স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১২ মে : নীট পরীক্ষা বাতিল এবং বিশালগড়ে দুই বাম কর্মীর উপর আক্রমণের ঘটনার প্রতিবাদে আগরতলা শহরের রাজপথে নামলো বাম ছাত্র সংগঠন। পরে পুলিশের সদর কার্যালয় ঘেরাও করে সড়ক অবরোধ করলো তারা। অভিযোগ নীটের প্রশ্ন পত্র ফাঁসের। পরীক্ষার আগেই ফাঁস হয়ে গেল প্রশ্নপত্র। বাতিল করা হল ৩ মে-র নিট-ইউ.জি পরীক্ষা। জানা যায় পরীক্ষার আগের দিন রাজস্থানে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে গিয়েছিল। ৩ মে দেশ-বিদেশের ২২.৭৯ লক্ষ পরীক্ষার্থী নিট পরীক্ষায় বসেছিল।
জানা যায় ফাঁস হয়ে যাওয়া প্রশ্ন পত্রের সাথে মূল প্রশ্নপত্রের অনেক মিল রয়েছে। পুলিশের দাবি নমুনা প্রশ্নপত্র লক্ষ লক্ষ টাকায় বিক্রয় হয়ে থাকতে পাড়ে। ইতিমধ্যে রাজস্থান পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্তে নেমেছে। এইদিকে এনটিএ জানিয়েছে পরীক্ষার চার দিন পর অর্থাৎ ৭ মে রাতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর তাদের কাছে পৌছায়। পরের দিন সকালেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারি সংস্থাকে বিষয়টি জানানো হয়। এনটিএ পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থাকে সকল ধরনের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছে। এই ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যে পুলিশ রাজস্থান ও উত্তরাখন্ডের বিভিন্ন শহরে তল্লাশি চালাচ্ছে বলে জানা যায়। এরই মধ্যে দিয়ে মঙ্গলবার আগরতলা শহরের বিক্ষোভ মিছিল সংঘটিত করে ভারতের ছাত্র ফেডারেশন ত্রিপুরা রাজ্য কমিটি। ছাত্র যুব ভবন থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে পুলিশের সদর কার্যালয়ে দিকে যাওয়ার পর ফায়ার ব্রিগেড চৌমহনি এলাকায় পশ্চিম আগরতলা থানার পুলিশ বাধা দেয়। তখন পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পুলিশের সদর কার্যালয় ঘেরাও করে তারা। এসএফআই-র ত্রিপুরা রাজ্য সম্পাদক সৃজন দেব বলেন, এনটিএ ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে।
তার বিরুদ্ধে আগামী দিনে ছাত্র সমাজকে একত্রিত হয়ে আন্দোলনে নামতে হবে। অপরদিকে পুলিশের সদর কার্যালয়ে ঘেরাও করে এসএফআই সদর জেলা কমিটির সম্পাদক সংবাদ মাধ্যমকে জানান বিশালগড়ে এসএফআই-র মহকুমার কমিটির সম্পাদক হিমাদ্রি সরকার ঘোষ আক্রান্ত হয়েছে সোমবার রাতে। তার সঙ্গে কৃষক আন্দোলনের অন্যতম বাম নেতৃত্ব আক্রান্ত হয়েছেন। এগুলো নিয়ে পুলিশের আধিকারিকের কাছে সময় চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সময় না দেওয়ায় পুলিশের সদর কার্যালয়ের সামনে এসে ঘেরাও করার পাশাপাশি রাস্তা অবরোধ করতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান। তিনি আরো জানিয়েছেন প্রকৃত দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। বর্তমান সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে রাজ্যে গুন্ডা রাজত্ব চলছে। পুলিশ এই সরকারের পক্ষপাতিত্ব করে চলেছে। তাই রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান। পরে পুলিশের আশ্বাসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

