Wednesday, August 17, 2022
বাড়িরাজ্যত্রিপুরার মাটিতে ঘাসফুলের দলীয় কার্যালয়ের উদ্বোধন

ত্রিপুরার মাটিতে ঘাসফুলের দলীয় কার্যালয়ের উদ্বোধন

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ১১ জুলাই : জল্পনা কল্পনার অবসান। শেষ পর্যন্ত আগরতলা শহরের বুকে তৃণমূল কংগ্রেস সদর কার্যালয়ে খুলা হয় সোমবার। যা শাসক দল বিজেপি’র কাছে বজ্রাঘাত বলা যায়। রাজ্যের মাটিতে তৃণমূল কংগ্রেসের উত্থান গত এক বছরে। বিগত পুর নির্বাচনে রাজ্যে শাসক দলকে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে চ্যালেঞ্জ করতে সক্ষম হলেও, সদ্য সমাপ্ত উপ নির্বাচনে চারটি আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের বড় পরাজয় হয়েছে।

 কিন্তু ময়দানে থেকে ২০২৩ -এর লড়াই করতে প্রস্তুতি জারি রেখেছে তৃণমূল কংগ্রেস। গত এক বছর ধরে তৃণমূল কংগ্রেস শহরের বুকে প্রদেশ কার্যালয় খুলতে বহু চেষ্টা করেছে। কিন্তু বারবারই গতি রুখে দিয়েছে রাজ্যের প্রধান রাজনৈতিক দল। রাজনৈতিকভাবে বহু বাধা বিপত্তির সম্মুখে হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। অবশেষে ঢাকঢোল বাজিয়ে আগরতলা চিত্তরঞ্জন রোড এলাকায় দলীয় কার্যালয় উদ্বোধন করেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃবৃন্দ। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবের বিধানসভা কেন্দ্রে এই দলীয় কার্যালয় খুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এদিন দলের কার্যালয়ের উদ্বোধনের আগে দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন পশ্চিমবঙ্গের আইন মন্ত্রী মলয় ঘটক। তারপর ফিতা কেটে দলীয় কার্যালয়ের উদ্বোধন করা হয়। পশ্চিমবঙ্গের আইন মন্ত্রী মলয় ঘটক বলেন রাজ্যের এই সদর দপ্তর থেকে আগামী দিনে প্রদেশ তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক কাজকর্মের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। রাজ্যের মানুষ অভিযোগ জানাতে একটি জায়গা পেয়েছে। মানুষের অভিযোগ নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ময়দানে নামবে। প্রদেশ তৃণমূল কংগ্রেস ত্রিপুরা মানুষের কাছ থেকে স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া পাচ্ছে বলে জানান তিনি।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে একটি দলীয় অফিস খুলতে দীর্ঘ এক বছর সময় লেগেছে। কি রহস্য এবং কি কারন তার বিচার জনসম্মুখে রাখছে তৃণমূল কংগ্রেস। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রেখে একথা বলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সুস্মিতা দেব। তিনি বলেন, ২০২৩ -এ তৃণমূল কংগ্রেস সরকার গড়বে। লড়াই করে এই অফিসটি খোলা হয়েছে। এতে কর্মীদের এক বছরের তপস্যা বলে জানান সুস্মিতা দেব।

তৃণমূল কংগ্রেসের লক্ষ্য ত্রিপুরায় সরকার প্রতিষ্ঠিত করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা। এর জন্য ত্রিপুরার মাটিতে দলীয় কার্যালয় করা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল লক্ষ্য ছিল বলে জানান ত্রিপুরার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এদিন দলীয় কার্যালয় উদ্বোধন করে তৃণমূল কংগ্রেস ত্রিপুরার মাটিতে আগামী বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজিয়ে দিয়েছে। কিন্তু ঘাসফুল ত্রিপুরার মাটিতে কতটা গজিয়ে উঠবে সেটা বলা অসাধ্যকর। বহুদলীয় রাজ্য রাজনীতিতে উর্বর মাটি খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। বিধানসভায় সরকার গড়তে শাসক দলকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ হবে তা স্পষ্ট হয়ে গেছে এদিন।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য