। নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার পর অভিযান চালানো হয়েছে। প্রশ্ন হল, শ্রমিক দরদী সংগঠনগুলি শুধুমাত্র কেন সংবাদ মাধ্যমের সামনে প্রতিবাদ করছে? খবর লেখা পর্যন্ত রাস্তায় নামতে দেখা যায়নি কোন তথাকথিত শ্রমিক দরদী সংগঠনকে! কিন্তু বহু শ্রমিক শহরে রাস্তার পাশে ব্যবসা করেন শ্রমিক সংগঠনগুলিকে ম্যানেজ করেই। সুতরাং, একদিকে যেমন পথচারীদের জন্য ফুটপাত দখল মুক্ত হওয়া প্রয়োজন, অপরদিকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প ব্যবসা করার জায়গা বের করে দেওয়া দায়িত্ব নিগমের। নাহলে সমালোচনার মুখে পড়াটাই স্বাভাবিক।

