বাড়িরাজ্যজগন্নাথ মন্দিরে সেড নির্মাণ কাজ রথ যাত্রার দিন স্থগিত করে দিলেন বিধায়ক...

জগন্নাথ মন্দিরে সেড নির্মাণ কাজ রথ যাত্রার দিন স্থগিত করে দিলেন বিধায়ক জিতেন্দ্র চৌধুরী

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৯ জুলাই : রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা ৪০ সাব্রুম বিধানসভা কেন্দ্রের সি পি আই এম দলের বিধায়ক জিতেন্দ্র চৌধুরী শিষ্যদের স্বার্থে নিজ বিধানসভা উন্নয়নের জন্য তাঁর বিধায়ক উন্নয়ন তহবিল থেকে রতনমনি এডিসি ভিলেজ এলাকায় বুদ্ধ মন্দির সংস্কার, বিজয়নগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার অন্তর্গত বরখোলা হরিচাঁদ ঠাকুর মন্দির সংস্কার এবং পূর্ব হরিণা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত হরিণা বাজার সংলগ্ন জয় জগন্নাথ মন্দিরের সেড নির্মাণের জন্য অর্থ প্রদান করেন। গত ১২ জানুয়ারি বিধায়ক জীতেন্দ্র চৌধুরী রতন মনি বুদ্ধ মন্দির ও বরখোলা হরিচাঁদ ঠাকুর মন্দিরের নিজে সশরীরে থেকে সরকারি আধিকারিকদের নিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে নির্মাণ কাজ শুরু করেছিলেন। জীতেন্দ্র চৌধুরী তাঁর বিধায়ক উন্নয়ন তহবিল থেকে এই পূর্ব হরিণা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত হরিণা বাজার সংলগ্ন জয় জগন্নাথ মন্দিরের সেড নির্মাণ করার জন্য ৮ লক্ষ ৩৮ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল।

 সাতচাঁদ গ্রাম উন্নয়ন দপ্তর থেকে এই নির্মাণ কাজের বরাত পেয়েছেন সাব্রুমের লিটন দে নামে এক ঠিকাদার। যার Work Onder No:- NO.F.5(326)-EE/RDD/STC/OAS/HRA/BEUP-40/2025-26. Total Amount Cost:- 8,38,000/-। রথ যাত্রার দিনই বিধায়ক জীতেন্দ্র চৌধুরীর আদেশ অনুসারে সাব্রুম মহাকুমা শাসক সুমন রক্ষিত এই মন্দিরের বরাদ্দকৃত নির্মাণ কাজ বাতিল করে সাতচাঁদ গ্রাম উন্নয়ন দপ্তরকে নোটিশ দেন। নোটিশের ফাইল নাম্বার NO.F.11(2)SDM/SBM/BEUP-40/2023/4321. কিন্তু বাহুবলিদের কারণে কাজটি বন্ধ হয়ে যায়। রথ যাত্রার পরের দিন এই খবরটি পূর্ব হরিণা গ্রাম পঞ্চায়েতের জয় জগন্নাথ দেবের মন্দিরের সদস্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তেই গুঞ্জন শুরু হয়। শুরু হয় রাজনৈতিক তরজা। আর এই বিষয় নিয়ে জগন্নাথ মন্দিরের সম্পাদক সুদর্শন চক্রবর্তী জানান, মন্দির সেট নির্মাণ করার জন্য নাকি সাব্রুমের এলাকার বিধায়ক জীতেন্দ্র চৌধুরী উন্নয়ন তহবিল থেকে ৮ লক্ষ ৩৮ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়েছিল, কিন্তু সরকারি ভাবে কোন কাগজপত্র তারা হাতে পায়নি। তিনি আরো জানান, কে বিধায়কের সাথে যোগাযোগ করেছেন এবং সাতচাঁদ গ্রাম উন্নয়ন দপ্তরের সাথে যোগাযোগ করেছেন তাও তিনি জানান না। তিনি আরো জানান, এইভাবে কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়া খুবই দুর্ভাগ্যজনক। আর এই বিষয় নিয়ে রাজ্যের জীতেন্দ্র চৌধুরীর সাথে মোবাইল ফোন যোগাযোগ করলে তিনি জানান, তাঁর কাছে আবেদন আসার সাথে সাথে কিছুদিনের মধ্যেই ফান্ড রিলিজ করেন। টেন্ডারে ওয়ার্কঅর্ডার মূলে ঠিকেদার ঠিক হয়েছিল। কিন্তু আগের দিন বাহুবলিরা গিয়ে জগন্নাথ মন্দিরের সেড নির্মাণের কাজে বাধা সৃষ্টি করেছে। বিরোধী দলনেতা আরো জানান, তিনি দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় ছিলেন, অথচ কেউ তাঁর সাথে যোগাযোগ করে নি। মন্দির কমিটি থেকে কিন্তু কেউই যোগাযোগ করে নি। তারা জগন্নাথ দেবের মন্দির নিয়ে রাজনীতি করছে। জগন্নাথ দেবের মন্দির কমিটির শিষ্যরা নিজেরাই চায় না মন্দিরের উন্নয়ন হোক। নাহলে এতদিনে কাজটি শেষ হয়ে যেত। একই সঙ্গে তিনি বাহুবলিদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, যারা কাজে বাধা দিয়েছে তারা হিন্দু ঠিকাদার। তাদের জন্য যা করেছেন সেটা ভালোই করেছেন। সরকারি টাকা ফেলে রাখা যায় না। ছয় মাস অপেক্ষা করেছেন। তাই এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। এবং এই পাপের জন্য তারা জবাবদেহি হবে বলে দাবি করলেন এলাকার বিধায়ক জিতেন্দ্র চৌধুরী। বিধায়ক আরো বলেন, তিনি যদি কাজ বন্ধ করার নির্দেশ না দিত তাহলে মহকুমা শাসকের ক্ষমতা থাকতো না এই কাজ বন্ধ করার।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য