Wednesday, August 17, 2022
বাড়িরাজ্যআন্দোলনে নামছে উপজাতি গণমুক্তি পরিষদ

আন্দোলনে নামছে উপজাতি গণমুক্তি পরিষদ

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ২৪ নভেম্বর :বুধবার ত্রিপুরা উপজাতি গণমুক্তি পরিষদের কর্ম পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রাজনৈতিক, সাংগঠনিক বিষয়ে এদিন বৈঠকে আলোচনা হয়। আগামী ২৫ নভেম্বর ভোটের পর রাজ্যে কাজ, খাদ্য ও কর্মসংস্থানের অভাব এবং অতিরিক্ত দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধির বিরুদ্ধে জমায়েত, মিছিল, আন্দোলন, কনভেনশন সংঘটিত করা হবে। পাশাপাশি ব্লক, মহকুমার শাসক, জেলাশাসক পঞ্চায়েত গুলিতে আধিকারিকের কাছে ডেপুটেশন প্রদান করা হবে। ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে রাজ্যে।

 বুধবার রাজ্য কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে এ কথা জানান ত্রিপুরা উপজাতি গণমুক্তি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাধাচরণ দেববর্মা। তিনি বলেন আগামী ২৭ ডিসেম্বর ৭৭ তম ঐতিহাসিক জনশিক্ষা দিবস। জন শিক্ষা দিবস উপলক্ষে সাত দিনব্যাপী চলবে নানা কর্মসূচি। জনশিক্ষা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে কর্মশালা, শোভাযাত্রা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা হবে। ২ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে কর্মসূচি। এই কর্মসূচি বিশেষভাবে পালন করার মূল উদ্দেশ্য হলো আধা ফ্যাসিস্ট সুলভ সরকার চলছে। এবং বর্তমান সময়ে এ জনশিক্ষার বিশেষ গুরুত্ব বহন করে দশরথ দেব। দশরথ দেবের গুরুত্বপূর্ণ দিক কর্মসূচিগুলিতে তুলে হবে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ১২৫ তম পার্লামেন্ট সংবিধান সংশোধনী বিল উপস্থাপন করা হয়েছিল। এটি আগামী শীতকালীন পার্লামেন্ট অধিবেশন পাশ করার জন্য দাবি জানানো হচ্ছে।

এছাড়াও ককবরক ভাষা অষ্টম তপশীল ভাষা হিসেবে পাশ করতে দাবি তোলা হচ্ছে। রাজ্যের জন্য জনজাতিদের দীর্ঘদিনের দাবি। এতে ভাষার বিকাশ হবে। আর এটা একটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বিজেপি সরকার আসার পর ৬২ টি স্কুল এবং ২২ টি কলেজে ককবরক ভাষা পঠন-পাঠন বন্ধ হয়ে যায়। ককবরক ভাষা কংগ্রেস আমলে অবজ্ঞা করা হতো। বাম আমলে ভাষার বিকাশ ঘটানো হয়। এখন নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে। দেবনাগরী হবে নাকি রোমান হরফে হবে। এ ভাষার বাংলা সাথে শুভ্রাতৃত্ব রয়েছে। এখন দেবনাগরী হরফে এ ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে। একটি প্রতিযোগিতা জানানো হয় বলে জানান তিনি। দেশে ৭-৮ হাজার মানুষ ককবরক ভাষায় কথা বলে। তাই এ ভাষা নিয়ে ভূমিকা গ্রহণ করা দরকার। পাশাপাশি রিয়াং শরণার্থীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন উপজাতি গণমুক্তি পরিষদের একটি প্রতিনিধি দল গত কয়েকদিন আগে পানিসাগর মহাকুমা খেদাছড়া ভিলেজ কমিটিতে গিয়ে দেখা গেছে ৫১২ পরিবারকে ২২ হেক্টর জমিতে ঘর করে  দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যে টিলাতে শরণার্থীরা থাকতে পারবে না। সেখানে ২২২ পরিবারে বেশি থাকার ব্যবস্থা নেই। বিষয়টি নিয়ে আওয়াজ তোলার পর গত ১ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত রেশন বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এতে সরকারের একটা অমানবিক দিক। তাই সেখানে ২২২ পরিবারের ঘর নির্মাণের পর বাকিদের ৪০ হেক্টর জমিতে ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা দরকার। প্রয়োজনে ফরেস্ট ল্যান্ড থেকে জমি অধিগ্রহণ করে তাদের ঘর নির্মাণ করতে হবে সরকারের কাছে দাবি জানান। এবং তাদের যেখানে ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হবে সেখান বাজার, স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, খেলার মাঠের সুবিধা থাকতে হবে। কিন্তু সরকার এ বিষয়ে দায়সারা মনোভাব নিয়ে এগোচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেন তিনি।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য