Friday, May 31, 2024
বাড়িরাজ্যচিকিৎসার ব্যয় ভার বহন করতে না পেরে হাসপাতালে বসে কাঁদছেন ১০,৩২৩ চাকরিচ্যুত...

চিকিৎসার ব্যয় ভার বহন করতে না পেরে হাসপাতালে বসে কাঁদছেন ১০,৩২৩ চাকরিচ্যুত শিক্ষক

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ১৪ মে :  

জীবনে এক মুহূর্ত যেন কেড়ে নিল চাকরি। এবার যেন আরো এক কঠিন মুহূর্ত সম্মুখীন চাকরিচ্যুত শিক্ষক মাধব দেবনাথ। পশ্চিম নোয়াগাঁও এলাকার বাসিন্দা তিনি। লিভার জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে বিক্রি করলেন বাড়ি কিছুটা অংশ, তারপর সেই টাকা দিয়ে রাজ্যের বাইরে গিয়ে চিকিৎসা করে সর্বশ্রান্ত হয়ে বাড়ি ফিরলেন।

 কিন্তু সুস্থ হয়ে উঠতে পারে নি মাধব বাবু। তারপর চিকিৎসা করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত বন্ধন ব্যাংক থেকে আবার ২ লক্ষ টাকা ঋণ নেয়। সেই টাকা দিয়ে চিকিৎসা করে সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি। বর্তমানে জিবি হাসপাতালে গত আটদিন ধরে চিকিৎসারত অবস্থায় রয়েছেন। ঋণ নেওয়া টাকায় চিকিৎসা খরচ বহন করে আজ সমাপ্তির পথে। বর্তমানে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন তিনি। প্রতিদিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। হাসপাতালের শয্যায় বসে বলছেন – “সরকার তো কিছুই জানালো না! চাকরিটা যদি থাকতো তাহলে হয়তো চিকিৎসা করাটা কিছুটা হলেও সহজ হতো। জীবনে বাঁচার জন্য লড়াইটা এত কঠিন হতো না। কিন্তু বাড়ি বিক্রি করে এবং ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আজ সব কিছুই শেষের পথে। কিন্তু সুস্থ হয়ে উঠতে পারলাম না। বাঁচবো না।

 এই ঋণের টাকা পরিবার কিভাবে মেটাবে ? এই প্রশ্নগুলি কেঁদে কেঁদে একের পর এক বলছিলেন চাকরিচ্যুত শিক্ষক। যা দেখে মাধব বাবুর সহধর্মিনী রত্না দেবনাথ আর চোখে জল ধরে রাখতে পারেন নি। এমন তো হওয়ার কথা ছিল না। চাকরি হারিয়ে দিন দিন আর্থিকভাবে পরিবারকে ভেঙে পড়েছে পরিবার। আট দিন ধরে স্বামী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসার খরচ বহন করার জন্য ব্যাগে আর নেই টাকা। ঋণ নিয়ে চিকিৎসা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা যদি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন তাহলে স্বামীর চিকিৎসা করতে পারবে। এছাড়া আর বিকল্প কোন পথ নেই অসহায় মাধব দেবনাথের পরিবারের কাছে। মুখ্যমন্ত্রী যদি চিকিৎসার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করে তাহলে মাধব বাবু আবার সুস্থ হয়ে উঠতে পারবে। এটাই ভরসা এবং এটাই দাবি চাকরিচ্যুত শিক্ষকের পরিবারের। হাসপাতালে মাধব বাবুকে দেখতে গেলেন ১০,৩২৩ চাকুরিচ্যুত শিক্ষকদের সংগঠন।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য