স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৫ আগস্ট : শুক্রবার ৭৯ তম স্বাধীনতা দিবসের মূল অনুষ্ঠানটি হয় আগরতলার আসাম রাইফেলস ময়দানে। অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর তিনি সম্মিলিত বাহিনীর কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন। সঙ্গে ছিলেন রাজ্য পুলিশের মহা নির্দেশক অনুরাগ ধ্যানকর। এদিন কুচকাওয়াজে অংশ নেয় ১৬ টি প্ল্যাটুন। এর মধ্যে রয়েছে ত্রিপুরা পুলিশ, টি এস আর, আসাম রাইফেলস, সিভিল ডিফেন্স, এন সি সি, এন এস এস সহ বিভিন্ন প্ল্যাটুন।
রাজ্যভিত্তিক এই অনুষ্ঠানে রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কর্মসূচীর বিষয়ে তুলে ধরেন। লিখিত ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার ৭৯ তম বর্ষে দাঁড়িয়ে উন্নতি ও সমৃদ্ধিতে ভারতবর্ষ আজ বিশ্বের এক উজ্জ্বলতম নাম। তাই এই দিন দেশবাসীর জন্য গর্বের বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আরো বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদি বলেছেন আত্মনির্ভর ভারত শুধু স্লোগান নয়, ১৪০ কোটি ভারতবাসীর নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সংকল্প। তাই এটা শুধু সরকারি কার্যক্রম নয়। আত্মনির্ভর ভারত জন আন্দোলন। স্বদেশী সামগ্রী প্রাধান্য দিয়ে এবং ব্যবহারের মাধ্যমে এই আত্মনির্ভর ভারত গড়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
গবেষণা, স্টাটাস সহ সার্বিক ক্ষেত্রে স্বদেশী চিন্তা ভাবনাকে গুরুত্ব দিতে হবে। রাজ্য সরকার স্থানীয় পণ্য সামগ্রীর দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে চলেছে। এখন সময় এসেছে দেশের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে উদীয়মান ক্ষেত্রগুলিকে গুরুত্ব দেওয়া। যাতে আগামী দিন প্রতিটি বাড়িতে এবং প্রতিদিন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে আত্মনির্ভর ভারত গড়ে ওঠে। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, গত সাত বছরে নির্লস পরিশ্রম করে আত্মনির্ভর ত্রিপুরা গড়ার জন্য কাজ করেছে সরকার। বিকাশের যুগের এক নতুন দৌড় গড়ায় দাঁড়িয়ে আছে ত্রিপুরা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, জনজাতিদের বিকাশ, মহিলা ক্ষমতায়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সামাজিক কল্যাণ, কর্মসংস্থানের জন্য কাজ করে চলেছে সরকার। এগিয়ে চলার এই অভিমুখ সুশাসনের নীতি দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এদিন পুলিশ পদকও তুলে দেন। এদিনের এই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি মন্ত্রীসভার বিভিন্ন সদস্য, জনপ্রতিনিধি, সরকারি আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। সাধারণ মানুষের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। অনুষ্ঠানের শেষ লগ্নে রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীরা দেশাত্মবোধক নৃত্য এবং সংগীত পরিবেশন করেন।

