Wednesday, November 30, 2022
বাড়িরাজ্যরাস্তায় ফেলে মারধর মহিলা কংগ্রেস কর্মীদের! আহত ৮, মামলা ১০ জনের বিরুদ্ধে

রাস্তায় ফেলে মারধর মহিলা কংগ্রেস কর্মীদের! আহত ৮, মামলা ১০ জনের বিরুদ্ধে

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ৩১ অক্টোবর : শহরের বুকে দিন দুপুরে সুশাসনকে কলঙ্কিত করেছে বাইক বাহিনী। জিবি পুলিশ ফাঁড়ির নাকের ডগায় ঘটনার সংঘটিত হলেও প্রশাসন নির্বিকার! সোমবার ৩১ শে অক্টোবর প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে ৬ আগরতলা বিধানসভা কেন্দ্রের উদ্যোগে গরীব ও ভবঘুরে মানুষদের খাবার বিতরণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।  সে মোতাবেক এদিন দুপুর থেকে খাবার বিতরণ করা শুরু হয়।

 কিন্তু দুপুর তিনটা নাগাদ আচমকা এলাকার একদল যুবক এসে কংগ্রেস কর্মী সমর্থকদের কর্মসূচির উপর তান্ডব শুরু করে। ধারালো অস্ত্র ও লাঠি সাটা নিয়ে মাত্রধর শুরু করে কংগ্রেস কর্মী সমর্থকদের। বাইক বাহিনীর দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলে আটজন গুরুতর আহত হয়। আহতরা ৬ আগরতলা যুব কংগ্রেস সভাপতি দেবাশীষ সাহা, সুনির্মল চক্রবর্তী, বিপ্লব ঘোষ, সঞ্জীব দেব, লিপিকা রুদ্ধপাল, রুপা রায় দাস, প্রতিমা মল্লিক এবং প্রিয়াংকা দে। এরমধ্যে দেবাশীষ সাহার গলায় ছুরি দিয়ে প্রাণঘাতী আক্রমণ করে দুর্বৃত্তরা রক্তাক্ত করেছে।

এমনকি দুর্বৃত্তরা খাবার সামগ্রীগুলি রাস্তায় ফেলে নষ্ট করে দিয়ে যায়। আহত কংগ্রেস কর্মীরা জানায় এদিন এলাকার ১৫ থেকে ২০ জন যুবক বাইক নিয়ে এসে ঔষধের দোকান থেকে মাক্স ক্রয় করে তাদের উপর চড়াও হয়। বাইক বাহিনীর হাত থেকে রেহাই পায়নি মহিলা কর্মীরাও। মহিলা কর্মীদের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে লাঠি দিয়ে আঘাত করে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করে বিজেপির দুর্বৃত্তরা। ভাঙচুর করে কংগ্রেস কর্মী সমর্থকদের গাড়ি, বাইক, মিউজিক সিস্টেম। নষ্ট করে দেয় সমস্ত খাবার সামগ্রী। তারা সকলে এলাকার বিজেপি কর্মী বলে পরিচিত। এমনটাই অভিযোগ কংগ্রেস কর্মীদের পক্ষ থেকে। কিন্তু বাইক বাহিনী এতে ক্ষান্ত থাকে নি। পরবর্তী সময় ১৫ থেকে ২০ টি বাইক হাসপাতাল চত্বর থেকে গিয়ে ইন্দ্রনগর স্থিত কংগ্রেস অফিসে ভাঙচুর চালায়। ৬ আগরতলা ব্লক কংগ্রেস সভাপতি মানিক চক্রবর্তীকে রাস্তায় পেয়ে মারধর করে রাস্তার পাশে ফেলে দিয়ে যায়। তারপর রীতিমতো পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে এলাকায়। এদিকে ইন্দ্র নগর এলাকায় এই ঘটনার পর এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে রাস্তা অবরোধে বসে। এলাকাবাসীর জানায় বহিরাগতদের তাণ্ডব এলাকায় চলতে দেওয়া যাবে না।

পুলিশকে জিবি বাজার এলাকা এবং আইটি ভবনের সামনে সিসি ক্যামেরা দেখে বাইকের নম্বর দিয়ে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করতে হবে বলে দাবি জানায়। না হলে অবরোধ চলবে বলে হুশিয়া দেয়। খবর পেয়ে ছুটে যায় জিবি পুলিশ ফাঁড়ি এবং অভয়নগর পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ। পুলিশের কাছে দাবি জানায় আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে হবে। শেষ পর্যন্ত পুলিশের আশ্বাস পেয়ে অবশেষে অবরোধ প্রত্যাহার করে তারা। ঘটনার খবর পেয়ে এদিকে জিবি হাসপাতালে ছুটে যায় প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি গোপাল রায়, প্রাক্তন বিধায়ক আশীষ কুমার সাহা সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। তারা জানান এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে একাধিক মামলা দায়ের করা হবে জিবি পুলিশ ফাঁড়িতে। অভিযুক্তদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার না করা হলো তারা পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বাধ্য হবে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত যুব কংগ্রেস সভাপতি রাখু দাস জানান, এ দিনের ঘটনা ৬ আগরতলা মন্ডলের যুব মোর্চার সভাপতি অরিন্দম চক্রবর্তী নেতৃত্বে সংঘটিত হয়েছে। ঘটনার পর দশজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এদিন বাইক বাহিনীর এই অতর্কিত হামলায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। যতদূর জানা যায় ঘটনা সময় পথচারীরাও আক্রমণের শিকার হয়েছে।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য