Thursday, February 5, 2026
বাড়িরাজ্যজিবি হাসপাতালে আক্রান্ত চিকিৎসক, কর্ম বিরতির আবাস

জিবি হাসপাতালে আক্রান্ত চিকিৎসক, কর্ম বিরতির আবাস

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ৩ আগস্ট : প্রধান রেফারেল হাসপাতালে তকমা লাগালেও হাসপাতালের মধ্যে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং রোগী কারোরই কোন নিরাপত্তা নেই। প্রতিদিন খবরের শিরোনাম দখল করছে জি বি হাসপাতাল। অথচ নিরাপত্তায় ব্যর্থ। বিভিন্ন সময় হাসপাতালের মধ্যে চুরি, ছিনতাই সহ নানা অভিযোগ উঠে রোগীদের কাছ থেকে। এবার যে অভিযোগ উঠেছে সেটা অত্যন্ত গুরুতর। রোগীর পরিবারের হাতে আক্রান্ত হলেন লিটন দাস নামে এক চিকিৎসক। ঘটনা শনিবার রাতে তিনটা নাগাদ।

 এ বিষয়ে হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক জানান, শনিবার রাতে এয়ারপোর্ট থানাধীন নারায়ণপুর এলাকার বিমল সরকার নামে এক রোগীকে পরিবারের লোকেরা নিয়ে আসে হাসপাতালে। সাথে সাথেই চিকিৎসক লিটন দাস গিয়ে দেখতে পান মদের সাথে বিষ মিশিয়ে খাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বিমল সরকার। সাথে সাথেই পর্যাপ্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়ার পরেও বাপন সরকার এবং তপন সরকার নামে দুই ব্যক্তি রোগী ছেলের পরিচয় দিয়ে আক্রমণ করে চিকিৎসক লিটন দাশের উপর। মাটিতে ফেলে বেদরক মারধোর করে। বিষয়টি প্রত্যক্ষ করে অপর চিকিৎসক অভিক দেব এগিয়ে গেলে উনাকেও গালিগালাজ করে অভিযুক্তরা। সাথে সাথে চিকিৎসক অভিক দেব খবর দেন পুলিশকে। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি মীমাংসা করে নেয়। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি স্বাস্থ্য দপ্তরে আধিকারিক এবং জিবি হাসপাতালে মেডিকেল সুপারকে লিখিতভাবে অবগত করা হয়েছে। তারা আশ্বস্ত করেছেন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন। আগামী সোমবার পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে। যদি কোনরকম ব্যবস্থা না নেন, তাহলে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে পরিষেবা চালু রেখে অন্য কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানান কর্তব্যরত চিকিৎসক।

 তিনি আরো জানান জিবি হাসপাতালে নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জানানো হলেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না। এভাবে চলতে থাকলে পরিষেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। কারণ এটা দীর্ঘদিনের সমস্যা। শনিবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত ১১০ জন রোগীকে দেখেছেন জরুরী বিভাগের চিকিৎসকরা। তারপর বিমল সরকার নামে রোগী আসার পর সঠিক সময় মত চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হলেও এ ধরনের আক্রমণের শিকার হওয়া কোনরকম ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সুতরাং জিবি হাসপাতালে চিকিৎসকরা আগামী দিন নিরাপত্তা না পেলে কিভাবে কাজ করবে সেটা নিয়ে চিন্তিত। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসকের কথায় স্পষ্ট বুঝা গেছে তারা ন্যায়ায় না পেলে হয়তো কর্মবিরতি করতে পারেন। এখন দেখার বিষয় সংশ্লিষ্ট দপ্তর কি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য