স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২০ জুলাই :কোটি কোটি টাকার প্রকল্প আর প্রতিশ্রুতির ঝড়— সবই যেন কাগজে-কলমে। বাস্তবে আজও উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছায়নি কমলপুর শহর সংলগ্ন বালিগাও থেকে পুটিয়াছড়া পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক সংস্কারের। সরকার পাল্টেছে, জনপ্রতিনিধি পাল্টেছে, কিন্তু এই রাস্তার দুর্ভোগের চিত্র আজও একই রয়ে গেছে।
রাস্তার কিছু অংশে বহু বছর আগে নামমাত্র ভগ্ন ইট ফেলে কাজ সারার চেষ্টা করা হলেও বর্তমানে সেই ইটগুলো ভেঙে খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। আবার বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে ইটের অস্তিত্বই নেই। লাল মাটির কাঁচা রাস্তা এখন এলাকাবাসীর একমাত্র ভরসা। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তা কাদার সাগরে পরিণত হয়, আর রোদ উঠলেই ধুলোর ঝড়ে পথচলা হয়ে ওঠে দুর্বিষহ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই রাস্তার ওপর নির্ভরশীল প্রায় ৬০০ জনেরও বেশি মানুষ। প্রতিদিন স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী, কৃষক, শ্রমিক, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই রাস্তা ব্যবহার করতে হয়। বিশেষ করে বর্ষাকালে ছোট ছোট শিশুদের স্কুলে পৌঁছানোই যেন এক যুদ্ধ। অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া, গর্ভবতী মহিলাদের চিকিৎসার জন্য পরিবহন ব্যবস্থা কিংবা জরুরি পরিষেবা— সব ক্ষেত্রেই এই ভাঙাচোরা রাস্তা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক সময় যানবাহন মাঝপথেই আটকে পড়ে, ফলে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয় এলাকাবাসীকে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বামফ্রন্ট সরকারের সময়ও এই রাস্তার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি মিলেছিল। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরও একাধিকবার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে স্থায়ী উন্নয়নের কোনো কাজ আজও শুরু হয়নি।
এলাকাবাসীর দাবি বালিগাও থেকে পুটিয়াছড়া পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কটি দ্রুত পাকা করে যাতায়াতের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের বক্তব্য, এটি শুধু একটি রাস্তা নয়— প্রায় ৬০০ মানুষের দৈনন্দিন জীবন, শিক্ষা, চিকিৎসা ও জীবিকার সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা কি এবারও শুধু আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ থাকবেন, নাকি দীর্ঘদিনের এই জনদুর্ভোগের স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন।

