Wednesday, August 17, 2022
বাড়িরাজ্যসুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও রাজ্যের সন্ত্রাস বন্ধ নেই : সুবল

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও রাজ্যের সন্ত্রাস বন্ধ নেই : সুবল

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ২৪ নভেম্বর : নির্বাচনের পাক মুহূর্তে ফের তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা অভিযোগ উঠল বুধবার। নির্বাচনী সরব প্রচারের পরেও দুর্বৃত্তদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না তৃণমূল কংগ্রেসের মনোনীত প্রার্থী এবং কর্মী-সমর্থকরা।

বুধবার প্রদেশ তৃণমূল কংগ্রেস ক্যাম্পে সাংবাদিক সম্মেলন করে সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলেন প্রদেশ তৃণমূল কংগ্রেসের স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক সুবল ভৌমিক। তিনি বলেন, ত্রিপুরার পুর এবং নগর নির্বাচন নিয়ে সারাদেশে মাতামাতি চলছে। সুপ্রিমকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচনে যদি সি আর পি এফ -এর প্রয়োজন হয় তাহলে বুধবারের মধ্যে ত্রিপুরার রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক এর সাথে বৈঠক করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে যাতে অবহিত করা হয়। কারণ রাজ্যে নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার পর থেকে কোন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই।

রাজ্যের বিরোধী দলের প্রার্থী এবং নিয়ে কর্মী-সমর্থকদের। প্রতিনিয়তঃ আক্রান্ত হয়ে চলছে বিরোধী দলের প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা। তাই সুপ্রিমকোর্ট আধাসামরিক বাহিনী নিয়ে রাজ্য প্রশাসনকে চিন্তাভাবনা করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে। এবং ভোটের দিন নিরাপত্তা ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশের পরও মঙ্গলবার রাতে ৩৮ নং ওয়ার্ডের মনোনীত প্রার্থী স্বপ্না মল্লিকের বাড়িতে ভাঙচুর করা হয়েছে। মনোনীত প্রার্থী স্বপ্না মল্লিককে আত্মগোপন করে প্রাণ রক্ষা করতে হয়েছে। ৩ নং ওয়ার্ডের মনোনীত প্রার্থী মঞ্জু আধিকারিকের বাড়ির গেইট ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী রতন বর্মনের বাড়ি ঘর ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের বরিষ্ঠ নেতৃত্ব তাপস রায় বাড়ির সামনে রাখা গাড়িটি ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা বলে জানান তিনি। সুবল ভৌমিক আরো বলেন গত দুদিন আগে উনাকে নিরাপত্তা প্রয়োজনে দুটি এসকট দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এটিও মঙ্গলবার রাতে সাড়ে আটটা নাগাদ তুলে নেওয়া হয়েছে, ফলে নিরাপত্তা অভাবের ভুগছে বলে জানান সুবল ভৌমিক। মঙ্গলবার রাত দশটা নাগাদ সদর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক এবং পূর্ব থানার ওসি উনার বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে কেউ বহিরাগত আছে কিনা। কিন্তু বাড়িতে প্রবেশ করে এভাবে জিজ্ঞাসাবাদে তীব্র প্রতিবাদ জানান তিনি। তিনি বলেন রাজনৈতিক জীবনে এ ধরনের জিজ্ঞাসাবাদ কখনও করেনি পুলিশ। তবে সবচেয়ে বড় গুরুতর অভিযোগ হলো নির্বাচনের আগের দিন তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী সমর্থকদের মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানো প্রচেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। চিত্তরঞ্জন এলাকার কয়েকজন তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী সমর্থকদের বুধবার দুপুরে পূর্ব থানায় ডাকা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য মামলা ফাঁসানোর প্রচেষ্টা করা হচ্ছে নির্বাচনের আগের দিন। শুধু তাই নয় ১৪ নং ওয়ার্ডের পোলিং এজেন্টকে ভয় দেখানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে যাতে তিনি পোলিং এজেন্ট হিসেবে ভোটের দিন না থাকেন। এবং উনাকে বলে দেওয়া হয়েছে বিজেপির গুন্ডারা যে পোলিং এজেন্ট ঠিক করে দেবে সেই তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে থাকবেন। এছাড়াও আগরতলা পুর নিগমের অন্যান্য পোলিং এজেন্টকে ভোটের দিন দায়িত্ব পালন না করার জন্য বলা হচ্ছে। ভগৎ সিং যুব আবাস, উষা বাজার একটি বিয়ে বাড়িতে ও শহরের বিভিন্ন হোটেলে রাজ্যের বিভিন্ন স্থান থেকে এসে কিছু যুবক থাকছে। নির্বাচন কমিশনার এবং পুলিশের কোন ধরনের ভূমিকা নেই। মানুষের বাড়িঘরে পর্যন্ত ভোটার স্লিপ দেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু জনগণের উদ্দেশ্যে জানানো হচ্ছে যাতে মানুষ নির্বিঘ্নে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নিজের নাম বের করে ভোট দিয়ে আসে। তার জন্য আহ্বান জানান সুবল ভৌমিক।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য