স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৭ ফেব্রুয়ারি : শুক্রবার আগরতলা প্রজ্ঞা ভবনে জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা সম্পর্কে এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এ দিনের কর্মশালার উদ্বোধন করেন রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু। কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা। সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য, সাংসদ কৃতী সিং দেববর্মন, ত্রিপুরা বিধানসভার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রামপ্রসাদ পাল, মুখ্য সচেতক কল্যাণী রায়, কৃষিমন্ত্রী রতনলাল নাথ, অর্থমন্ত্রীর প্রণজিৎ সিংহ রায়, আগরতলা পুর নিগমের মেয়র দীপক মজুমদার সহ রাজ্যের বিধানসভা সহ ব্লক ও পঞ্চায়েত স্তরের অন্যান্য জনপ্রতিনিধি। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জনপ্রতিনিধিদের প্রকৃত শক্তি পদমর্যাদায় নয়। মানুষ সব দেখছে, কেউ যদি মনে করে সে শক্তির জোরে, অর্থ বলে এবং কলাকৌশলের মাধ্যমে মানুষের মন জয় করবে তাহলে উনি মূর্খের স্বর্গে বাস করছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে আরো হলেন সারা বছর পড়াশোনা না করে শুধু ফলাফল ভালো চাইলে ভুল হবে। সারা বছর কাজ করতে হবে তাহলেই মানুষের মধ্যে যখন গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে তখনই ফলাফল ভালো হয়। বিশেষ করে মানুষের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হলে জনপ্রতিনিধিদের মানুষের কাছে যেতে হবে। না হলে ভোট আসলে মানুষ জিজ্ঞাসা করবে আপনারা এতদিন কোথায় ছিলেন? আরো বলেন, যারা অনৈতিকতার দিকে রয়েছে তারা নৈতিকতার দিকে আসতে চায় না, আর যারা নৈতিকতার দিকে রয়েছে তারা অনৈতিকতার দিকে ঝুকতে চায় না। দুর্নীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ক্যান্সারের মত রোগ থেকেও বড় জিনিস হয়ে দাঁড়িয়েছে দুর্নীতি। “না মে খাওঙ্গা, না মে খানে দুঙ্গা”-প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সুপরিচিত এই উক্তি জনপ্রতিনিধিদের মনে করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, স্বচ্ছতার মাধ্যমে কাজ করলেই মানুষের কাছে যাওয়া যাবে। সাবকা সাথ সবকা বিকাশ মূল মন্ত্র হতে হবে। ২০৪৭ সালের রূপরেখা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। কিন্তু ২০৪৭ সালে ভারত গড়তে গেলে আগে সব রাজ্যকে বিকশিত রাজ্য হতে হবে। আজ সেটা শুধুমাত্র ডায়লগে নয়, কাজের মাধ্যমে করে দেখাতে হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন রাজ্যের প্রধান বিরোধীদল সিপিআইএম-ও। কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি শক্তিশালী করতে এবং সকল শ্রেণীর মানুষের প্রতি জনপ্রতিনিধিদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।

