Thursday, February 5, 2026
বাড়িরাজ্যদুর্ঘটনাগস্তু গাড়ি চালকের মৃত্যুর জন্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলে চাকমা ঘাটে...

দুর্ঘটনাগস্তু গাড়ি চালকের মৃত্যুর জন্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলে চাকমা ঘাটে সড়ক অবরোধ

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ৬ আগস্ট :সোমবার রাত্রি আড়াইটা নাগাদ তেলিয়ামুড়ার চাকমা ঘাট এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে সিমেন্ট বোঝাই একটি লরি। লরিটি নিয়ন্ত্রন হারিয়ে রাস্তার পাশের গাছে গিয়ে ধাক্কা মারে। এতে গাড়ির স্টেয়ারিং বুকের নিচে চাপা পরে গাড়িতে আটকে যায় চালক কাঞ্চনপুরের বাসিন্দা মিহির লাল দেবনাথ। দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িতে আটকে পড়া চালক মিহির লাল দেবনাথ নিজের প্রাণ বাঁচাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর্তনাদ করে।

 নিজেকে বাঁচাতে মিহির লালা উপস্থিত সকলকে বলছে আমাকে বাঁচান, আমি বাঁচতে চাই। আমার বাড়িতে ফোন করুন। সে নিজের বাড়ির ফোন নাম্বারও বলে দেয়। এমনকি কি ভাবে গাড়িটি সরানো হলে সে বাঁচতে পারে তাও সে বলে দেয়। কিন্তু কাজটা করবে কে। প্রশাসন যে ঢাল তরোয়াল হীন নিধিরাম সর্দার। রাজ্য সরকার প্রচার করে দমকল বাহিনীকে ঢেলে সাজানো হয়েছে। দমকল বাহিনীর সাথে যুক্ত করা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি। দমকল বাহিনীর আধুনিক প্রযুক্তির বেয়াব্রু চেহারা এইদিন সকলের সামনে চলে আসে। দমকল বাহিনীর কর্মীরা এক ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও তাদের কাছে ছিল না আয়রন কাটার মেশিন। খবর দেওয়া হয় দুর্যোগ মোকাবেলার প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত কর্মীদের। দুর্যোগ মোকাবেলার কাজে নিযুক্ত দুই কর্মী ছুটে আসে আয়রন কাটার মেশিন নিয়ে।

 সরকার দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে মহড়া প্রদর্শন করে, সেই মহড়া আর বাস্তব যে ভিন্ন তাও এইদিন প্রত্যক্ষ করল সেখানকার লোকজন। কারন দুর্যোগ মোকাবেলার কাজে নিযুক্ত দুই কর্মী ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়েও আয়রন কাটার মেশিন স্টার্ট করতে ব্যর্থ হয়। তারপর এক এক করে আনা হয় জেসিবি ও ডাম্পার গাড়ি। কিন্তু দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ঘটনাস্থলে দেখা মিলেনি মহকুমা প্রশাসনের কোন আধিকারিককে। এইদিকে লরিতে আটকে পড়া চালক মিহির লাল দেবনাথের অবস্থা ক্রমশ অবনতির দিকে যেতে থাকে। কারন শরীর থেকে ক্রমাগত রক্তক্ষরণের কারনে ক্রমশ তার জীবন সঙ্কটাপন্ন হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয় চালক মিহির লাল দেবনাথকে। তবে জিবিত নয় মৃত। বলতে গেলে প্রশাসনের চরম গাফিলতির কারনে একটি প্রাণ অকালে ঝড়ে গিয়েছে। যা রাজ্যবাসী মন থেকে কোন ভাবে মেনে নিতে পারে নি। প্রশাসনের গাফিলতির কারনে শতশত মানুষের সামনে একজন যান চালক একটু একটু মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ে। যদি ঘটনার পর মহকুমা প্রশাসন কিংবা জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে ছুটে যেত তাহলে উদ্ধার কাজে গতি আসত, এবং মিহির লাল দেবনাথের প্রাণ বাঁচানো যেত। প্রশাসনের গাফিলতির কারনে লরি চালক মিহির লাল দেবনাথের মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বুধবার তেলিয়ামুড়ায় সড়ক অবরোধে সামিল হয় অল ড্রাইভার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন। যান চালকরা জানায় প্রশাসনের গাফিলতির কারনে মিহির লাল দেবনাথের মৃত্যু হয়েছে।

 দমকল বাহিনীর কর্মী ও দুর্যোগ মোকাবেলার কর্মীরা আয়রন কাটার মেশিন নিয়ে আসলেও সেই মেশিন দিয়ে কাজ করাই যায় নি। যদি মিহির লাল দেবনাথকে দ্রুত উদ্ধার করা যেত তাহলে তাকে বাঁচানো যেত। মহকুমা ও জেলা প্রশাসনের কোন আধিকারিক ঘটনাস্থলে আসে নি। তাদের দাবি মৃত মহির লাল দেবনাথের পরিবার যেন চলতে পারে তার ব্যবস্থা করে দিতে হবে সরকারকে। সড়ক অবরোধের ফলে রাস্তার দুই পাশে আটকে পরে বহু যানবাহন। খবর পেয়ে অবরোধস্থলে ছুটে যান প্রশাসনিক আধিকারিকরা। তারা কথা বলেন যান চালকদের সাথে। পরে ডিসিএম অঞ্জন দাস জানান চাকমা ঘাটে যে দুর্ঘটনা ঘটেছে তার জন্য তেলিয়ামুড়া মহকুমা প্রশাসন মর্মাহত। গোটা ঘটনার তদন্ত করা হবে। পাশাপাশি তিনি মৃত মিহির লাল দেবনাথের পরিবারকে সকল ধরনের সাহায্যের আশ্বাস দেন। ডিসিএম-এর আশ্বাসে যান চালকরা সড়ক অবরোধ মুক্ত করে দেয়। এইদিকে লরি চালক মিহির লাল দেবনাথের মৃত্যুর প্রতিবাদ জানিয়ে তেলিয়ামুড়ায় শোঁক মিছিল করল সিপিআইএম তেলিয়ামুড়া মহকুমা কমিটি। এইদিন সিপিআইএম কর্মী সমর্থকরা কালো ব্যাচ ধারণ করে মৌন শোঁক মিছিলে সামিল হয়।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য