বাড়িরাজ্যদিল্লির আন্দোলন আঁচ পড়ল রাজ্যে, বিজেপি এবং কংগ্রেসের মিছিলের মুখোমুখি হয়ে উত্তেজনা...

দিল্লির আন্দোলন আঁচ পড়ল রাজ্যে, বিজেপি এবং কংগ্রেসের মিছিলের মুখোমুখি হয়ে উত্তেজনা আগরতলায়, কৈলাশহরের থানা ঘেরাও কংগ্রেসের, নিন্দা আমরা বাঙালি

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২২ জুলাই : সোনম ওয়াংচুকের অনশন নিয়ে কার্যত নীরব ছিলেন রাহুল গান্ধী। একই ইস্যুতে পৃথক কর্মসূচি করলেও আরশোলার ছোঁয়াচ এড়িয়ে চলছিল কংগ্রেস। কিন্তু সোমবার ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভে পুলিশের নির্যাতনের অভিযোগ তুলে আচমকা পথে নেমে পড়েন রাহুল। খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে গিয়ে ধর্না শুরু করেন। তারপরেই ময়দানে নেমে পড়েন কংগ্রেস ও বিজেপি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। আর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আন্দোলন ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে গোটা দেশে। ব্যতিক্রমী নয় ত্রিপুরা। বুধবার আগরতলা শহরে এবং কৈলাসহরে আন্দোলনে নামে রাজনৈতিক দলগুলি। বুধবার বিকেলে আগরতলা শহরে এক বিক্ষোভ মিছিল সংঘটিত করে প্রদেশ বিজেপি।

প্রদেশ বিজেপি কার্যালয় থেকে মিছিলটি বের হয়ে আগরতলা শহরে বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে। মিছিলে উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ বিজেপি সভাপতি অভিষেক দেবরায়, শিক্ষামন্ত্রী রতন লাল নাথ সহ অন্যান্যরা। প্রদেশ সভাপতি মিছিল করে রাজধানীর পোস্ট অফিস চৌমুহনি স্থিত প্রদেশ কংগ্রেস ভবনের সামনে গিয়ে বক্তব্য রেখে বলেন, দিল্লি ছাত্র আন্দোলনের দেখা গেছে কংগ্রেস গিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়াতে চাইছে। অথচ ছাত্রছাত্রীরা যে ইস্যুতে আন্দোলনে নেমেছে সেই বিষয় নিয়ে কোন কথা বলছে না। এর পিছনে একটা চক্রান্ত কাজ করছে। তাই এ ধরনের চক্রান্তের বিরুদ্ধে সব সময় ভারতীয় জনতা পার্টি লড়াই করতে প্রস্তুত। তিনি আরো বলেন, দেশের সব অংশের মানুষ নরেন্দ্র মোদির পক্ষে আছে। এবং রাহুল গান্ধী কিভাবে বিদেশ গিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে সেটা সকলে জানা। সুতরাং, দেশকে দ্বিখন্ডিত করতে এই ধরনের চেষ্টা বলে দাবি করেন তিনি।

স্বাধীন ভারতে ইতিহাস সাক্ষী হয়েছে মঙ্গলবার এর ঘটনাটি। কংগ্রেসের যুবরাজ রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস নেত্রী প্রীয়াংকা ভদ্রা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে যেভাবে ধর্না করেছে তা অত্যন্ত নোংরা রাজনীতি বলে জানান তিনি। এদিকে প্রদেশ কংগ্রেস, যুব কংগ্রেস এবং এনএসইউআই-র পক্ষ থেকে যৌথভাবে আন্দোলন সংগঠিত করা হয় আগরতলা শহর। আন্দোলন থেকে আঙ্গুল তুলে দাবি করেন নির্বিচারে ছাত্র আন্দোলনের উপর পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে। এরই প্রতিবাদের সরব হয়েছেন তারা। তাদের অভিযোগ ১২ বছরের নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে নিট সহ ১৫২ টি প্রশ্নপত্র পাস ও জালিয়াতি হয়েছে। এরই প্রতিবাদের যখন ছাত্ররা রাস্তায় নেমেছে তখন তাদের উপর বর্বরোচিত ভাবে লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। এর প্রতিবাদে সরব কংগ্রেস। বুধবার আগরতলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল সংগঠিত করে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের কুশপুত্তলিকা পুড়ানো হয়। উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন। তিনি বলেন, দেশে যা চলছে তার বিরুদ্ধে স্বার্থে সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। ছাত্র-ছাত্রীদের ঝাঁপিয়ে পড়া ছাড়া আর কোন রাস্তা নেই। তাদের আন্দোলন করেই অধিকার হাসিল করতে হবে বলে দাবি করেন তিনি। এদিন

কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে তৃতীয় দিনেও বিক্ষোভ কর্মসূচি জারি পড়ুয়াদের। সোমবার থেকে রাজধানীর সার্কিট হাউসের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করে পড়ুয়ারা। সেই কর্মসূচি বুধবারও জারি রয়েছে। আন্দোলনরত পড়ুয়ারা স্পষ্ট জানায় যতক্ষণ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী পদত্যাগ না করবেন ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের এই আন্দোলন কর্মসূচি জারি থাকবে। একাধিক পরীক্ষার প্রশ্ন পত্র ফাঁস হয়েছে। কিন্তু এই নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী। ২০ থেকে ২২ জন পড়ুয়া আত্মহত্যা করেছে। ছাত্ররা দিল্লিতে আন্দোলনে রাস্তায় নামলে তাদের উপর লাঠি চার্জ করা হয়েছে। তবে এদিন ছাত্রদের আন্দোলন চলাকালীন সময়ে সার্কিট হাউস এলাকা দিয়ে মিছিল করে যায় কংগ্রেস। এবং ছাত্র আন্দোলনকে দেখে উৎসাহিত হয় কংগ্রেস। তখন ছাত্রীদের কর্মসূচির সামনে দিয়ে বিজেপি -র বাইক ও অটো মিছিল যাওয়ার সময় পরিস্থিতি উত্তেজিত হয়ে ওঠে। পর্যাপ্ত পুলিশ কর্মী থাকার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে। অপরদিকে দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশের দমন-পীড়নের অভিযোগ এবং বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সহ একাধিক নেতাকে আটক করার ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার কৈলাসহর জেলা কংগ্রেসের উদ্যোগে কৈলাসহর থানা ঘেরাও কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচিতে অংশ নেন কৈলাসহরের বিধায়ক বিরজিৎ সিনহা, জেলা কংগ্রেস সভাপতি বদরুজ্জামান সহ দলের নেতা-কর্মীরা। বিক্ষোভকারীরা কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং ছাত্রদের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অধিকার রক্ষার দাবি জানান। বিধায়ক বিরজিৎ সিনহা বলেন, ছাত্রদের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করে সরকার দমনমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। জেলা কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার আহ্বান জানানো হয়। বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে কিছু সময় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেও পুলিশের তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। যন্তর মন্তরে পুলিশের ভুমিকা নিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আমরা বাঙালী। বুধবার আমরা বাঙালি রাজ্য কার্যালয়ে আমার বাঙালি দলের রাজ্য সম্পাদক গৌরাঙ্গ রুদ্রপাল সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন, বিজেপি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় বসে জনগণ ও ছাত্র ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে, তা হতে পারে না। তিনি আরো বলেন সাংসদ চলো অভিযানকে কেন্দ্র করে পুলিশের লাঠিচার্জ সত্যিই নিন্দনীয়। কারণ গণতান্ত্রিক দেশে আন্দোলন করার ও দাবি জানানোর অধিকার সকলের আছে। আর একটি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস সহ অনেক কিছু ব্যাবহার করে আন্দোলন কে স্তব্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা।আমরা বাঙালী দলের পক্ষ থেকে পুলিশের লাঠিচার্জের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং ছাত্র ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি না খেলার আহ্বান জানান। নাহলে ভবিষ্যতে এর বিরুদ্ধে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে বলে জানান তিনি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য