বাড়িরাজ্যস্মার্ট সিটি প্রকল্পের নামে এমবিবি কলেজ লেকে পরিবেশের ভয়াবহ ক্ষতি: মানবাধিকার কমিশনে...

স্মার্ট সিটি প্রকল্পের নামে এমবিবি কলেজ লেকে পরিবেশের ভয়াবহ ক্ষতি: মানবাধিকার কমিশনে বিস্ফোরক তথ্য।

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৭ এপ্রিল।। আগরতলা স্মার্ট সিটি প্রকল্পের অধীনে এমবিবি কলেজ লেকের তথাকথিত ‘সৌন্দর্যায়ন’ ও ‘পুনরুজ্জীবন’ প্রকল্পের আড়ালে প্রকৃতির যে অপূরণীয় ক্ষতি করা হয়েছে, তার এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এল ত্রিপুরা মানবাধিকার কমিশনের শুনানিতে। কমিশনের সামনে দাঁড়িয়ে বিশেষজ্ঞগণ যে সাক্ষ্য দিয়েছেন, তাতে স্পষ্ট যে উন্নয়নের নামে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রকে কার্যত ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বনবিদ্যা ও জীববৈচিত্র্য বিভাগের অধ্যাপক সব্যসাচী দাশগুপ্ত এবং প্রাণীবিদ্যার অধ্যাপক প্রিয়শঙ্কর চৌধুরী সহ বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞরা শুনানিতে অংশ নেন। তাঁদের সাক্ষ্যে উঠে আসা প্রধান অভিযোগগুলো হলো লেক সংলগ্ন এলাকার আদি ও অকৃত্রিম দেশীয় ঝোপঝাড় এবং উদ্ভিদ সম্পূর্ণ উপড়ে ফেলা হয়েছে। পরিবর্তে সেখানে বসানো হয়েছে ‘অরনামেন্টাল’ বা শোভাবর্ধক বিদেশি গাছ, যার কোনো বাস্তুতান্ত্রিক গুরুত্ব নেই। লেকের মাঝখানে প্লাস্টিকের ভাসমান ব্রিজ এবং কংক্রিটের বড় বড় প্ল্যাটফর্ম তৈরির ফলে পাখিদের বিশ্রামের জায়গা সংকুচিত হয়েছে। এর ফলে বিখ্যাত ‘বালি হাঁস’ সহ বিভিন্ন পরিযায়ী পাখির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। ব্যাপক মাটি কাটার ফলে ভূমিক্ষয় বেড়ে গেছে, যা লেকের তলদেশে জমা হয়ে এর গভীরতা কমিয়ে দিচ্ছে। কংক্রিটের নির্মাণের ফলে জলের স্বাভাবিক গুণাগুণ নষ্ট হয়ে জল দূষিত হচ্ছে। ত্রিপুরায় রেকর্ড করা একমাত্র জলজ অর্কিড ‘স্পিরানথেস সিনেনসিস’ এবং বিরল প্রজাতির বিচ্ছুদের বাসস্থান এই নির্মাণকাজের ফলে ধ্বংস হয়ে গেছে। লেক সংলগ্ন এলাকায় অতিরিক্ত আলোর ব্যবস্থার ফলে পেঁচা সহ অন্যান্য নিশাচর প্রাণী ও পাখিদের শিকার এবং জীবনযাত্রায় চরম ব্যাঘাত ঘটছে। শুনানিতে পক্ষী বিশেষজ্ঞ ডঃ কৃষ্ণেন্দু দাস এক বিস্ফোরক অভিযোগ আনেন। তিনি জানান, বন দপ্তর ও ত্রিপুরা জীববৈচিত্র্য বোর্ড একটি রিপোর্টে দাবি করেছিল যে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা কমার কারণ জলবায়ু পরিবর্তন, যা কি না ডঃ দাসের ব্যক্তিগত অভিমত। ডঃ দাস সরাসরি এই দাবি অস্বীকার করে বলেন, দপ্তর তাঁর নাম ব্যবহার করে সম্পূর্ণ মিথ্যা তথ্য প্রচার করেছে। তিনি স্পষ্ট জানান, গ্লোবাল ওয়ার্মিং থাকলেও স্মার্ট সিটি প্রকল্পের ভুল পরিকল্পনা এই ক্ষতির জন্য সরাসরি দায়ী। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমবিবি কলেজ চত্বরটি আগরতলা শহরের ফুসফুস এবং একটি ‘ইকোলজিক্যাল সেনসিটিভ জোন’। যথাযথ পরিকল্পনা ছাড়াই প্রকৃতির এই স্পর্শকাতর জায়গায় যেভাবে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক বিপজ্জনক বার্তা দিচ্ছে। প্রকৃতির সাথে এই ‘তামাশা’ কি প্রশাসনের মদতেই হচ্ছে? মানবাধিকার কমিশনের এই শুনানি এখন প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। রাজ্যবাসী এখন তাকিয়ে কমিশনের চূড়ান্ত নির্দেশের দিকে। উন্নয়নের জোয়ারে আমাদের পরিবেশ কি এভাবেই বলি হতে থাকবে? উত্তর খুঁজছে আম-জনতা।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য