স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ১৩ ডিসেম্বর : নেশার বিরুদ্ধে, কর্মসংস্থান এবং আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার দাবিতে শুক্রবার থেকে শুরু হল ডি ওয়াই এফ আই এবং টি ওয়াই এফ -এর সদর বিভাগীয় কমিটির যৌথ উদ্যোগে পদযাত্রা। রাজধানীর দুর্গা চৌমুহনি থেকে শুরু হয় এই পদযাত্রা। আশ্রম চৌমুহনি পর্যন্ত এই পদযাত্রা হয়। উপস্থিত ছিলেন ডি ওয়াই এফ আই রাজ্য সম্পাদক নবারুণ দেব। তিনি সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান, তিন দফা দাবিতে রাস্তায় নেমেছে বাম যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই এবং টি ওয়াই এফ। আগামী ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিটি বিভাগে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরো বলেন, রাজ্যে বেকারদের সাথে মহাকরণে বসে প্রতিদিন প্রতারণা করছে মন্ত্রীরা। এই কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে মন্ত্রীর এ ধরনের প্রতারণার তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে।
একই সাথে ত্রিপুরা টিচার রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের নিন্দা জানিয়ে বলেন তারা সরকারের লেজুরবৃত্তি করছে। এছাড়াও বিভিন্ন দপ্তর চাকুরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করছে, কিন্তু পরীক্ষা গ্রহণ করছে না। আবার কখনো কখনো পরীক্ষা গ্রহণ করছে, কিন্তু নিয়োগ করা হচ্ছে না। এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে রাস্তায় নেমেছে বামেরা বলে জানান তিনি। উল্লেখ্য, তাদের অভিযোগ বর্তমান সরকারের আমলে প্রতি বছর অবলুপ্ত হচ্ছে হাজার হাজার শূন্যপদ। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, নার্স, কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত, খেলাধূলার বিষয়ে ডিগ্রি, স্নাতক-স্নাতকোত্তর বিএড, ডিএলএড করা ছেলে মেয়ে কারোর কোন সুযোগ নেই কর্মসংস্থানের। শুধু মাত্র গত ৬ বছরে শিক্ষকের সংখ্যা কমেছে ১১,৬৯৬।
মেধাকে বিনষ্ট করতেই বিজেপি সরকারের এই নীলনক্সা। মহা বিদ্যালয়গুলিরও একই হাল। ত্রিপুরা ঢুকে যাচ্ছে বিরাট শতাংশের বেকারত্বের হারে। গত সাড়ে ৬ বছরে ত্রিপুরায় সরকারী নিয়োগ মাত্র ৯৫৫২ জন। ৫০ হাজারের উপর শূন্যপদ পরে রয়েছে সরকারী বিভিন্ন দপ্তরে। ২০১৮ সালে বলা রাজ্যে সাড়ে ৭ লক্ষ বেকারের কথা বি জে পি’র মুখে শোনা যায় না এখন আর। ২০১৭ সালে রাজ্যে সরকারী কর্মচারীর সংখ্যা ছিল ১,৫২,৮৩১ জন। ২০২৪ সালে সেই সংখ্যা কমে দাড়ায় ১,০৫,০৬৭ জন। সাধারণ ডিগ্রি নিয়ে পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখা যুবক-যুবতীরা আজ দিশাহীন। হারিয়ে যাচ্ছে বেকারত্বের ভিড়ে। কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ডিপ্লোমা কোর্সে এ রাজ্যে বেকারত্বের হার ৩৬.৬ শতাংশ। তৃতীয় স্থানে রয়েছে ত্রিপুরা।