স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১২ মে : কাঁকড়াবন শালগড়ার আলোর দিশারী চিলড্রেন হোম থেকে পালিয়ে পায়ে হেঁটে বিশ্রামগঞ্জ এসে মানুষের কাছে সহযোগিতা চাইলো তিন শিশু কন্যা। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, উদয়পুর কাঁকড়াবন থানার অন্তর্গত শালগড়া আলোর দিশারী চিলড্রেন হোম থেকে সোমবার রাত দশটায় পালিয়ে যায় তিনটি নাবালিকা। তারা মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্রামগঞ্জ চেছড়িমাই এলাকায় একটি বাড়িতে প্রবেশ করে জল চায়। তখন তাদের দেখে সেই বাড়ির লোকজনদের এবং এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়।
খবর দেওয়া হয় বিশ্রামগঞ্জ থানার পুলিশকে এবং চিলড্রেন হোম কর্তৃপক্ষকে। সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরার সামনে শিশুগুলির অভিযোগ এই চিলড্রেন হোমে তাদের উপর শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন করা হয়। পাশাপাশি তাদের সঠিকভাবে খাবার দেওয়া হয় না। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন শিশু হোমের ইনচার্জ। তার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি মিথ্যা বলে দাবি করলেন। কিন্তু এলাকাবাসী এই ইনচার্জের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যদি সঠিকভাবে শিশুগুলি যত্ন নেওয়া হতো তাহলে তাদের অবস্থা এমন হতো না। শিশু গুলির উপর নির্যাতন করা হয় বলে দাবি এলাকাবাসীর। চিলড্রেন হোম কর্তৃপক্ষের উপর ক্ষেপে যায় এলাকাবাসী। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে দাবি তোলা হয়েছে যেন শিশু সুরক্ষা কমিশন বিষয়টি নিয়ে সরজমিনে গিয়ে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে। কারণ তিন শিশু কন্যার কথা অনুযায়ী বোঝা গেছে এই শিশু রুমে নিরাপত্তা নেই শিশুদের।
এবং কাজের উপর নির্যাতন চলছে। যার কারণে শিশুরা দাবি করেছে তাদের আর ভালো লাগেনা এই শিশুহোমে থাকতে। এদিকে এলাকাবাসী আরো প্রশ্ন তুলেছে শিশু হোমে যদি নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকত তাহলে তিনি শিশু কন্যা এভাবে বের হয়ে আসতে পারত না। তিন শিশুর বাড়ি মাতারবাড়ি এবং জুলাই বাড়ি এলাকায়। সবচেয়ে বড় আশ্চর্যজনক বিষয় হলো কাকড়াবন থেকে শিশুগুলি বিশ্রামগঞ্জ আসার পথে যদি কোনরকম দুর্ঘটনা শিকার হত তাহলে এর দায়ভার কে নিতে হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত ইনচার্জ দাবি করেছেন জি ডি এন্টি করেছিলেন কাকড়াবন থানায়। যাইহোক চরম অবহেলা শিশু হুম কর্তৃপক্ষের। রাজ্য সরকারের এবং শিশু সুরক্ষা কমিশনের চরম উদাসীনতার কারণে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা শিশু হোম গুলি শিশুদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। পুলিশ প্রশাসন কোনোরকম তদন্ত না করেই পুনরায় তিন শিশুকে তুলে দিল শিশু হোম কর্তৃপক্ষের হাতে। তিন শিশুর পরিবারের লোকজনকে ডেকে এবং শিশু হোম কর্তৃপক্ষের দ্বারা তদন্ত করে তিন শিশুর জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন ছিল।

