স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৪ জুলাই :রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য দপ্তরেরও মন্ত্রী। গত সোমবার মুখ্যমন্ত্রী জি বি হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে রাজ্যের চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে অত্যন্ত সম্মানীয় ভাবে কথা বলেছেন। কোথাও কোন ভুল ত্রুটি থাকলে সেটা নিয়ে স্বাস্থ্য সচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। সমস্যা গুলি শোধরানোর জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু, কাউকে মুখ্যমন্ত্রীর ধমকিয়ে চমকিয়ে কথা বলতে লক্ষ্য করা যায়নি।
অথচ বর্তমান সরকারের অন্যান্য বিধায়ক, বিধায়িকারা রাজ্যের জেলা ও মহকুমা হাসপাতাল গুলি পরিদর্শনে গিয়ে ভাবছেন “হাম সে বড়া কন হে” ! এই আচরণ রাজ্যের মুখ্য সচিব কল্যাণী রায়ের পর এবার উঠে আসলো ধর্মনগরের বিধায়কের কাছ থেকে। মঙ্গলবার দুপুরে পরিদর্শনে যান ধর্মনগর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক জহর চক্রবর্তী। পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা এবং কিছু পরিষেবা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড চত্বর ঘুরে দেখার সময় বিধায়কের নজরে আসে একাধিক ডাস্টবিন আবর্জনায় উপচে পড়ছে। এ নিয়ে তিনি সঙ্গে সঙ্গে সুপারভাইজারকে ডেকে কারণ জানতে চান।
সুপারভাইজার বিভিন্ন কারণ দেখানোর চেষ্টা করলেও তাতে সন্তুষ্ট হননি বিধায়ক। মহিলা সুপারভাইজারকে ধমকিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, কি বুঝাতে চাইতাছেন আমারে? মহিলা সুপারভাইজার বারবারই বলছিলেন, ডাস্টবিনের মধ্যে আজকে আবর্জনা গুলি জমেছে। কিছুক্ষণের মধ্যে সরিয়ে নেওয়া হবে। কিন্তু বিধায়ক বারবারই বলছিলেন এগুলি আগের দিনের আবর্জনা। এরপর হাসপাতালের পিছনের অংশ পরিদর্শনে গিয়ে তিনি দেখেন, রোগীদের ব্যবহৃত বেডশিট, চাদর ও অন্যান্য কাপড় হাসপাতাল চত্বরে ধোয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপার ডা. ভাস্কর ভট্টাচার্যকে ডেকে জানতে চান, এভাবে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে কাপড় ধোয়া নিয়ম সঙ্গত কিনা। তবে এ বিষয়ে মেডিক্যাল সুপার সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন বিধায়ক। এতে তিনি আরও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। জহর চক্রবর্তী বলেন, হাসপাতালের কাপড় পরিষ্কারের দায়িত্ব যে সংস্থার উপর ন্যস্ত রয়েছে, তাদের নির্ধারিত স্থানে নিয়ে গিয়ে সেগুলি ধোয়া উচিত। হাসপাতাল চত্বরে এভাবে কাপড় ধোয়া স্বাস্থ্যবিধি ও নিয়মের পরিপন্থী বলেও তিনি মন্তব্য করেন। পরিদর্শন শেষে বিধায়ক বলেন, কোনো ধরনের অনিয়ম, অব্যবস্থা বা অন্যায় মেনে নেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

