বাড়িরাজ্যসরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করা ও কাজের গুণমান নিশ্চিত করার...

সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করা ও কাজের গুণমান নিশ্চিত করার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২ মে : নগর উন্নয়নের স্বার্থে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করা, কাজের গুণমান বজায় রাখা এবং কাজ শেষ হওয়ার পর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষন ও নিয়মিত মনিটরিং করা প্রয়োজন। পাশাপাশি নাগরিক পরিষেবা দ্রুত প্রদানে আধিকারিকদের কাজের আরও গতি আনা প্রয়োজন।

                               আজ মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি আবাসস্থিত টিআইএফটি’র ওয়ার রুমে ত্রিপুরা নগর উন্নয়ন দপ্তর ও নগর সংস্থাগুলির বিভিন্ন উন্নয়মূলক প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে গিয়ে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।

                               এই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী টুডা’র অধীন প্রকল্পগুলি দ্রুত শেষ করার এবং আগরতলার জ্যাকশন গেইটের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। আগরতলার আখাউড়া বর্ডারস্থিত নির্মীয়মান লাইট হাউস প্রকল্পের কাজ শেষ করার উপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবা সুনিশ্চিত করতে সিটি হাসপাতালের কাজ অতিসত্ত্বর শেষ করার নির্দেশ দেন। শহরের নিরাপত্তা ও আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে রাজ্যের নগর এলাকাগুলিতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দুর্ঘটনা হ্রাস করতে ফুটপাতগুলিতে রেলিং বসানোর বিষয়েও মুখ্যমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নির্দেশ দেন। একইভাবে উদয়পুরে গোমতী নদীর রিভার ফ্রন্ট ডেভেলপমেন্ট, পাম্প হাউসগুলির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রয়োজনে নতুন পাম্প হাউস তৈরি করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া স্বচ্ছ ভারত মিশনের কাজ অব্যাহত রাখার জন্য নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।

                           রাজ্যের ২০টি নগর এলাকায় পিঙ্ক টয়লেট নির্মাণের কাজ প্রায় শেষের পথে হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। শহরের ঐতিহ্য রক্ষায় আগরতলার গাঙ্গাইল রোডের বিবেকানন্দ ব্যায়ামাগারের উন্নয়ন এবং শান্তিপাড়ার পুকুরে আরও একটি পাকা ঘাট তৈরীর নির্দেশ দেন তিনি। পরিবেশ রক্ষায় পূজার পর বিভিন্ন মূর্তি সঠিক স্থানে রাখা বা রিসাইক্যাল করা যায় কিনা, সে বিষয়ে আগরতলা পুরনিগমের আধিকারিকদের উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়া বাড়ি বাড়ি গিয়ে আবর্জনা সংগ্রহ এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজ যেন নিয়মিতভাবে হয়, সেই দিকটিও তিনি নিশ্চিত করতে গুরুত্ব আরোপ করেন।

                            বৈঠকে এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী নগর উন্নয়ন প্রকল্প, স্যাটেলাইট টাউনশীপ প্রকল্প, আমরুত ২.০, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট সহায়তা প্রাপ্ত প্রকল্প, স্মার্টসিটি মিশন, শহরের সৌন্দর্যায়ণ, এসএএসসিআই স্কিম, মুখ্যমন্ত্রী নগর উন্নয়ন প্রকল্প সহ বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হয়।

                          মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, জনকল্যাণমুখী বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ সময়মতো শেষ করা এবং কাজের গুণমান বজায় রাখা, জনগণের প্রতি প্রশাসনের দায়বদ্ধতাকে আরও সুদৃঢ় করবে। আগরতলা সহ রাজ্যের অন্যান্য শহরগুলোতে নাগরিক পরিষেবায় অত্যাধুনিক পরিকাঠামো নির্মাণ এবং নাগরিক পরিষেবার মানোন্নয়নের মাধ্যমে সুন্দর ও পরিকল্পিত ত্রিপুরা গড়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বর্তমান সরকার।

                             এদিন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব জে কে সিনহা, নগর উন্নয়ন দপ্তরের সচিব মিলিন্দ রামটেকে, অর্থ দপ্তরের সচিব অপূর্ব রায়, আগরতলা পুরনিগমের কমিশনার সাজু বাহিদ এ, নগর উন্নয়ন দপ্তরের অধিকর্তা মেঘা জৈন, ত্রিপুরা আরবান প্ল্যানিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটির কমিশনার মিহিরকান্তি গোপ সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকগণ।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য