স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৮ মে :ত্রিপুরা মধ্যে শিক্ষা পরিষদ পরিচালিত ২০২৬ সালের মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার সম্পূর্ণ হওয়ার ৩৮ দিনের মধ্যে ফলাফল ঘোষণা হলো শুক্রবার। মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিকে এবছর ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের পাশের হার অনেক বেশি। শুক্রবার ত্রিপুরা মধ্য শিক্ষা পর্ষদ পরিচালিত মাধ্যমিক, মাদ্রাসা, আলিম এবং উচ্চ মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ফাজিল পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করে এ কথা জানান ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি ড. ধনঞ্জয় গণ চৌধুরী।
পর্ষদের গোর্খাবস্তি স্থিত পি এন কমপ্লেক্সে সাংবাদিক সম্মেলন করে তিনি এ বছরের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরার পাশাপাশি একাধিক বিদ্যালয়ের ব্যর্থতা তুলে ধরেন। এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসে ৩২ হাজার ১৮৪ জন ছাত্রছাত্রী। এর মধ্যে ছাত্র ১৪,৭৬৯ জন এবং ছাত্রী ১৭,৪১৫ জন। পাশ করেছে মোট ২৭ হাজার ৯৪ জন। এরমধ্যে ছাত্রের সংখ্যা ১২,৩২০ জন। ছাত্রীর সংখ্যা ১৪,৭৭৪ জন। পাশের হার ৮৪.১৮ শতাংশ। মাধ্যমিকে পাশের হার সবচেয়ে বেশি করবুক মহকুমায়। পাশের হার ৯৭.৯১ শতাংশ। সর্বনিম্ন পাশের হার গন্ডাছড়া মহকুমায়। এই মহকুমায় পাশের হার মাত্র ৬৮.৮১ শতাংশ। সারা রাজ্যে মোট ২৭১ টি বিদ্যালয় ১০০ শতাংশ ছাত্র ছাত্রী উত্তীর্ণ হয়েছে এবং ১০০ শতাংশ অনুত্তীর্ণ পাঁচটি বিদ্যালয়। যেমন বৈশমণি পাড়া হাই স্কুল, কালাডেপা হাই স্কুল, রাধামোহন পুর হাই স্কুল, রামনগর গার্লস হাই স্কুল, রাঙ্গা পানিয়া হাই স্কুল। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় বসে ২৬ হাজার ৫০২ জন। এর মধ্যে পাশ করেছে ২১ হাজার ২৪ জন। পাশের হার ৭৯.৩৩ শতাংশ। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসে ছিল সর্বমোট ২৬,৫০২ জন ছাত্রছাত্রী।
এর মধ্যে ছাত্র ১২,৩০৭ জন এবং ছাত্রী ১৪,১৯৫ জন। মোট পাস করেছে ২১০২৪ জন ছাত্রছাত্রী। এরমধ্যে ছাত্র ৯,৪১১ জন এবং ছাত্রী ১১,৬১৩ জন। পাশের হার ৭৯.৯১ শতাংশ। পাশের হার সবচেয়ে বেশি জম্পুই জলা মহকুমা। এই মহকুমায় পাশ করেছে ৯৮.১৬ শতাংশ ছাত্রছাত্রী। সর্বনিম্ন পাশের হার গন্ডাছড়া মহকুমা। ৫৬.৮৫ শতাংশ ছাত্র ছাত্রী পাশ করেছে এই মহকুমায়। ৬২টি বিদ্যালয়ে উচ্চমাধ্যমিকে ১০০ শতাংশ পাস এবং ১০০ শতাংশ অনুত্তীর্ণ একটি স্কুল। অনুত্তীর্ণ স্কুলটি হল রাশিরাম একাডেমি। এবছর মাধ্যমিক আলিম পরীক্ষায় বসে ছিল ১৫৫ জন ছাত্র-ছাত্রী। পাস করেছে ১৪১ জন এবং উচ্চমাধ্যমিকে আলিম পরীক্ষায় বসে ছিল ৮৪ জন। পাস করে ৭৯ জন। পর্ষদ সচিব ড. জয়দীপ ভট্টাচারিয়া জানিয়েছেন। এবছর প্রথম ১০ জন কারা হয়েছে সেই নাম ঘোষণা করা হয়নি। কারণ এর নাম ঘোষণা করা হলে পরবর্তী সময় বছর বাঁচাও পরীক্ষার মাধ্যমে ফলাফল ঘোষণার পর সমস্যায় পড়তে হয় পর্ষদ এবং ছাত্রছাত্রীদের। তিনি আরো জানিয়েছেন এবছর যারা রিভিউ করবে তারা যেন সাত দিনের মধ্যে ওয়েবসাইট থেকে ফর্ম নিয়ে দশ দিনের মধ্যে জমা দেয়। আগামী দু মাসের মধ্যে বছর বাঁচাও পরীক্ষা গ্রহণ করার চেষ্টা করবে পর্ষদ।

