Thursday, February 5, 2026
বাড়িরাজ্যআগরতলা শহরে স্পেশাল ড্রাইভে আটক বহু, ৩৪ শতাংশ দুর্ঘটনা জনিত মৃত্যু হ্রাস...

আগরতলা শহরে স্পেশাল ড্রাইভে আটক বহু, ৩৪ শতাংশ দুর্ঘটনা জনিত মৃত্যু হ্রাস পেয়েছে বলে দাবি ট্রাফিক এসপি -র

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা, ২৬ জুন : আগরতলা শহরে যানজটের সমস্যা নিত্যদিনের ভোগান্তি হয়ে উঠেছে পথ চলতি মানুষের। কারণ একদিকে যেমন যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, অপরদিকে রাস্তার প্রশস্ত বাড়ছে না। তার উপর দিয়ে রয়েছে শহরের মধ্যে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করে যানবাহনের চলাচল। যেখানে সেখানে অস্থায়ীভাবে স্ট্যান্ড তৈরি করে অটো চালক ও টমটম চালকরা যাত্রী উঠানামা করাচ্ছে। এত করে শহরে এক প্রকার ভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়ে আছে। নিয়ন্ত্রণে নেই ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা। শহরের ট্রাফিক পুলিশ অভিযানের নামলেও শুধুমাত্র জরিমানা আদায় করেই দায়িত্ব খালাস করে ফেলছে। এটাই চাক্ষুষ করছে শহরবাসী।

আগরতলা শহরের অন্যতম ব্যস্ততম রাস্তা হল নাগেরজলা থেকে বটতলা, মোটর স্ট্যান্ড থেকে চন্দ্রপুর এবং রাধানগর এলাকা। এই এলাকার গুলিতে যানজট নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ট্রাফিক পুলিশ থাকলেও তারা শুধু হাতে ক্যামেরা নিয়ে ক্যামেরাম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন জরিমানার জন্য। বাইক কিংবা গাড়ি সন্দেহ হলেই ছবি তুলে দাঁড় করিয়ে কাগজপত্র দেখানোর জন্য দাবি করছে। আর এটা করা স্বাভাবিক। শহরে অনিয়মিতভাবে চলাচল করছে বহু যানবাহন। কিন্তু পাশাপাশি যানজট নিয়ন্ত্রণ করতে সেসব এলাকার গুলিতে গাড়ির গতির দিকে নজর রাখছে না ট্রাফিক পুলিশরা, এমনকি যেখানে সেখানে গাড়ি দাঁড় করিয়ে যাতে উঠা নামা করাচ্ছে। অথচ এদিকে কোনরকম ব্যবস্থা নিচ্ছেন না তারা। বৃহস্পতিবার আগরতলা শহরের আনস্মার্ট ট্রাফিক আধিকারিকরা অফিস টাইমে শহরে যানজট নিয়ন্ত্রণ না করে জরিমানা আদায় করতে নামেন উত্তর গেট, আর এম এস চৌমুহনি, অরুন্ধতী নগর, আশ্রম চৌমুহনী এবং পোস্ট অফিস চৌমুহনি এলাকায়। রাজধানীর উত্তর জেট এলাকায় অভিযানে ছিলেন পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার ট্রাফিক এসপি কান্তা জাহাঙ্গীর। তিনি জানান, গত ৯ জুন থেকেই ট্রাফিকের স্পেশাল ড্রাইভ শুরু হয়েছে। যারা ভুয়া নম্বর, উচ্চ আওয়াজ সম্পন্ন সাইলেন্সার এবং বাইকের নম্বর প্লেটে কারুকার্য করে রেখেছে তাদের আটক করা হচ্ছে। আজকে ট্রাফিক কর্মীরা অভিযানে নেমে ৫৫ টি যানবাহন ভুয়া নম্বর প্লেট সহ বিভিন্ন কারণে আটক করা হয়েছে। তিনি আরো জানান এই স্পেশাল ডাইভের সফলতা মিলেছে প্রশাসনের।

বিগত বছরের তুলনায় চলতি বছর যান দুর্ঘটনা কমেছে। ৩৪ শতাংশ কমেছে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যার হার। যাই হোক এ ধরনের স্পেশাল ড্রাইভের পাশাপাশি আগরতলা শহরের মধ্যে যানজট নিয়ন্ত্রণ করতে অস্থায়ী স্ট্যান্ড নির্মাণ করা এবং যেখানে সেখানে জাতির উঠানামা করার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া ট্রাফিক কর্মীদের অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে। একই সাথে দাঁড়িয়ে উঠেছে আগরতলা শহরের অলি গলিতে সাধারণ মানুষের জীবন যাপনের উপর ঝুঁকি ফেলছে উশৃংখল যান চালকরা। নেশাগ্রস্ত হয়ে নিয়ন্ত্রণ বিহীন হয়ে পড়ছে তারা। সাথে রয়েছে তাদের বিকট শব্দের বাইক সাইলেন্সার। যা মানুষের হৃদরোগের আক্রান্তের অন্যতম কারণ হয়ে উঠতে পারে। এনসিসি থানা এলাকার ভোলাগিরি রোড, বড়জলা, গোয়ালা বস্তি এলাকা, হেরিটেজ পার্ক সংলগ্ন এলাকায় লম্পট বখাটে যুবকদের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষ। আতঙ্ক ভুগছে সকলে। গত কয়েক মাসে একাধিক যান দুর্ঘটনা ঘটল প্রশাসনের হুঁশ ফিরছে না। তাদের আটক করে জরিমানা করার পাশাপাশি আইনত ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি উঠেছে সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে
Captcha verification failed!
CAPTCHA user score failed. Please contact us!

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য