Thursday, February 5, 2026
বাড়িরাজ্যবেহাল জাতীয় সড়ক পরিদর্শনে গিয়ে চোখ কপালে উঠলো পূর্ত দপ্তরের সচিব ও...

বেহাল জাতীয় সড়ক পরিদর্শনে গিয়ে চোখ কপালে উঠলো পূর্ত দপ্তরের সচিব ও জেলাশাসকের

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ২৬ জুলাই : দুর্নীতি নাকি গাফিলতি? জাতীয় সড়ক নির্মাণের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই বেহাল অবস্থা। এ দৃশ্য লক্ষ্য করা গেছে খোয়াই-কমলপুর ২০৮ এবং খোয়াই-আগরতলা ১০৮বি জাতীয় সড়কে। সংবাদ প্রকাশের পর শনিবার পরিদর্শনে গেলেন খোয়াই জেলাশাসক এবং ত্রিপুরা পূর্ত দফতরের সচিব কিরণ গিত্যে। তাদের প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে গেলেন জাতীয় সড়ক নির্মাণকারী সংস্থার কর্মকর্তারা। জানা যায়, খোয়াইয়ের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া দুইটি জাতীয় সড়ক বেহালা দশা। মরণ ফাঁদ পরির্দশন করেন রাজ্যে সচিব। রাজ্যবাসীর স্বপ্নের জাতীয় সড়ক ভেঙেচুরে চৌচির।

গত কয়েক মাস ধরেই খোয়াই-কমলপুর ২০৮ এবং খোয়াই-আগরতলা ১০৮বি জাতীয় সড়কের এমন দুরবস্থা। পথ চলতি থেকে যান চালকদের দুর্ভোগ অন্ত নেই। কেন্দ্রীয় জাতীয় সড়ক নির্মাণ সংস্থার দ্বারা জাতীয় সড়ক নিম্নমানের কাজ হয়েছে। এক বছর যেতে না যেতেই খোয়াইয়ের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া দুই টি জাতীয় সড়ক পীচ উঠে যায়। সহস্রাধিক বড় খাদ তৈরি হয়েছে। জাতীয় সড়কের মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। সংবাদমাধ্যমে এই অভিযোগ উঠে আসার পর শনিবার দুপুরে ত্রিপুরা পূর্ত দপ্তরের সচিব কিরন গিত্যে, খোয়াই জেলার শাসক রজত পন্থ এবং পূর্ত দপ্তরের বাস্তুকার সহ অন্যান্যরা পরিদর্শনে যান। এই পরিদর্শনকারী টিম প্রথমে খোয়াই ১০৮বি জাতীয় সড়ক পরিদর্শন করেন। পরবর্তীতে ২০৮ জাতীয় সড়ক যে জায়গাগুলি মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে এই স্থানগুলি স্বচক্ষে দেখেন। পরে পূর্ত দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে বরাত প্রাপ্ত নির্মান সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত লোকদের সাথে আলোচনা করেন। অথচ দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো সরকারের আমন্ত্রণে বরাত পাওয়া সড়ক নির্মাণ সংস্থা প্রশাসনিক আধিকারিকদের বিভিন্ন প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন।

নির্মাণ সংস্থার লোকজন কোন প্রশ্নেরই সঠিক উত্তর দিলেন না। এই পরিদর্শনকে ঘিরে বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন হলো যে, জাতীয় সড়ক নির্মাণের সময় কি তাহলে মাটির গুণমান ভালো করে যাচাই করা হয় নি, নাকি নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে কাজ করা হয়েছে? যদি মাটি পরীক্ষা না হয়ে থাকে তাহলে নির্মাণ কাজের সময় জরিপ করে দেখা হয় নাই! জমির ভৌগোলিক অবস্থা যাচাই বাছাই না করেই কি বা বিজ্ঞান নির্ভর পদ্মতিতে জমির গুণমান বিচার বিবেচনা না করেই কি তাহলে জাতীয় সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু করে দেওয়া হয়েছে! অনেকের অভিমত সড়ক নির্মাণের সময়েই যদি এসব বিষয়গুলো  প্রশাসনের নজরদারি থাকতো তাহলে আজকে সড়ক নির্মাণের এক বছরের মধ্যেই নবনির্মিত ২০৮ ও ১০৮ বি জাতীয় সড়কের এই হাল অবস্থা হতো না। আর নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যাবহার করে নিম্নমানের নির্মাণকাজ না হলে হয়তো বা জাতীয় সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে কারোর মধ্যেই কোন প্রশ্ন উঠতো না। প্রশাসনের নজরদারি না থাকার ফলে দুই দুইটি জাতীয় সড়ক মরণ ফাঁদ তৈরি হতো না। নির্মাণের সময় জেলা প্রশাসনের আধিকারিকগণ বিভিন্ন এলাকা থেকে উঠে আসা অভিযোগ গুলি কর্নপাতও করেনি।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য