স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১১ মে :রাজ্যের সরকারি হাসপাতাল গুলির মধ্যে উন্নত পরিষেবার বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে বেসরকারি সংস্থাগুলি। পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। অথচ গত আট বছর ধরে বুক ঠুকে সরকার দাবি করছে চিকিৎসার হাব গড়ে তোলা হবে রাজ্যে। অভিযোগ গত আট দিন ধরে সিটি স্ক্যান পরিষেবা বন্ধ রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গোমতী জেলা হাসপাতালে। কিন্তু কারোর মাথা ব্যাথা নেই। অভিযোগ, ৮ দিন ধরে গোমতী জেলা হাসপাতালের সিটি স্ক্যান বিভাগে পরিষেবা বন্ধ। ফলে গোমতী জেলা হাসপাতালের স্বাস্থ্য পরিষেবা কার্যত ভেঙে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠছে রোগী ও রোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে।
প্রশাসনের তরফে একাধিকবার উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবার দাবি করা হলেও বাস্তবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ উল্টো চিত্রই তুলে ধরছে হাসপাতাল চত্বর। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, গত আট দিন ধরে হাসপাতালের সিটি স্ক্যান পরিষেবা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে। জানা গিয়েছে, গত ২ মে থেকেই এই গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা বন্ধ হয়ে পড়ে। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসার আশায় আসা রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে দুর্ঘটনাগ্রস্ত ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে, কারণ চিকিৎসকরা বাধ্য হয়ে তাঁদের অন্যত্র রেফার করছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, “সঞ্জীবনী” নামে একটি বেসরকারি সংস্থা এই সিটি স্ক্যান পরিষেবা পরিচালনা করে থাকে। তবে দীর্ঘদিন ধরেই এই সংস্থার পরিষেবা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রোগী ও তাঁদের পরিবার। অভিযোগ, কখনও বিদ্যুৎ বিভ্রাট, কখনও যান্ত্রিক ত্রুটির অজুহাতে প্রায়ই পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়। ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ যেন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমানে ঠিক কী কারণে পরিষেবা বন্ধ রয়েছে, সে বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনও ব্যাখ্যা মেলেনি। এদিকে হাসপাতালের পাশেই মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের কার্যালয় এবং হাসপাতাল সুপারের দফতর থাকা সত্ত্বেও বিষয়টি নিয়ে কার্যকর তদারকি বা দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। তাঁদের প্রশ্ন, জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ এতদিন ধরে বন্ধ থাকার পরও কেন প্রশাসনের তরফে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না? কেন নীরব ভূমিকা পালন করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ? স্বাস্থ্য ব্যবস্থার এই অব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। এখন দেখার বিষয়, দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিক করতে এবং রোগীদের দুর্ভোগ লাঘব করতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

