Tuesday, February 7, 2023
বাড়িবিশ্ব সংবাদকেনেডি হত্যার হাজারো অসম্পাদিত নথি প্রকাশ

কেনেডি হত্যার হাজারো অসম্পাদিত নথি প্রকাশ

স্যন্দন ডিজিটেল ডেস্ক, ১৬ ডিসেম্বর: হোয়াইট হাউস প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি হত্যার হাজারো নথি পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে। প্রায় ১৩ হাজার ১৭৩টি নথি অনলাইনে প্রকাশ করা হয়েছে। হোয়াইট হাউস বলছে, সংগ্রহে থাকা নথিপত্রের ৯৭ শতাংশই এখন চাইলেই যে কেউ দেখতে পারবেন। খবর বিবিসিরএসব কাগজপত্র থেকে বড় ধরনের কোনো কিছু উদ্‌ঘাটিত হবে বলে আশা করা হয় না। তবে ইতিহাসবিদেরা কথিত গুপ্তঘাতক সম্পর্কে আরও জানতে আগ্রহী।১৯৬৩ সালের ২২ নভেম্বর টেক্সাসের ডালাস সফরের সময় কেনেডিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ১৯৯২ সালের এক আইন অনুযায়ী, ২০১৭ অক্টোবরের মধ্যে এই গুপ্তহত্যার সব নথি প্রকাশের বাধ্যবাধকতা ছিল।সবশেষ এই নথি প্রকাশের অনুমোদন দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তবে তিনি বলেন, কিছু নথি ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত অপ্রকাশিতই থাকবে।ইউএস ন্যাশনাল আর্কাইভস বলেছে, ৫১৫টি নথি পুরোপুরি অপ্রকাশিত থাকবে। আরও ২ হাজার ৫৪৫টি নথি আংশিক অপ্রকাশিত থাকবে।১৯৬৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ারেন কমিশনের তদন্তে বলা হয়, কেনেডিকে হত্যা করেছিলেন লি হার্ভে অসওয়াল্ড। তিনি একজন মার্কিন নাগরিক। তিনি আগে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে থাকতেন। অসওয়াল্ড একাই হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছেন।

গ্রেপ্তারের দুই দিন পর ডালাস পুলিশ সদর দপ্তরের বেসমেন্টে খুন হন অসওয়াল্ড।
কেনেডি হত্যাকাণ্ড কয়েক দশকের ষড়যন্ত্র তত্ত্বের জন্ম দেয়। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) বলেছে, অসওয়াল্ডের সঙ্গে তাদের ‘কখনো যোগাযোগ ছিল না’। মার্কিন তদন্তকারীদের কাছ তাঁর সম্পর্কে তথ্যও সংস্থাটি গোপন করেনি।কেনেডি হত্যার ঘটনা নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করে আসা শিক্ষাবিদ ও তাত্ত্বিকেরা আশা করেছিলেন, সবশেষ নথি প্রকাশের ফলে মেক্সিকো সিটিতে অসওয়াল্ডের কার্যকলাপ সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যাবে। সেখানে তিনি ১৯৬৩ সালের অক্টোবরে একজন সোভিয়েত কেজিবি (গোয়েন্দা সংস্থা) অফিসারের সঙ্গে দেখা করেছিলেন।তবে সবশেষ বিবৃতিতে সিআইএ বলেছে, তাদের কাছে থাকা অসওয়াল্ডের মেক্সিকো সিটি ভ্রমণ সম্পর্কিত সব তথ্য আগেই প্রকাশ করা হয়েছিল। ওই বিষয়ে ২০২২ সালে প্রকাশিত নথিতে নতুন কোনো তথ্য নেই।অলাভজনক প্রতিষ্ঠান মেরি ফেরেল ফাউন্ডেশনের গবেষকেরা এ–সংক্রান্ত নথি প্রকাশের জন্য সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তাঁরা বলেন, অসওয়াল্ডের মেক্সিকো থাকাকালীন সময়ের তথ্য প্রকাশ করছে না সিআইএ।

সংস্থাটি বলেছে, সিআইএ’র কিছু নথি কখনোই আর্কাইভে জমা দেওয়া হয়নি। তাই প্রকাশিত নথির এই ব্যাচে সেগুলো ছিল না।নতুন প্রকাশিত এক নথিতে দেখা যায়, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্টের সহায়তায় মেক্সিকোয় সোভিয়েত দূতাবাসে একটি ওয়্যারটেপ (গোয়েন্দা কাজে ব্যবহৃত শ্রবণ যন্ত্র) বসিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। বিষয়টি মেক্সিকো সরকারের অন্য কর্মকর্তারা জানতেন না। আগের প্রকাশিত নথির সংস্করণে বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল।সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনও এ–সংক্রান্ত কয়েক হাজার পৃষ্ঠার নথি প্রকাশ করেছিল। তবে জাতীয় নিরাপত্তার কথা বলে বাকি নথিগুলো প্রকাশ করেনি। ২০২১ সালের অক্টোবরে বাইডেন ১ হাজার ৫০০ নথি প্রকাশ করেন। তবে বাকি নথিগুলো গোপন রাখার কথা বলেছিলেন তিনি।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য