স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ২৬ জুলাই : শনিবার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে দশম এবং দ্বাদশ শ্রেণীর বোর্ড পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মেধাবী তফসিলি উপজাতি শিক্ষার্থীদের সম্মান জানানো হয়। অল ত্রিপুরা এনজিও এস টি বোডিং ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট এবং অল ত্রিপুরা এনজিও বোর্ডিং ডেভেলপমেন্ট কমিটির যৌথ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা। অনুষ্ঠানের বক্তব্য রেখে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০১৪ সালের আগে কোন সরকার জনজাতিদের জন্য চিন্তা করেনি।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ২০১৪ সালে সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর জনজাতিদের উন্নয়নের জন্য চিন্তা করা হয়। এবং প্রথম জনজাতি মহিলা রাষ্ট্রপতি হয়েছেন বর্তমান সরকারের আমলে। কিন্তু মাঝেমধ্যে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে কেউ কেউ। কিন্তু বর্তমান সরকারকে সকলকে নিয়ে চলতে হয়। এ সরকার মানুষের নিরাপত্তা ও আত্মসামাজিক উন্নয়নের জন্য কাজ করছে। জনজাতি এলাকার যাতে বিকাশ হয় তার জন্য কাজ করছে সরকার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে টিটিএএডিসি -র উন্নয়নের জন্য ৮৬০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত ১৬৯ কোটি ৮২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়াও রাস্তাঘাট সহ অন্যান্য উন্নয়ন করার জন্য প্রতিবছর সাত থেকে আট কোটি টাকা দেওয়া হয়।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ত্রিপুরার লোক নৃত্য, হস্ততাঁত, হস্তশিল্প হারিয়ে যেতে বসেছে। তাই জনজাতিদের এগুলি বাঁচিয়ে রাখতে সরকার চলতি অর্থবছরের বাজেটে তিন কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। রাজ্যের জনজাতিদের উন্নয়নের জন্য সরকার কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সহযোগিতায় বিশ্ব ব্যাংক থেকে ১৪০০ কোটি টাকা পেয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, সরকারের মূল ফোকাস হল শিক্ষার পরিকাঠামো গড়ে তোলা। এর জন্য সরকার আগামী দিন যা যা করার তা করবে রাজ্যের ছেলেমেয়েদের জন্য। পাশাপাশি জনজাতি এলাকায় শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা চালু করতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে আগামী দিন কাজ করবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন গত জানুয়ারি মাস থেকে এখন পর্যন্ত ৭শ কোটি টাকার অধিক বিভিন্ন প্রকল্প, শিলান্যাস এবং ভিত্তি প্রস্তুর উদ্বোধন করেছেন। আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই দিন এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আধিকারিকরা।

