বাড়িরাজ্যত্রিপুরা সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি দপ্তরের টেন্ডারে 'নয়-ছয়'। প্রশাসনিক নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কেন...

ত্রিপুরা সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি দপ্তরের টেন্ডারে ‘নয়-ছয়’। প্রশাসনিক নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কেন এই অতি-তৎপরতা?

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক প্রতিনিধি আগরতলা,২৭ এপ্রিল।। স্বচ্ছতা না কি স্বজনপোষণ? ত্রিপুরা সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি দপ্তরের সাম্প্রতিক একটি টেন্ডারকে ঘিরে এই প্রশ্নই এখন জোরালো হয়ে উঠেছে। স্টার্ট-আপদের জন্য ‘ডিজিটাল ইনোভেশন প্ল্যাটফর্ম’ তৈরির এই টেন্ডারে যেভাবে সরকারি নিয়মকানুনকে পাশ কাটিয়ে দ্রুত প্রক্রিয়া শেষ করার চেষ্টা হচ্ছে, তাতে বড়সড় দুর্নীতির গন্ধ পাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। ২১ দিনের নিয়ম ৯ দিনে সাবাড়! কেন্দ্রীয় সরকারের ‘জেনারেল ফিন্যান্সিয়াল রুলস ২০১৭ এবং কেন্দ্রীয় ভিজিল্যান্স কমিশনের কড়া নির্দেশিকা অনুযায়ী, যেকোনো ওপেন টেন্ডারে স্বচ্ছতা ও সুস্থ প্রতিযোগিতার স্বার্থে আবেদনকারীদের কমপক্ষে ২১ দিন সময় দেওয়া দস্তুর। কিন্তু ত্রিপুরার তথ্যপ্রযুক্তি দপ্তর যেন কোনো এক অজানা জাদুবলে সেই সময়কে সংকুচিত করে মাত্র ৯ দিনে নামিয়ে এনেছে।
প্রশ্ন উঠছে, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি বা জাতীয় বিপর্যয় ছাড়া কেন এই নজিরবিহীন অতি-তৎপরতা? এমনকি অতিমারি বা জরুরি অবস্থার সময়েও যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপের কারণ দর্শাতে হয়, সেখানে একটি আইটি প্রজেক্টের জন্য কোন অদৃশ্য চাপে নিয়মকে জলাঞ্জলি দেওয়া হলো? ‘নির্দিষ্ট’ সংস্থাকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার ছক? অভিযোগ উঠেছে, সময়সীমা এতটা কমিয়ে দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো বাইরের বড় সংস্থাগুলোকে প্রতিযোগিতার ময়দান থেকে সরিয়ে দেওয়া। অভিযোগের তির সরাসরি স্থানীয় একটি সংস্থা এবং দক্ষিণ ভারতের কয়েকটি নির্দিষ্ট লবির দিকে। বিগত কয়েক বছরে দেখা গেছে, বিভিন্ন ডোমেনের অধিকাংশ কাজ রহস্যজনকভাবে এই গুটিকয়েক সংস্থার হাতেই যাচ্ছে। এই ‘সিণ্ডিকেট রাজ’ কায়েম করতেই কি টেন্ডারের সময়সীমা কমিয়ে বাকিদের সুযোগ কেড়ে নেওয়া হচ্ছে? দাবি উঠছে, প্রশাসনের সদিচ্ছা নিয়ে জনমনে দানা বাঁধা সংশয় দূর করতে তথ্যপ্রযুক্তি দপ্তরকে অবশ্যই জবাব দিতে হবে, কার নির্দেশে ২১ দিনের আইনি সময়সীমাকে ৯ দিনে নামিয়ে আনা হলো?নথিপত্রে এই অস্বাভাবিক পদক্ষেপের পক্ষে কোনো ‘রেকর্ডকৃত জাস্টিফিকেশন’ আছে কি? এই নিয়মভঙ্গের দায়ভার কি উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করেছেন? গুটিকয়েক সংস্থাকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই কি কৌশলে অন্য প্রতিযোগীদের বঞ্চিত করা হচ্ছে? গত ৬ মাসের টেন্ডার মূল্যায়ন এবং সংস্থা-ভিত্তিক কাজের বণ্টন কি শ্বেতপত্রের আকারে প্রকাশ করার সাহস দেখাবে দপ্তর? জনগণের করের টাকার অপচয় রুখতে এবং রাজ্যে একটি স্বচ্ছ ব্যবসায়িক পরিবেশ বজায় রাখতে এই টেন্ডার প্রক্রিয়ার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত এখন সময়ের দাবি। তথ্যপ্রযুক্তি দপ্তরের এই ‘রহস্যময়’ পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামে, সেটাই এখন দেখার।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য