Monday, February 6, 2023
বাড়িরাজ্যনিয়োগের দাবিতে মন্ত্রীর বাড়ি ঘেরাও এস টি জি টি -র

নিয়োগের দাবিতে মন্ত্রীর বাড়ি ঘেরাও এস টি জি টি -র

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ৭ জানুয়ারি : এস টি জি টি পরীক্ষার্থীরা সকলকে নিয়োগের দাবি সম্পূর্ণ আইন বহির্ভূত। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন টি আর বি টি -র চেয়ারম্যান ড. অরুপ কুমার দত্ত। শনিবার শিক্ষামন্ত্রী বাসভবনের সামনে গিয়ে দ্রুত লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা ও একসাথে নিয়োগের দাবি জানায় এস টি জি টি পরীক্ষার্থীরা। শিক্ষামন্ত্রীর বাসভবনের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ দেখায় তারা।

মন্ত্রীর গাড়ি আটকে দিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে তারা। শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন তাদের ফলাফল প্রকাশিত হয়নি। তাই তাদের নিয়োগ করা সম্ভব নয়। আন্দোলন করেও কিছু হবে না। মন্ত্রীর কাছ থেকে এই বক্তব্য শোনার পর এস টি জি টি-র পরীক্ষার্থীরা টি আর বি টি কার্যালয়ে যায়। সেখানে গিয়ে ফল প্রকাশ করা সহ সকলকে একসাথে নিয়োগ করার জন্য দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে এস টি জি টি-র পরীক্ষার্থীরা। এদিকে টি আর বি টি-র পরীক্ষার্থীদের জানিয়ে দেওয়া হয় কোন চিঠি না এলে ফল প্রকাশ সম্ভব নয়। সমস্ত কিছু প্রস্তুত করা আছে বলেও দাবি করেন। শিক্ষা দপ্তর থেকে নির্দেশ না পেলে ফলাফল প্রকাশ সম্ভব নয় বলে জানায় টি আর বি টি-র চেয়ারম্যান। কিন্তু এমনটা বক্তব্য পেয়েও তারা রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখায়। দাবি থেকে এক ইঞ্চিও সরে আসেনি।

এসটিজিটি বেকার যুবকরা এদিন দাবি করেন, ত্রিপুরা হাইকোর্ট থেকে নাকি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নতুন করে নোটিফিকেশন জারি করার জন্য, তবে চাকরি প্রক্রিয়া বৈধ থাকবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের এত বড় বড় আমলাদের মাথায় কিছু নেই। হাইকোর্ট থেকে নির্দেশ দেওয়ার পরেও তারা নতুন করে কোন নোটিফিকেশন না বের করছে না। কিন্তু রাজ্যে শিক্ষকরা হাজার হাজার টি পি এস ই অফিসার বানিয়ে দিতে পারে, আরেকজন টি পি এস ই অফিসার একজন শিক্ষক তৈরি করতে পারছে না। শিক্ষামন্ত্রী বক্তব্য নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এদিন। আরো বলেন তাদের দাবি যদি অযৌক্তিক হয়ে থাকে তাহলে কেন শিক্ষামন্ত্রী বলছেন না তাদের দাবি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। এভাবে কেন বারবার ঘোরাচ্ছে।

তবে তাদের এ ধরনের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে টিচার রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান জানান, রাজ্য সরকার ২৩০ জন নিয়োগের জন্য পরীক্ষা গ্রহণ করতে নির্দেশ দিয়েছিল। সে মোতাবেক ২৩০ জন নিয়োগ করতে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের আবেদন অনুযায়ী ত্রিপুরা হাইকোর্টের নির্দেশ দিয়েছে ৫০ শতাংশের অধিক সংরক্ষণ রাখা যাবে না। পূর্বের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ইউ আর ২৯ জন, এসি ২৯ জন এবং এস টি ১৭২ জন ছিল। সেটা মানা যাবে না। কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী রাজ্য সরকার যদি সংরক্ষণটি ভাগাভাগি করে দেয় দপ্তর থেকে নির্দেশ দেয় তাহলে দ্রুত ফলাফল প্রকাশ করে নিয়োগের জন্য কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু এস টি জি টি -এর দাবি অনুযায়ী টি আর বি টি ২৩০ জনের অধিক নিয়োগের জন্য কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে পারবে না। রাজ্য সরকার যদি বাড়তি নিয়োগের জন্য অনুমোদন দেয় তাহলে সেই অনুযায়ী নতুন করে বিজ্ঞপ্তি জারি করতে হবে এবং নতুন করে পরীক্ষা নিতে হবে। তাহলে পুরনো চাকরি পরীক্ষা বাতিল হয়ে যাবে। দপ্তরের পলিসিগত কোন সিদ্ধান্ত টি আর বি টি নিতে পারবে না বলে জানান তিনি। টি আর বি টি শুধু মাত্র পরীক্ষা গ্রহণ করে মেধা অনুযায়ী নামের তালিকায় প্রকাশ করতে পারবে। সুতরাং বাকি সমস্ত বিষয় রাজ্য সরকার এবং শিক্ষা দপ্তরের উপর নির্ভর করে বলে জানান তিনি।

ফলাফল প্রকাশের জন্য যাতে শিক্ষা দপ্তর দ্রুত উদ্যোগ নেয় তার দাবিতে অনড় থাকেন পরীক্ষার্থীরা। দীর্ঘ সময় ধরে তাদের আন্দোলন চলে। সামনেই নির্বাচন। আর নির্বাচনের আগে তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত না নিলে নিয়োগ সম্ভব হবে না। এই অবস্থায় শিক্ষা অধিকর্তার কাছে থেকে কোন সদুত্তর না পেলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয় এস টি জি টি পরীক্ষার্থীরা।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য