স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ৩১ ডিসেম্বর :আন্দোলনে নামতে চলেছে জুট মিল কর্মচারীরা। আদালতে রায় সমস্ত কর্মচারীদের জন্য কার্যকর না হওয়ায় রবিবার আগরতলা প্রেস ক্লাবে ত্রিপুরা জুটমিল যৌথ আন্দোলন কমিটির পক্ষ থেকে এক সাংবাদিক সম্মেলন করে এই আন্দোলনে ঘোষণা দেয়। আগামী ১ জানুয়ারি তারা জুটমিলের গেটের সামনে গণ আবেদন দান অভিযান সংগঠিত করা হবে। সংগঠনের কনভেনার ধনমনি সিনহা এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, ত্রিপুরা জুটমিল কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে কর্মচারীদের বেতন ভাতা বঞ্চনা করে আসছে।
তাদের চক্রান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে এবং হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় ত্রিপুরা জুট মিলের কর্মচারীদের সংগঠন। তারপর আদালত নির্দেশ দেয় ১৯৯৬ সালের পয়লা জানুয়ারি থেকে কর্মচারীদের চতুর্থ বেতন পরিষদের সুপারিশ অনুযায়ী বেতন ভাতা প্রদান করার জন্য। কিন্তু সেই বেতন ভাতা প্রদান করা হয়নি। বরং আদালতের নির্দেশ কোনক্রমে কার্যকর করতে ত্রিপুরা জুটমিল কর্তৃপক্ষ গত ২৮ ডিসেম্বর নোটিশ বোর্ডে এক বিবৃতির মাধ্যমে অবগত করেন যে দুটি কমিটির পক্ষ থেকে আদালতে মামলা করা হয়েছিল সেই কমিটি দুটির সকলকে বঞ্চনা মিটিয়ে দেওয়া হবে। তাই জুটমিলের সমস্ত কর্মচারীদের এই বেতন ভাতা সহ গ্রেচ্যুইটি, লিভ সেলারি ইত্যাদি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রদান করার দাবিতে ত্রিপুরা জুটমিল যৌথ আন্দোলন কমিটি গণ আবেদন দান অভিযানে শামিল হবে।
এবং এমডি কাছে ডেপুটেশন প্রদান করে দাবি করা হবে কর্মচারীদের মধ্যে বিভাজন না করে সমস্ত কর্মচারীর বঞ্চনা মিটিয়ে দেওয়ার জন্য। ত্রিপুরা জুটমিল যৌথ আন্দোলন কমিটির পক্ষ থেকে আরো অভিযোগ তোলা হয়, শ্রম দপ্তরের লেবার কমিশনারের কাছে ২০১৭ সালে সদস্য সংখ্যা তুলে না ধরে ১৯৮৩ সালের সদস্য সংখ্যা তুলে ধরেছে জুটমিল কর্তৃপক্ষ। তাতে বহু কর্মচারীর বঞ্চনা রয়ে যাবে। এ বিষয় নিয়ে আইনজীবীদের সাথে দেখা করলে তাঁরা জানান বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং নিন্দনীয়। এভাবে কর্মচারীদের বঞ্চনা করা যায় না। আগামী ৩ জানুয়ারির মধ্যে সকলের বঞ্চনা মিটিয়ে দেওয়ার জন্য এমডি -কে বাধ্য করতে আগামী পহেলা জানুয়ারি এ আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। আরো বলেন জুটমিল কর্তৃপক্ষ যে পথ অনুসরণ করছে তা আদালতের অবমাননা ছাড়া আর কিছু নয়। কোর্টের নির্দেশ সঠিকভাবে পালন করার জন্য জুটমিল কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্যে আবেদন জানানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।

