বাড়িরাজ্যপ্রদেশ যুব কংগ্রেস মিছিল ঘিরে উত্তপ্ত শহর, আহত বহু

প্রদেশ যুব কংগ্রেস মিছিল ঘিরে উত্তপ্ত শহর, আহত বহু

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১৫ জুন : সোমবার কেন্দ্রীয় বাহিনীকে হাতিয়ার করে আগরতলা শহরের মধ্যে বাহুবলির পরিচয় দিল রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর। বিনা মেঘে বজ্রপাত প্রবাদ বাক্যের সঙ্গে মিলে গেল পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা। কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ সহ ৫ দফা দাবিতে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করতে নেমেছিল প্রদেশ যুব কংগ্রেস। দীর্ঘ বড় মিছিল না হলেও কিছু কর্মী সমর্থক নিয়ে যুব কংগ্রেস এদিন মিছিল সংঘটিত করে। যুব কংগ্রেসের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিলে পরিকল্পিতভাবে যুদ্ধের সাজে বাধা হয়ে দাঁড়ায় সদর মহকুমা পুলিশ আধিকারিকের নেতৃত্বে পুলিশ ও টি এস আর সহ কেন্দ্রীয় বাহিনী।

পাল্টা মিছিল এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইলে পুলিশের লাঠির আঘাতে রক্ত ঝড়ল একাধিক যুব কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকের। এদিন প্রদেশ কংগ্রেস ভবনের সামনে থেকে শুরু হয় এই বিক্ষোভ মিছিল। মিছিলটি রাজধানীর বিভিন্ন রাস্তা পরিক্রমা করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সমীর রঞ্জন বর্মণের বাস ভবনের সামনে আসার পর পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে মিছিল আটকে দেয়। তখন যুব কংগ্রেসের কর্মীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙ্গে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু আরক্ষা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জল কামান ব্যবহার করে যুব কংগ্রেস কর্মী সমর্থকদের ছত্র ভঙ্গ করার চেষ্টা করে। তাতে ব্যর্থ হয়ে আরক্ষা কর্মীরা যুব কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকদের উপর লাঠি চার্জ করে। এতে আহত হয় একাধিক যুব কংগ্রেস কর্মী সমর্থকের। রক্ত ঝড়ে যুব কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকদের।

পুলিশের লাঠি চার্জের পর যুব কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকরা সেখানেই রাস্তায় বসে যায়। প্রদেশ যুব কংগ্রেস সভাপতি নিল কমল সাহা জানান দিনের পর দিন দেশ ও রাজ্যের হাল বেহাল হয়ে যাচ্ছে। ছেলে মেয়েদের জীবন নিয়ে খেলা করা হচ্ছে। নিটের প্রশ্ন পত্র ফাঁস হয়ে গেছে। তার প্রতিবাদ জানিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রীর পদ ত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে যুব কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকরা। পাশাপাশি রাজ্যের যুবদের চাকুরির পরিবর্তে হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে নেশা সামগ্রী। রেলে করে রাজ্যে নেশা সামগ্রী আসছে। তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশ কর্মী উদ্ধার হওয়া নেশা সামগ্রী নেশা কারবারিদের নিকট বিক্রয় করে দিয়েছে। তার প্রতিবাদে যুব কংগ্রেস আন্দোলন জারি রাখবে বলে জানান তিনি। যুব কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকরা রাস্তায় বসে যাওয়ার পর পুলিশ তাদেরকে আটক করে গাড়িতে করে এডিনগর পুলিশ লাইনের অস্থায়ী ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে যায়। পশ্চিম জেলার পুলিশ সুপার জানান ৭০ জনের অধিক লোককে আটক করে অস্থায়ী ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার জল কামান ব্যবহার ও পুলিশের লাঠি চার্জের অভিযোগ এক প্রকার স্বীকার করে নেন। এইদিকে আটক যুব কংগ্রেস কর্মী সমর্থকদের এডিনগর পুলিশ লাইনের অস্থায়ী ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়ার কিছু সময় বাদে তাদেরকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া হয়। উল্লেখ্য পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা এদিন পুরোপুরিভাবে প্রশ্নের মুখে উঠেছে কতিপয় পুলিশ আধিকারিকের কারণে। সরকারকে কালিমা লিপ্ত করতে এ ধরনের পরিকল্পনা বলে স্বরাষ্ট্র দপ্তর সূত্রেই খবর।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য