স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১২ মে : সুষ্ঠু বদলির নিতি আনতে ব্যর্থ সরকার! গত আট বছরে বর্তমান সরকার রাজ্যের শিক্ষক কর্মচারী থেকে শুরু করে রাজ্যবাসীকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে সুষ্ঠু বদলির নীতি আনা হবে। কিন্তু বছর পর বছর কেটে গেলেও স্বজনপোষণের বদলির নীতি বদলাতে পারেনি ডবল ইঞ্জিন সরকার। যার ফলে বহু বিদ্যালয় শিক্ষক সংকট চরম আকার ধারণ করছে। মঙ্গলবার শিক্ষকের দাবিতে ছাত্র-ছাত্রীরা বিদ্যালয়ের ফটকে তালা ঝুলিয়ে ধার্নায় শামিল হয়। জানা গেছে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার ডুকলি বিদ্যালয় পরিদর্শকের অধীন কাঞ্চনমালা উচ্চ বুনিয়াদি বিদ্যালয়ে কয়েক বছর ধরেই শিক্ষক স্বল্পতার সমস্যা চলছে।
এই সমস্যা চলাকালীন সময়ে আবারো বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের দায়সারা মনোভাব প্রকাশে আসলো। বিকল্প শিক্ষক না দিয়েই দুই শিক্ষককে আচমকা বদলিতে বিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়েছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক স্বল্পতার সমস্যা সঠিকভাবে সমাধান না করেই দুই শিক্ষককে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে গত কয়েকদিন আগে এই কাঞ্চনমালা এসবি স্কুলের শিক্ষিকা রুপালি দত্তকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। গত বেশ কয়েক মাস আগে এই বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে আসা শিক্ষক সুমন সাহাকেও সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সরকারি নির্দেশিকা অনুসারে সুমন সাহার কাঞ্চন মালা এসবি স্কুলে মঙ্গলবার ছিল শেষ দিন অর্থাৎ বুধবার থেকে তিনিও আর এই স্কুলে শিক্ষকতা করতে আসবেন না। মঙ্গলবার বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা এই খবর জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে।
মঙ্গলবার স্কুল ছুটির পর বিকাল পাঁচটায় বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা শিক্ষক সুমন সাহাকে বিদ্যালয়ের ভেতর রেখেই গেটে তালা ঝুলিয়ে ধর্নায় বসে শিক্ষকের দাবিতে। তবে মঙ্গলবার বিকেলে বিদ্যালয়ের একাংশ ছাত্র ছাত্রীদের অভিভাবকরা ডুকলি বিদ্যালয় পরিদর্শক পঞ্চমোহন জমাতিয়াকে একাধিকবার ফোন করার পরেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। বিদ্যালয়ের ক্ষুব্ধ ছাত্রছাত্রীরা সংবাদ মাধ্যমকে অভিযোগ জানিয়েছে দীর্ঘদিন ধরেই তাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষক-স্বল্পতার সমস্যা চলছিল। কিন্তু বিদ্যালয়ের শিক্ষা দপ্তর তাদের এই সমস্যার সমাধান না করেই আবার শিক্ষক বদলি করেছেন। ছাত্র-ছাত্রীরা আরও জানিয়েছে এভাবে তাদের বিদ্যালয় থেকে শিক্ষক শিক্ষিকাদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ফলে তাদের পড়াশোনায় চরম ব্যাঘাত ঘটছে, তবে সেদিকে কোন নজর নেই বিদ্যালয়ের শিক্ষা দপ্তরের। তারা আরো জানায় শিক্ষক স্বল্পতার এই সমস্যার ফলে তারা কেউ এই স্কুলের পড়াশুনা করতে ইচ্ছুক নয়, তাই তারা আগামী দিনের যদি এই বিদ্যালয়ের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে শিক্ষক-শিক্ষিকা না পাঠায় তাহলে তারা এই স্কুল থেকে সার্টিফিকেট নিয়ে অন্য স্কুলে চলে যাবে। এখন দেখার বিষয় রাজ্য বিদ্যালয়ের শিক্ষা দপ্তর কি ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

