স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, ১২ সেপ্টেম্বর।। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা তাদের মহাকাশ কর্মসূচিতে বৈধ ভিসা থাকার পরও চীনা নাগরিকদের কাজ করা বন্ধ করেছে। এতে এই গবেষণা সংস্থাটিতে কার্যত চীনাদের কাজ করা নিষিদ্ধ হল। সূত্রের বরাতে ব্লুমবার্গ নিউজের প্রকাশিত প্রতিবেদন তুলে ধরে বিবিসি জানিয়েছে, ৫ সেপ্টেম্বর চীনা নাগরিকরা জানতে পারেন তারা আর নাসার কোনও সিস্টেম বা স্থাপনায় প্রবেশাধিকার পাবেন না। এর আগে এই চীনারা নাসার কর্মী হিসেবে না হলেও, ঠিকাদার বা গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজে অংশ নিতে পারতেন।
পরে নাসা খবরটি নিশ্চিত করে জানায়। সংস্থাটি জানিয়েছে, চীনা নাগরিকদেরকে নাসার বিভিন্ন স্থাপনা, সরঞ্জাম ও নেটওয়ার্কে প্রবেশাধিকারের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। নাসার কাজের নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
চীনের মহাকাশ কর্মসূচি দ্রুত এগিয়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র শঙ্কিত। এতে বৃহত্তম অর্থনীতির এই দুই দেশের মধ্যে মহাকাশ প্রতিযোগিতা আরও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস) থেকে এরই মধ্যে চীনা নভোচারীদেরকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
কারণ, ওয়াশিংটন নাসাকে চীনের সঙ্গে কোনও তথ্য ভাগাভাগি করতে বারণ করেছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা কমেছে। জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে চীনাদের ওপর নাসার সর্বশেষ বিধিনিষেধ দুই দেশের মধ্যে বৈজ্ঞানিক সহযোগিতার অবনমন আরও বাড়াল। ফলে প্রযুক্তিগত আধিপত্য অর্জনের প্রতিযোগিতায় চীন এবং যুক্তরাষ্ট্র এখন একে অপরকে নিয়ে আরও উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে। এই সন্দেহের প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে পড়তে যাওয়া চীনা শিক্ষার্থীদের ওপরও।
তাদের জন্য ভিসা পাওয়া কঠিন হচ্ছে। অনেকেই ভিসা পেলেও যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার অনুমতি পাচ্ছেনা। সম্প্রতি চীনা নাগরিকদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগও উঠেছে, বিশেষ করে বিজ্ঞানীরা নাজরদারিতে পড়েছেন।
নাসায় কাজ করা চীনা নাগরিকদেরকে সংস্থাটি কতগুলো নোটিস দিয়েছে তা স্পষ্ট নয়। ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, হঠাৎ করেই চীনা গবেষকরা দেখতে পান তারা নাসার তথ্যভাণ্ডারে ঢুকতে পারছেন না এবং তাদের কাজ-সম্পর্কিত বৈঠকগুলোতেও (সরাসরি কিংবা অনলাইনে) অংশ নিতে দেওয়া হচ্ছে না।
নাসার মুখপাত্র বেথানি স্টিভেন্স গণমাধ্যমকে জানান, সংস্থাটি “চীনা নাগরিকদের বিষয়ে অভ্যন্তরীন ব্যবস্থা নিয়েছে, যার মধ্যে শারীরিক ও সাইবার নিরাপত্তার দিক থেকে প্রবেশাধিকার সীমিত করাও রয়েছে।”
চীন তাদের মহাকাশ কর্মসূচির উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রকাশ্যে জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয়েই চাঁদে মহাকাশচারী পাঠানোর প্রতিযোগিতায় আছে। “আমরা এখন দ্বিতীয় মহাকাশ প্রতিযোগিতায় আছি,” বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন নাসার ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক শন ডাফি। “চীনারা আমাদের আগে চাঁদে ফিরে যেতে চায়। সেটা হতে দেওয়া হবে না।”
চীনের ‘ম্যানড স্পেস এজেন্সির’ একজন পরিচালক গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলে আখ্যা দেন। তিনি দাবি করেন, চীনের মহাকাশ অনুসন্ধান “মানবজাতির জন্য একটি সম্মিলিত অভিযান”। গত সপ্তাহে মার্কিন সিনেটের এক শুনানিতে আইনপ্রণেতারা জোর দেন, চীনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের চাঁদে পা রাখা প্রয়োজন। রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজ বলেন, “চীন তাদের লক্ষ্য গোপন করেনি। আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বীরা যদি মহাকাশে প্রভাবশালী হয়ে ওঠে, সেটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করবে। এই প্রতিযোগিতার গুরুত্ব অপরিসীম।”
এই প্রতিযোগিতা শুধু চাঁদে পৌঁছানোর মধ্যেই সীমিত নয়। বরং কে সেখানে পৌঁছে তার সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করবে, সেটিও বড় প্রশ্ন। চাঁদে বিরল খনিজ, লোহা, টাইটানিয়ামের মতো ধাতু এবং হিলিয়াম রয়েছে,যা সুপারকন্ডাক্টর থেকে শুরু করে চিকিৎসা সরঞ্জাম পর্যন্ত নানা খাতে ব্যবহৃত হয়।

