স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা।১২ জুলাই : আগরতলা শহরের পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় চুরি ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে চলেছে। অথচ রাজ্যের পুলিশ আধিকারিকরা মুখে সুশাসনের মন্ত্র জপ করে শুধুমাত্র দাবি করে চলেছে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ভালো জায়গায় রয়েছে। পুলিশ মামলা গ্রহণ না করলেও দাবি করছে মামলার সংখ্যা বিগত কয়েক বছরগুলির তুলনায় হ্রাস পেয়েছে। কিন্তু গত কয়েক দিনে স্মার্ট সিটিতে একাধিক চুরি, ছিনতাই এবং পেট্রোল বোমা ফেলার ঘটনা সামনে আসার পাশাপাশি বিশালগড় বাইপাসে চাঁদা নিয়ে হাতাহাতির ঘটনা এবং বিশালগড় মুড়াবাড়িতে নেশা সামগ্রী পাচার নিয়ে অপহরণ কান্ড ঘটেছে। বাদ যাচ্ছে না রাজ্যের অন্যান্য মহকুমা।
শনিবার রাতে মেলাঘর লাল মিয়া চৌমুহনী এলাকায় দুটি দোকানে এক দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। চোরের দল অত্যন্ত চতুরতার সাথে একটি টাইলসের দোকান এবং একটি মুদি দোকানকে লক্ষ্যবস্তু বানায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে একদল দুষ্কৃতী লাল মিয়া চৌমুহনী এলাকার একটি টাইলসের দোকানে হানা দেয়। চোরেরা দোকানের ওপরের টিন কেটে ভেতরে প্রবেশ করে এবং ক্যাশবাক্স ভেঙে নগদ টাকা লুটে নেয়। শুধুমাত্র টাইলসের দোকানই নয়, এর পাশাপাশি চোরের দল পাশের একটি মুদি দোকানকেও নিশানা বানায়। অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে মুদি দোকানের ভেতরে প্রবেশ করে। দোকানের মালিকের দাবি, ক্যাশ টাকা সহ দোকান থেকে প্রায় নগদ ৭০ হাজার টাকার বিভিন্ন মূল্যবান দ্রব্যসামগ্রী চুরি করে চম্পট দেয় চোরেরা।
রবিবার সকালে দোকানের মালিকরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলতে এসে চুরির এই ভয়াবহ কাণ্ডটি প্রত্যক্ষ করেন। তারপর খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। এদিকে জোলইবাড়ী ফাঁড়ির পুলিশের কুম্ভনিন্দ্রার ফলে দিনের পর দিন চুরির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। শনিবার রাতে জোলাইবাড়ী বাজারে ব্যাবসায়ী সংঘ পরিচালিত শনি মন্দিরে ও পশ্চিম জোলাইবাড়ী এলাকায় একটি কালিমন্দিরের প্রানামী বাক্স ভেঙ্গে চুরি সংঘগঠিত করলো নিশিকুটম্বের দল। শনি মন্দির প্রাঙ্গনে একটি দোকানের সি সি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে জানা যায় দুই জনজাতি যুবক এই চুরির ঘটনা সংগঠিত করেছে। রবিবার সকালে চুরির বিষয়ে জানতে পেরে স্থানীয়রা জোলাইবাড়ী ফাঁড়ী থানায় খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিয়ে যায়। তবে মেলাঘর এবং শান্তিরবাজারের পৃথক দুটি চুরির ঘটনা ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। দুই জায়গার আমজনতার পক্ষ থেকেই দাবি উঠেছে অবিলম্বে চোর পাকড়াও করার জন্য।

