স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২০ জুলাই : সোমবার মৃত্যু হল রাজ্য পুলিশের মহা নির্দেশক অনুরাগ ধ্যানকরের। আধিকারিক এর মৃত্যুর পর জিবি হাসপাতালে ছুটে গেলেন রাজ্যের মন্ত্রিসভার সদস্যরা এবং রাজ্যের বিরোধী দলের বিধায়ক গণ। পাশাপাশি জীবী হাসপাতালে মর্গে ছুটে গেলেন প্রদেশ বিজেপি সভাপতি অভিষেক দেবরায়। তিনি এই ঘটনার শোক জ্ঞাপন করে পরিবার পরিজনদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। এদিকে রাজ্যের কৃষি মন্ত্রী রতন লাল নাথ বলেন, মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ময়নাতদন্তের আগে কোন কিছু বলা যাবে না। সোমবার অনুরাগ ধ্যানকরের মৃত্যুর খবর পেয়ে জিবি হাসপাতালে ছুটে যান জিতেন্দ্র চৌধুরী, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার, প্রাক্তন মন্ত্রী মানিক দে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো এদিন জিবি হাসপাতালে সিপিআইএমের প্রতিনিধি দল যাওয়ার পর রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারকে বাধা দেন পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা শাসক ডঃ বিশাল কুমার বলে অভিযোগ। সঙ্গে সঙ্গে তিনি জেলাশাসকের সঙ্গে তর্ক বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেন। তারপর মৃতদেহ দেখে শোক প্রকাশ করে সংবাদ মাধ্যমকে বললেন অত্যন্ত ভালো আধিকারিক ছিলেন তিনি। ময়না তদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত কিছু বলা যাবে না। রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত উচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতির তত্বাবধানে করার দাবি জানান বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী।

জিতেন্দ্র চৌধুরী সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান অনুরাগ ধ্যানকরের অস্বাভাবিক মৃত্যু ত্রিপুরা রাজ্যে যে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে তার কারনে হয়েছে। আত্মসম্মান বোধ সম্পন্ন অফিসার ছিলেন অনুরাগ ধ্যানকর। তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন না। বিগত সাড়ে ৮ বছর ধরে রাজ্যে আইএএস, আইপিএস অফিসারদের অপদস্থ করা হচ্ছে। তাদের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। তারই কারনে এইদিনের ঘটনা। তিনি এই ঘটনার তদন্ত উচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতির তত্বাবধানে করার দাবি জানান। অফিস কক্ষে ইউনিফর্ম পরিধান অবস্থায় রাজ্য পুলিসের মহানির্দেশকের অস্বাভাবিক মৃত্যু। দেশের মধ্যে এইটা একটা নজির বিহীন ঘটনা। এই ঘটনার পিছনে গভীর রহস্য লুকিয়ে থাকতে পারে। তাই এই ঘটনার তদন্ত উচ্চ আদালতের বিচারপতির তত্বাবধানে করা উচিত। সোমবার জিবি হাসপাতালে রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক অনুরাগ ধ্যানকরের মৃতদেহ দেখতে গিয়ে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এই দাবি জানান কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ। তিনি আরও জানান কোন পরিস্থিতিতে অনুরাগ ধ্যানকর এই সিদ্ধান্ত নিলেন তা খুজে বের করা দরকার। কারন জানা গেছে বিগত দুই থেকে তিন দিন ধরে তিনি অত্যন্ত চাপে ছিলেন। এদিকে মৃত্যুর কারণ নিয়ে বিরোধীদের মনে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। যে যার মত করে ব্যাখ্যা দিতে শুরু করেছেন। সোমবার বিকেলে আগরতলা শহরে প্রধান বিরোধী দল সিপিআইএম এর পক্ষ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল সংঘটিত করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করা হয়।

