স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৭ ফেব্রুয়ারি : শুক্রবার সকাল থেকে উত্তর জেলার কদমতলা-কুর্তি বিধানসভা কেন্দ্রের ত্রিপুরা–আসাম সীমান্তবর্তী বাঘন পঞ্চায়েত সংলগ্ন এলাকায় বিকল্প জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে সামিল হয় স্থানীয়রা। তাদের কাছ থেকে জানা গেছে, কদমতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরেই চরম পানীয় জল সংকটে ভুগছেন। শুক্রবার সকাল প্রায় আটটা নাগাদ কলসি ও বালতি হাতে নিয়ে তাঁরা বিকল্প জাতীয় সড়কের উপর বসে পড়েন, ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণরূপে স্তব্ধ হয়ে যায়।
অবরোধকারীদের অভিযোগ, স্বাধীনতার প্রায় ৭৯ বছর পেরিয়ে গেলেও ওই ওয়ার্ডের প্রায় ১০ থেকে ১২ টি পরিবার এখনও পর্যন্ত কোনও পরিশ্রুত পানীয় জলের স্থায়ী সুবিধা পায়নি। কাঁচা কুয়ো ও পুকুরের জলই তাঁদের একমাত্র ভরসা। বর্তমানে শুকনো মরশুমে জলস্তর নেমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বিষয়টি একাধিকবার কদমতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সহ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জানানো হলেও আজ পর্যন্ত সমস্যার কোনও স্থায়ী ও কার্যকর সমাধান মেলেনি। বারবার আশ্বাস মিললেও বাস্তবে তার প্রতিফলন না ঘটায় বাধ্য হয়েই তাঁরা পথ অবরোধের মতো কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান বিক্ষোভকারীরা।
অবরোধের জেরে ব্যস্ততম সড়কের দু’পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। স্কুল পড়ুয়া, অফিসগামী কর্মজীবী মানুষ থেকে শুরু করে সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন। কয়েক ঘণ্টা ধরে কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। ঘটনার খবর পেয়ে কদমতলা থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। অবরোধকারীদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনায় বসে তিনি দ্রুত পানীয় জল সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। প্রশাসনের আশ্বাসের ভিত্তিতেই কয়েক ঘণ্টা পর অবরোধ প্রত্যাহার করেন বিক্ষোভকারীরা এবং ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় যান চলাচল। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের হুঁশিয়ারি, প্রশাসনের দেওয়া আশ্বাস দ্রুত বাস্তবায়িত না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে তাঁরা বাধ্য হবেন। পানীয় জলের মতো মৌলিক পরিষেবা নিয়ে দীর্ঘদিনের অবহেলা প্রশাসনের জন্য এক বড় সতর্কবার্তা বলেই মনে করছেন সচেতন মহল। পাশাপাশি জল জীবন মিশন প্রকল্পের কোটি কোটি টাকার উন্নয়নের স্লোগান কার্যত ফ্লপ বলেই মনে করছেন সচেতন মহল।

