স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১১ মে : সামাজিক বিচারের নামে অর্থ আত্মসাৎ-এর অভিযোগ সোনামুড়া নগর পঞ্চায়েতের চেয়ারপার্সন ও ভাইস চেয়ারপার্সনের বিরুদ্ধে। ন্যায় বিচারের দাবিতে সোনামুড়া নগর পঞ্চায়েতের মূল ফটকের সামনে ধর্না গৌতম বক্সি চৌধুরী নামে এক ব্যক্তির। ঘটনার বিবরণে জানা যায় গৌতম বক্সি চৌধুরী সাড়ে তিল লক্ষ থেকে চার লক্ষ টাকা পাওয়া ছিলেন একই এলাকার বাসিন্দা রেজ্জাক মিয়ার নিকট। রেজ্জাক মিয়াঁ সেই টাকা দিচ্ছিলেন না। গৌতম বক্সি চৌধুরী জানান তিনি পাওনা টাকা ফিরে পেতে সোনামুড়া নগর পঞ্চায়েতের চেয়ারপার্সন ও ভাইস চেয়ারপার্সনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। এই বিষয়ে তিনি থানারও দ্বারস্থ হয়েছিলেন।
সেই সময় নগর পঞ্চায়েতের চেয়ারপার্সন ও ভাইস চেয়ারপার্সন আলোচনাক্রমে রেজ্জাক মিয়াঁকে বলা হয় ওনার টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। তারপর ওনাকে ২ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়। এখনো ৯৫ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে। ৭ বছর হয়ে গেছে সেই টাকা ওনাকে দেওয়া হচ্ছে না। ওনার বক্তব্য নগর পঞ্চায়েত যেহেতু ওনার টাকা আদায় করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সুতরাং নগর পঞ্চায়েতকে তার টাকা দিতে হবে। অপরদিকে রেজ্জাক মিয়ার বক্তব্য গৌতম বক্সি চৌধুরী ওনাকে ২ লক্ষ টাকা রাখার জন্য দিয়েছিল অনেক বছর পূর্বে। সেই সময় তিনি বারে বারে গৌতম বক্সি চৌধুরীকে সেই টাকা নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেছেন। কিন্তু গৌতম বক্সি সেই সময় বলেছিলেন এই টাকা তিনি বিনা শর্তে ওনাকে দান করে দিয়েছেন। তারপর সেই টাকা খরচ করে তিনি ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়ে দেন। আচমকা ৫ থেকে ৬ মাস পূর্বে গৌতম বক্সি চৌধুরী ওনার কাছে কিছু টাকা হাওলাত হিসাবে চায়। তখন তিনি গৌতম বক্সি চৌধুরীকে ১ লক্ষ টাকা দেন। পরবর্তী সময় আরও ৫ হাজার টাকা দেন গৌতম বক্সি চৌধুরীকে। দুই মাস পূর্বে গৌতম বক্সি বাকি টাকা দাবি করে।
তখন তিনি জানান বাকি টাকা তিনি এক সাথে দিতে পারবেন না। ধাপে ধাপে তিনি সেই টাকা প্রদান করবেন। তারপর গৌতম বক্সি চৌধুরী থানা ও নগর পঞ্চায়েতে অভিযোগ জানায় যে তিনি ওনার কাছে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা প্রাপ্য। বাস্তবে তিনি প্রাপ্য ছিলেন ৯৫ হাজার টাকা। তারপরও নগর পঞ্চায়েতের কথা মেনে তিনি দুই লক্ষ টাকার ৫ বছরের সুদ সহ হিসাব করে আরও দেড় লক্ষ টাকা প্রদান করেন গৌতম বক্সি চৌধুরীকে। তিনি মোট ২ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা প্রদান করেছেন গৌতম বক্সি চৌধুরীকে।এইদিকে সোনামুড়া নগর পঞ্চায়েতের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানের বক্তব্য গৌতম বক্সি চৌধুরী সোনামুড়া নগর পঞ্চায়েতে অভিযোগ জানানোর পর রেজ্জাক মিয়াঁ ও গৌতম বক্সি চৌধুরীকে নিয়ে আলোচনায় বসা হয়। সেখানে গৌতম বক্সি চৌধুরী দাবি করে সে রেজ্জাক মিয়ার কাছে ২ লক্ষ টাকা প্রাপ্য। অপরদিকে রেজ্জাক মিয়াঁ দাবি করে গৌতম বক্সি চৌধুরী তার কাছে ৯৫ হাজার টাকা পাবে। কিন্তু তাদের মধ্যে লেনদেনের কোন প্রমান ছিল না। তখন আলোচনাক্রমে সিদ্ধান্ত হয় রেজ্জাক মিয়াঁ গৌতম বক্সি চৌধুরীকে দেড় লক্ষ টাকা দিয়ে দেবে।
যথারীতি রেজ্জাক মিয়াঁ এক সাপ্তাহের মধ্যে গৌতম বক্সি চৌধুরীকে দেড় লক্ষ টাকা বুঝিয়ে দেয়। এবং ঝামেলার সমাপ্তি হয়। এই লেনদেনের প্রমান হিসাবে একটি কাগজ লেখা হয় যেখানে গৌতম বক্সি চৌধুরী ও রেজ্জাক মিয়াঁ উভয়ের সাক্ষর রয়েছে। এই কাগজে উল্লেখ ছিল গৌতম বক্সি চৌধুরী দেড় লক্ষ টাকা বুঝে পাওয়ার পর রেজ্জাক মিয়ার কাছে আর কোন টাকা সে পাবে না। গোটা ঝামেলা মিমাংসার পর রেজ্জাক মিয়াঁ ও গৌতম চৌধুরী নগর পঞ্চায়েতে দাড়িয়ে আলিঙ্গন দেন। কিন্তু তারপরও আচমকা গৌতম বক্সি চৌধুরী সোমবার নগর পঞ্চায়েতের মূল ফটকের সামনে ধর্নায় বসে পড়েন। সোনামুড়া নগর পঞ্চায়েতের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও রেজ্জাক মিয়ার বক্তব্য থেকে একটা বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাহলে কি গৌতম বক্সি চৌধুরী মিথ্যা কথা বলে যাচ্ছে। নাকি রেজ্জাক মিয়াঁ মিথ্যা বলছে। কারন গৌতম বক্সি চৌধুরী রেজ্জাক মিয়াঁকে ঠিক কত টাকা দিয়েছেন, তা সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। কারন এই আর্থিক লেনদেনের কোন প্রমান নেই। এইদিন গৌতম বক্সি চৌধুরী সোনামুড়া নগর পঞ্চায়েতের মূল ফটকের সামনে ধর্নায় বসলে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এখন দেখার পুলিশ কি ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

