বাড়িরাজ্যতেলিয়ামুড়ায় সড়ক অবরোধ ঘিরে আক্রান্ত সাংবাদিক, অভিযুক্তকে আটক করল পুলিশ

তেলিয়ামুড়ায় সড়ক অবরোধ ঘিরে আক্রান্ত সাংবাদিক, অভিযুক্তকে আটক করল পুলিশ

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১১ মে :গ্রেপ্তার তেলিয়ামুড়া মহকুমা শাসকের দেহরক্ষী সঞ্জয় দাসের ভাইপো। সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। ঘটনা সোমবার কৃষ্ণপুর বিধানসভা এলাকার চাকমাঘাট পূর্ব বাজারে। জানা যায়, পানীয় জল ও বিদ্যুতের দাবিতে সোমবার কৃষ্ণপুর বিধানসভা এলাকার চাকমাঘাট পূর্ব বাজারে অসম-আগরতলা জাতীয় সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে কয়েক ঘণ্টা ধরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা অবরোধ চলায় জাতীয় সড়কে যান চলাচল কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়ে।

দীর্ঘ সময় ধরে রাস্তায় আটকে থাকে বহু যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পৌঁছান তেলিয়ামুড়া মহকুমা প্রশাসনের ডি.সি.এম হরিপদ সরকার, ডি.ডব্লিউ.এস দপ্তরের আধিকারিকরা এবং তেলিয়ামুড়া ও মুঙ্গিয়াকামী থানার পুলিশ বাহিনী। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়ার পর অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। অবরোধ ঘিরে পরে একাধিক অভিযোগ সামনে আসে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, আন্দোলনের আড়ালে অন্য উদ্দেশ্য সক্রিয় ছিল কি না তা নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্র বিন্দুতে উঠে এসেছে শান্তিনগর এলাকার বাসিন্দা সিপিআইএম সমর্থক সত্যব্রত দাসের নাম। সে প্রাক্তন শিক্ষক সমর দাসের পুত্র তথা তেলিয়ামুড়া মহকুমা শাসকের দেহরক্ষী সঞ্জয় দাসের ভাইপো বলে পরিচিত।

কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার বক্তব্য, জনস্বার্থের দাবিকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষকে ব্যবহার করার চেষ্টা হয়েছে বলে তাদের সন্দেহ। এলাকার একাংশের মধ্যে অভিযোগ উঠেছে অবরোধের পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে অসাধু স্বার্থসিদ্ধির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। যদিও এই ধরনের অভিযোগের পক্ষে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি নথি বা তদন্তের তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে অভিযোগ গুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে সত্যব্রত নামে ওই যুবকের বিরুদ্ধে নেশা সামগ্রী সেবন ও বিক্রির অভিযোগ রয়েছে এলাকায়। এদিকে ঘটনাস্থলে খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিক নিগ্রহের অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগ, উত্তেজনার মধ্যেই তেলিয়ামুড়ার সাংবাদিক হিরন্ময় রায়ের উপর চড়াও হয়। ঘটনার খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে একটি প্রশ্নের মুখে হঠাতই উত্তেজিত হয়ে উঠে সত্যব্রত নামে ওই যুবক। সাংবাদিক হিরন্ময় রায়কে আক্রমণ করে বলে অভিযোগ। একই ঘটনায় স্থানীয় যুবক সুব্রত দাসও আক্রান্ত হন বলে দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনায় হিরন্ময় রায় তেলিয়ামুড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন। ঘটনাকে ঘিরে সাংবাদিক মহলে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, এলাকায় পানীয় জল ও বিদ্যুতের সমস্যা দীর্ঘদিনের এবং তা বাস্তব। তবে জনস্বার্থের দাবিকে কেন্দ্র করে যদি অন্য কোনও উদ্দেশ্য সামনে আসে, তাহলে সাধারণ মানুষের আন্দোলনের গ্রহণযোগ্যতাই প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। জাতীয় সড়ক অবরোধ সম্পর্কে তেলিয়ামুড়া মহকুমা শাসকের সাথে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই ঘটনা জানেননা বলে জানিয়েছেন। বর্তমানে সাংবাদিকদের উপর হামলার অভিযোগে অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত করছে পুলিশ।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য