স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ৩০ জুন : আমবাসা ক্রিকেট এসোসিয়েশান ত্রিপুরা ক্রিকেট এসোসিয়েশানের অনুমোদন প্রাপ্ত। প্রতি বছর লক্ষ্য লক্ষ্য টাকা পেয়ে থাকে আমবাসা ক্রিকেট এসোসিয়েশান। কিন্তু ক্রিকেটারদের স্বার্থে এই ক্রিকেট এসোসিয়েশান কোন কাজ করছে না বলে অভিযোগ। সম্প্রতি আমবাসা ক্রিকেট এসোসিয়েশান স্টেট মিট খেলার জন্য ক্রিকেটারদের ধর্মনগর প্রেরন করে। কিন্তু আমবাসা ক্রিকেট এসোসিয়েশান ক্রিকেটারদের রাত্রি যাপনের জন্য কম টাকায় একটি নিম্ন মানের হোটেল ভাড়া করে। যে হোটেল একেবারের থাকার উপযোগী নয়। তখন ক্রিকেটাররা এই হোটেলে থাকবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়। তারপর আমবাসা ক্রিকেট এসোসিয়েশান অপর একটি হোটেলে ৬ টি ডাবল ব্যাডের রুম ভাড়া করে। সেই রুম গুলির মাধ্যমে একটি আবার অফিসিয়ালদের জন্য রেখে দেওয়া হয়। ক্রিকেটারদের থাকার জন্য দেওয়া হয় মাত্র ৫ টি রুম। অর্থাৎ প্রতি রুমে ৩ জন ক্রিকেটারকে থাকতে দেওয়া হয়। যে রুমে ২ জন থাকার কথা সেই রুমে তিন জন ক্রিকেটারকে থাকতে বাধ্য করা হয়।
আমবাসা ক্রিকেট এসোসিয়েশানের হয়ে ধর্মনগর ক্রিকেট খেলতে যাওয়া উত্তম কলই সামাজিক মাধ্যমে লাইভে এসে এই ঘটনার প্রতিবাদ জানান। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লাইভে এসে তুলে ধরেন কি ভাবে একটি রুমে ডাবল ব্যাডে তিন জন ক্রিকেটারকে থাকতে হয়েছে। কি ভাবে তাদেরকে রাত্রি যাপন করতে হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন টিসিএ অর্থ প্রদান করলেও আমবাসা ক্রিকেট এসোসিয়েশান সেই অর্থ সঠিক ভাবে ব্যয় করছে না। যার কারনে তাদেরকে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। ক্রিকেটার উত্তম কলই সামাজিক মাধ্যমে লাইভে এসে গোটা ঘটনার বিষয়ে তুলে ধরার পর আমবাসা ক্রিকেট এসোসিয়েশানের সদস্য সদস্যাদের মাথা ব্যথা শুরু হয়ে যায়। তড়িঘড়ি আমবাসা ক্রিকেট এসোসিয়েশানের সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ সাংবাদিক সম্মেলন করে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করেন। তবে কোষাধ্যক্ষ বকলমে স্বীকার করে নেন তারা মাত্র ৬ টি এসি রুম ভাড়া করেছেন। সেই রুমে ক্রিকেটারদের থাকতে দিয়েছেন। ৬ টি এসি রুম ভাড়া করার কারন হিসাবে তিনি উল্লেখ করেন ঐ হোটেলে আর কোন এসি রুম ছিল না। প্রশ্ন হচ্ছে ধর্মনগরে অন্য কোন হোটেলে কি এসি রুম ছিল না। আমবাসা ক্রিকেটে এসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ভুরি ভুরি। জানা যায় আমবাসা ক্রিকেট এসোসিয়েশন চার বছর ধরে ক্লাব গুলিকে কোন টাকা দিচ্ছে না। এমনকি ২০২৩-২৪-এর ম্যাচ মানিও এখনো পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। পিচ করার জন্য প্রত্যেক বছর টাকা পেয়ে থাকে আমবাসা ক্রিকেট এসোসিয়েশন। কিন্তু দশমী ঘাট মাট জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এই মাঠ দেখলে বুঝা যাবে না যে পিচের জন্য টাকা বরাদ্দ হয়। এই বছর আমবাসা ক্রিকেট এসোসিয়েশন থেকে চারটি খেলা করা হয়নি। যার মধ্যে সিনিয়রমিট ও টি-টোয়েন্টি রয়েছে।
আমবাসা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ সাংবাদফিক সম্মেলনে জানান আমবাসা ক্রিকেট এসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে উঠা সকল অভিযোগ ভিত্তি হীন। যদি লক্ষ লক্ষ টাকার দুর্নীতি হয়ে থাকে তাহলে টিসিএ-র অডিটে ধরা পড়বে। জানা যায় আমবাসা ক্রিকেট এসোসিয়েশন থেকে ক্রিকেটারদের ডিএ বাবদ ৬০০ টাকা করে দেওয়া হয়। এইবার প্রথম আমবাসা ক্রিকেটে এসোসিয়েশন ক্রিকেটারদের ডিএ বাবদ ৫০০ টাকা করে দিয়েছে। ক্রিকেটার উত্তম কলই সামাজিক মাধ্যমে লাইভে এসে প্রমান সহ অভিযোগ উত্থাপন করলেও তার বিরুদ্ধে কোন কথা বলতে নারাজ আমবাসা ক্রিকেট এসোসিয়েশানের সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ। স্বাভাবিক ভাবেই আমবাসা ক্রিকেট এসোসিয়েশানের স্বচ্ছতা নিয়ে দেখা দিয়েছে বড় প্রশ্ন।

