স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৮ মে :সুশাসন জামানায় নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ডাবল ইঞ্জিন সরকারের কেন চার থেকে পাঁচ বছর লাগছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে ধর্নায় বসলো চাকুরী প্রত্যাশী যুবকরা! কিন্তু তারপরেও নিয়োগ প্রক্রিয়া ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। সরকারের এহেন ভূমিকা রাজ্যের বেকারদের অসস্তিতে ফেলছে। শুক্রবার আন্দোলনরত চাকুরি প্রত্যাশী বেকারদের কাছ থেকে জানা যায়, ২০২২ সালে ত্রিপুরা ফায়ার সার্ভিস দপ্তরে ফায়ার ম্যান এবং ডাইভার পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু ২০২৫ সালে একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সে নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে দেয় রাজ্য সরকার। তারপর রাজ্যের চাকরির প্রত্যাশী বেকারদের উদ্দেশ্যে জানিয়ে দেয় পুনরায় ইন্টারভিউ নেওয়া হবে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো ২০২৬ সালের মে মাসের অতিক্রান্ত হয়ে চলেছে, অথচ তাদের ইন্টারভিউ গ্রহণ করার কোন উদ্যোগ নেই সরকারের। ২০২২ সাল থেকে প্রতীক্ষিত চাকরি প্রত্যাশী যুবকরা এই যন্ত্রণায় ভুগছে। শুক্রবার দুপুরে সদর মহকুমা পুলিশ প্রশাসনকে ঘুমে রেখে তারা একটি বিক্ষোভ মিছিল সংঘটিত করে মুখ্যমন্ত্রী বাড়ির সামনে এসে জড়ো হয়। পুলিশ তাদের এগিয়ে যেতে বাধা দিলে তারা বিক্ষোভ দেখাতে রাস্তা অবরোধ করে ধর্নায় সামিল হয়।
তারপর তাদের পুলিশ আটক করে নিয়ে যায়। তাদের বক্তব্য এই নিয়োগ প্রক্রিয়া ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে গত পাঁচ বছর ধরে। সরকার পুরনো নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে, নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে চাইছে। কিন্তু এভাবে ছয় বছর অতিক্রান্ত হতে চলেছে তাদের। আসলে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে কিনা সেটা নিয়ে এখন তাদের মনে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। তাই দিশাহীন বেকাররা এবার বিক্ষোভে সামিল হয়েছে। তাদের দাবি অবিলম্বে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এভাবে বেকারদের নিয়ে ছিনিমিনি খেলা যাবে না। কারণ তাদের বয়স বাড়ছে। তারা কর্মসংস্থানের অভাবে ভুগছে? এদিকে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে হাই সিকিউরিটি জোন থাকার পরেও কিভাবে সেখানে বেকার আন্দোলন গিয়ে পৌঁছালো? রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা শাখার সোর্স এবং সদর মহকুমা পুলিশ আধিকারিকের সোর্স কি তাহলে ব্যর্থ বলে প্রমাণ করছে? নাকি পুলিশ প্রশাসন এবার সরকারকে কালিমা লিপ্ত করতে খোদ সহযোগিতা করছে?

