স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২১ আগস্ট : সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিকভাবে রাস্তার কাজ করার ফলে হয়রানির শিকার স্থানীয়রা। এমনটাই অভিযোগ উঠল এক নির্মাণকারী সংস্থার বিরুদ্ধে। জানা যায়, শতাধিক পরিবারের ব্যবহারের একমাত্র রাস্তাটি বন্ধ করে নির্মাণ কাজ চলতে থাকায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা।এনিয়ে নির্মাণ সংস্থার সাইড ম্যানেজারকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখায় ভুক্তভোগীরা। তাদের অভিযোগ গত সপ্তাহখানেক ধরে আসাম-আগরতলা জাতীয় সড়কের টাটা মোটর সংলগ্ন স্থান থেকে গঙ্গানগর পর্যন্ত সাড়ে চার কিলোমিটার রাস্তার নতুন করে নির্মাণ কাজ শুরু হয়। প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে এই নির্মাণ কাজের বরাত পায় এসএস এন্টারপ্রাইজ।
তারা কাজের শুরু থেকেই জনগণকে হেনস্থা ও হয়রানি করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের। তারা জানান, রাস্তার পাশের জলের পাইপ লাইন কেটে পানীয় জল থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে গ্রামবাসীদের। তাছাড়া এই মূল সড়কটির মধ্যে কালভার্ট নির্মাণের নামে রাস্তাটি পুরোপুরিভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ পাশে বাঁকা পথে টমটম বা গাড়ি নিয়ে চলাচল করার জন্য একটি রাস্তা তৈরি করে দেওয়া হয়নি ফলে গ্রামবাসী সহ স্কুল পড়ুয়া ছাত্রছাত্রী ও অসুস্থ লোকেরা বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না। এছাড়াও রাস্তা নির্মাণের জন্য মাটি কেটে পাশের পুকুর গুলোতে ফেলে দেওয়া হচ্ছে বলে চরম অভিযোগ গ্রামবাসীদের। এরই প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার তারা কাজের দায়িত্বে থাকা ম্যানেজারদের ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। কাজের গুণগত মান নিয়োগ প্রশ্ন তুলেন গ্রামবাসী। যেখানে একটি মূল সড়কের নির্মাণ কাজে অত্যাধিক প্রযুক্তি ও ভারী রড ব্যবহার করার কথা সেখানে মাত্র আট ও দশ এমএম রড ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ। যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে ভারী যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে। ঠিক একইভাবে পাশে গার্ড ওয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে আট এম,এম রড দিয়ে।তাই গ্রামবাসীরা এর প্রতিবাদ জানান। এছাড়াও বক্স কালভার্ট গুলোর ভেতর ফাঁপা রয়েছে যা নিম্নমানের কাজের ধারক হিসাবে বহন করছে।
এভাবে পুরো রাস্তার কাজের চরম অনিয়মের অভিযোগ করে গ্রামবাসী। গ্রামবাসী আরো জানান, সঠিক কাজ না হলে তারা আগামী দিনে রাস্তা অবরোধ করবেন। তাছাড়া ছোট গাড়ি এবং অটো চালকেরা যাত্রী নিয়ে হয়রানি শিকার, তারা ধর্মনগর থেকে জাতীয় সড়কের পাশ থেকে ঘুরে যেতে হচ্ছে। এদিকে নির্মাণ সংস্থার সাইড ম্যানেজার এ বিষয়ে জিজ্ঞেসা করা হলে তিনি বলেন, কাজ সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত কিছুটা সমস্যা থাকবেই। তবে জনগণের সুবিধার জন্য যে স্থানগুলোতে জলের পাইপলাইন ফেঁটে গিয়েছে। সেগুলি নির্মাণ সংস্থা তাদের লোক লাগিয়ে কাজ করে দিচ্ছে। তাছাড়া দফতরের নিয়ম মেনে কাজ করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন নির্মাণ সংস্থার সাইড ম্যানেজার।পরবর্তী সময় এলাকাবাসী এই রাস্তার কাজ প্রসঙ্গে জানান তারা অপেক্ষা করবে। না হলে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

