স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা।১২ জুলাই : “আমার কেউ নেই” – এই মানসিক শোক ইস্পিতার মা পাপিয়ার। দু-চোখে জল ধরে রাখতে পারলেন না তিনি। মেয়েকে বাঁচানোর জন্য রাজ্যবাসী এবং সরকারের কাছে একটাই আবেদন “যেভাবেই হোক মেয়েকে বাঁচান।” ইস্পিতা স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রোফি রোগে আক্রান্ত। অন্যান্য শিশুর মতোই ইস্পিতা ফুটফুটে ছিল। জন্মের কয়েক মাস পর তার শরীরে সৃষ্টি হয় এই বিরলতম রোগ। ধীরে ধীরে বিষয়টি নজরে আসে পরিবারের। সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পর জিবি হাসপাতালে রেফার করা হয়।
জিবি হাসপাতালে দীর্ঘ দুই মাস চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকার পর বাড়ি ফিরে যায়। কিন্তু এই কঠিন সংগ্রাম জয় করে উঠতে পারল না ইস্পিতা। এখনো সে এই রোগে আক্রান্ত। ধীরে ধীরে তার মেরুদন্ড এবং স্নায়ু কোষের ক্ষতি করে চলছে এই রোগ। শরীরের বিভিন্ন পেশিগুলি শুকিয়ে যাচ্ছে। ধীরে ধীরে চলন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে ইস্পিতা। মেয়ের এই রোগের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ১৮ কোটি টাকা। ইস্পিতার বাবার সেলুনে দোকান দিয়ে মেয়ের চিকিৎসা করানো সম্ভব নয়। মাথা গোজার জন্য বাড়িতে একটি ভালো ঘর নেই। কমলপুর মহকুমা মানিক ভান্ডার ২ নং কলাছড়ি গ্রামের বাসিন্দা অসহায় পরিবার। শিশু কন্যার বাবার নাম ইন্দ্রজিৎ নমঃশূদ্র। রবিবার প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিকের কাছে যান শিশু কন্যার পরিবার। মেয়েকে কোলে নিয়ে তার মা পাপিয়া চোখের জল ফেলে বললেন আমার কেউ নেই। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক বলেন, ইস্পিতা এখন শুধু আপনার মেয়ে নয়, সে রাজ্যের সবার মেয়ে। সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক বলেন, মনোশ্রীর সঙ্গে ইস্পিতার জন্যও সকলে এগিয়ে আসুন।
গত কয়েকদিনে জিবি হাসপাতালের নিউরো বিভাগের চিকিৎসকদের সঙ্গে একাধিকবার কথা হয়েছে। চিকিৎসক আবীর লাল নাথের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সোমবার জিবি হাসপাতালে গিয়ে শিশু বিশেষজ্ঞ সঞ্জীব দেববর্মার সঙ্গে ডায়াগনস্টিক করার বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে। তারপর চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ইস্পিতার চিকিৎসা করানো হবে। তিনি আরো উল্লেখ করে বলেছেন, মনোশ্রীর জন্য রাজ্যবাসী যেভাবে মানবিকতার সাড়া দিয়েছেন সেটা গোটা দেশবাসী দেখেছে। ইস্পিতা ও মনোশ্রী দুজনেই রাজ্যের মেয়ে। তাদের বাঁচানোর মালিক ভগবান।

