স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২২ জুলাই : শুরু হয়েছে রাজ্যের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী উৎসব খার্চি পূজা। প্রতি বছর আষাঢ় মাসে শুক্লাষ্টমী তিথিতে চিরা চরিত প্রথা অনুযায়ী চৌদ্দ দেবতার বিগ্রহ গুলিকে মন্দির থেকে বের করে মন্দিরে পুজো করা হয়। ১৭৬০ সালে খয়েরপুর পুরাতন আগরতলায় চতুর্দশ দেবতা মন্দিরে খার্চি পূজা শুরু হয়। ১৯৮৪ সালের ১৫ অক্টোবর থেকে এই উৎসবের দায়িত্ব নেয় সরকার। প্রতি বছর আষাঢ় মাসে শুক্লাষ্টমী তিথিতে হাভেলির চতুর্দশ দেবতা বাড়িতে এই পূজা শুরু হয়। একইভাবে বুধবার পূজা শুরু হয়।
উলুধ্বনি, শঙ্খ ধ্বনি, ধূপ মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রচুর ভক্তরা মঙ্গল কামনায় দেব দেবীকে দর্শন করতে হাজির হয়। সপ্তাহব্যাপী এই উৎসব ঘিরে পুরাতন হাভেলি উৎসবের রূপ নেয়। এবারের থিম হল একটি গাছ মায়ের নামে। পরে মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে সকাল সাড়ে ১১ টায় মেলা ও প্রদর্শনের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বক্তব্য রেখে বলেন, খার্চি পূজা জাতি জনজাতির ঐক্যের এক উজ্জ্বল প্রতীক। খার্চি উৎপত্তিস্থল ‘খা’ শব্দ থেকে। যার অর্থ হল পৃথিবী। বর্তমানে এই পূজা শুধুমাত্র ধর্মীয় পূজা নয়। রাজ পরিবারের পূজা হলেও দেখা যায় বর্তমানে খার্চি সার্বজনীন পূজা হয়ে গেছে। দেশ-বিদেশ থেকে বহু পর্যটক এই পূজায় অংশ নেয়। এই পূজায় ঐক্যের ছাপ থাকে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন খার্চি উৎসবের মধ্যে দিয়ে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান হয়। সামাজিক অবস্থা সুদীঢ় হয়। আগামী দিন ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে উন্নয়ন এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তাহলেই এক ত্রিপুরা, শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা এবং এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত গড়ে উঠবে। ২০৪৭ সালের উন্নত ভারত সম্ভব হবে। কারণ ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং উন্নয়ন একে অপরের পরিপূরক। অনুষ্ঠান শেষে মুখ্যমন্ত্রী ২২ টি স্টলের উদ্বোধন করেন। এদিন মুখ্যমন্ত্রী চতুর্দশ দেবতা মন্দিরের প্রবেশ করে পূজা দেন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মেলা কমিটির চেয়ারম্যান তথা বিধায়ক রতন চক্রবর্তী, আগরতলা পুর নিগমের মেয়র দীপক মজুমদার সহ অন্যান্যরা।

