স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা।১২ জুলাই : সোনামুড়ায় নগর পঞ্চায়েত এলাকার ঠাকুরমুড়া দোকান চৌমুহনি এলাকায় রাস্তার বেহাল দশা। টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে জলাশয়ের পরিণত হয়েছে রাস্তা। রাস্তার জমাট বাঁধা জলের মধ্যে ভাসছে হাঁস। ক্ষোভে পথ অবরোধ করল স্থানীয়রা। অভিযোগ, সোনামুড়া শহরের বিভিন্ন রাস্তাঘাটের বেহাল চিত্র। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে একাধিক সড়ক। বিভিন্ন স্থানে হাঁটুসমান জল। সরকারের উন্নয়নের দাবির সঙ্গে এই চিত্রের বিস্তর ফারাক দেখে ক্ষোভে ফুঁসছেন সাধারণ মানুষ। অনেকেই ব্যঙ্গ করে বলছেন, রাস্তা নয় যেন জলাশয়। রবিবার ছুটির দিনে এই ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয় সোনামুড়া নগর পঞ্চায়েত এলাকার ঠাকুরমুড়া দোকান চৌমুহনীতে।
দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার বেহাল দশা ও জলাবদ্ধতার প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তা অবরোধে সামিল হয়।স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তা হাঁটু সমান জলে ডুবে যায়। সেই জল ঘরে ঢুকে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে বাসিন্দাদের। প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়েই যাতায়াত করেন সোনামুড়া নগর পঞ্চায়েতের ভাইস-চেয়ারপার্সন শাহজাহান মিয়া, তবুও দীর্ঘদিন ধরে সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। একে এলাকাবাসী জানান গত ছয় মাস ধরে এলাকায় ড্রেন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। অথচ কোন ড্রেন নির্মাণ করে না দেওয়ায় জলে ভেসে যায় তাদের বাড়িঘর। এমনকি আশেপাশে কিছু বাড়িঘরে মধ্যে বিল্ডিং তোলার কারণে রাস্তার মধ্যে পর্বত সমান মাটি ফেলে রাখা হচ্ছে। এতে করে স্থানীয় কচিকাঁচারা পর্যন্ত স্কুলে যেতে পারছে না। রাস্তা অবরোধের খবর পেয়ে প্রথমে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। পরে সেখানে যান ভাইস-চেয়ারপার্সন শাহজাহান মিয়া। তিনি অবরোধকারীদের আশ্বস্ত করে জানান, কালীবাজার থেকে সোনামুড়া পর্যন্ত রাস্তাটি শুধুমাত্র নগর পঞ্চায়েতের নয়। পূর্ত দপ্তরের পক্ষ থেকে এই রাস্তাটি সংস্কারের দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে টেন্ডার হয়ে গেছে। বৃষ্টির জন্য কাজ করতে পারছে না ঠিকাদার এবং শ্রমিকরা। সোমবার থেকে কাজ শুরু করবে বলে আশ্বাস দেন। এই আশ্বাসের পর অবরোধ প্রত্যাহার করেন স্থানীয়রা। তবে এখন প্রশ্ন একটাই—এই প্রতিশ্রুতি কি বাস্তবে রূপ নেবে, নাকি আগের মতোই আশ্বাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে? উত্তর খুঁজছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

