Monday, February 26, 2024
বাড়িরাজ্যকুপিয়ে হত্যার চেষ্টা, মারধর করল পুলিশ, ভিটে মাটি ছাড়া বহু পরিবার, আশ্রয়...

কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা, মারধর করল পুলিশ, ভিটে মাটি ছাড়া বহু পরিবার, আশ্রয় নিলো বিজেপি অফিসে

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ৩ মার্চ :  নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পর ঘর ছাড়া বহু শাসক দলের বহু পরিবার। জীবন বাঁচাতে আশ্রয় নিচ্ছে মন্ডল অফিসে। নাহলে আক্রমণের মুখে পড়ছে বিরোধী দলের দুর্বৃত্ত কিংবা পুলিশের। বিরোধী দলের দুর্বৃত্তদের সাথে পুলিশও এসে বিজেপি কর্মীদের বাড়িতে মারধর করছে। রেহাই পাচ্ছে না কূলের শিশু পর্যন্ত। কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বিজেপি কর্মীকে।

বৃহস্পতিবার রাত থেকে এই ধরনের ঘটনা রাজ্যের ইতিহাসে নতুন। সম্ভবত বিরোধী দলের কর্মীরাই এতদিন মার খেতো বলে অভিযোগ তুলতে দেখা গেছে। কিন্তু আজব কান্ড! বৃহস্পতিবার ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পর থেকে নজিরবিহীন ঘটনা দেখা যাচ্ছে বিশালগড় নবীনগর চকবাজার এবং আড়ালিয়া এলাকায়। অভিযোগ দানবীয় সন্ত্রাসী প্রশ্রয় দিচ্ছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে বিশালগড় বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি কর্মী কার্তিক দেবনাথকে বাড়িতে যাওয়ার সময় কুপিয়ে হত্যা করার চেষ্টা করে সিপিআইএমের দুর্বৃত্তরা। গুরুত্ব আহত অবস্থায় প্রান রক্ষা করতে কোনক্রমে বাড়িতে প্রবেশ করে। কিন্তু বাড়িতে প্রবেশ করেও দুর্বৃত্তরা তাকে মারধর করে। প্রতিবাদ করলে বাড়ির লোকজনদের বেধড়ক মারধর করে সিপিআইএম আশ্রিত দুর্বৃত্তরা। খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। ঘটনার খবর পেয়ে ছুটে আসে বিশালগড় থানার পুলিশ। অভিযোগ পুলিশ এসে বাড়ির লোকজনদের ঘরে প্রবেশ করে মহিলা এবং কূলের শিশুকে লাঠি দিয়ে মারধর করে। পরবর্তী সময় খবর পেয়ে আহতদের রক্ষা করতে ছুটে আসে দমকল কর্মীরা। দমকল কর্মীরা আহত কার্তিক দেবনাথকে উদ্ধার করে বিশালগড় হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে ছুটে আসে বিজেপি কর্মী সমর্থকরা।

কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে রেফার করে জিবি হাসপাতালে। আরো অভিযোগ কার্তিকের পরিবারের একজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। এদিকে আড়ালিয়া এলাকার বহু মানুষ জীবন বাঁচাতে ঠাঁই নিচ্ছে বিজেপি অফিসে। বিজেপি অফিসে গিয়ে তারা কান্নায় ভেঙে পড়ছে। তাদের বক্তব্য শুক্রবার সকাল থেকে সিপিআইএম এবং কংগ্রেসের দুর্বৃত্তরা যৌথভাবে এলাকার নয়টি বাড়ি ভাঙচুর করেছে। মারধর করছে মানুষকে। রেহাই পায়নি বিজেপি’র পুলিং এজেন্ট রাজু সাহা। স্ত্রীকে নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। তাদের অভিযোগ সিপিআইএমের ক্যাডার জাকির মিঞার নেতৃত্বে মানুষ ভিটে মাটি ছাড়া হচ্ছে তারা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের দিয়ে উদ্ধার করে দলীয় কার্যালয় পর্যন্ত পৌঁছে দিচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে প্রশাসন নিরাপত্তার ব্যবস্থা না করে কেন এলাকাবাসীকে উদ্ধারের কাজে লেগেছে। আবার মার খাচ্ছে পুলিশের কাছে অভিযোগকারীরা। পরিস্থিতি কোন দিকে এগিয়ে চালছে, তা রীতিমতো ভাবিয়ে তুলেছে আপামর জনগণকে। এ ধরনের ঘটনা আঙ্গুল তুলে আরো একবার দেখিয়ে দিয়েছে ফলাফল ঘোষণার আগে পুলিশ প্রশাসনের সর্বদলীয় বৈঠক এবং নির্বাচন কমিশনের শান্তির বৈঠক বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য