স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ২৯ মার্চ :রবিবার মেলার মাঠ স্থিত ভানু ঘোষ স্মৃতিভবনে ডুকলি বিভাগীয় কমিটির ৪র্থ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের উদ্বোধন করেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। সম্মেলনের শুরুতেই সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করেন সংগঠনের ডুকলি বিভাগীয় কমিটির সভাপতি অরিন্দম বিশ্বাস। শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শহীদ বেদীতে ফুল মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান সি পি আই এম পশ্চিম জেলা কমিটির সম্পাদক রতন দাস ।
প্রাক্তন বিধায়ক রাজকুমার চৌধুরী, বিধায়ক রামু দাস, ডি ওয়াই এফ আই রাজ্য কমিটির সম্পাদক নবারুন দেব, ডুকলি বিভাগীয় কমিটির সম্পাদক শুভংকর মজুমদার, সম্মেলনের প্রস্তুতি কমিটির চেয়ারম্যান সৃজন দেব প্রমুখ। বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার বলেন, বর্তমান সরকার যে প্রতিশ্রুতি গুলি দিয়ে ২০১৮ সালে বৈতরণী পার হয়েছিল সেগুলির ধারে কাছে দিও যাওয়ার চেষ্টা করিনি গত সাড়ে সাত বছরের অধিক সময়ে। বামফ্রন্ট সরকারের আমলে ত্রিপুরা দেশের মধ্যে রেগার কাজে প্রথম স্থান অধিকার করেছিল। বর্তমান সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ৯৪-৯৫ দিনের কাজ তো দূরের কথা, ২৬-৩৫ দিনের বেশি হয় না। এবং কাজের পর মজুরি পাওয়ার জন্য মাসের পর মাস শ্রমিকদের অপেক্ষা করতে হয়। পরবর্তী সময় শ্রমিকরা ব্যাংক থেকে তাদের পারিশ্রমিক তুলতে গেলে মন্ডল নেতারা থাবা বসানোর চেষ্টা করে। পাল্টা প্রতিরোধ করলে শ্রমিকদের হুমকির মুখোমুখি হতে হয়।
তিনি আরো বলেন, সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে পরিবারে সরকারি কর্মচারী নেই সে পরিবারে তারা বেকার ছেলেমেয়েদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুসারে কাজের ব্যবস্থা করবে। সেই প্রতিশ্রুতি পালনে কার্যকরী ভূমিকা নেই সরকারের। মুখ্যমন্ত্রী নিজে দাবি করছেন সাড়ে সাত বছরের ১৯ থেকে ২০ হাজার চাকরি দিয়েছে। অথচ তারা নিয়মিত কর্মচারী নয়। চিক্তির ভিত্তিতে নিয়োজিত হচ্ছে। উদ্বেগ জনক বিষয় হলো, চুক্তির ভিত্তিতে নিয়োজিত কর্মচারীদের যে বেতন দেওয়ার কথা সেটা পর্যন্ত তাদের মিলছে না। আবার কয়েক মাস পর তাদের একটা অংশকে ছাটাই করে দিচ্ছে। আর আরেকটা অংশকে পুনরায় নিয়োজিত করার চেষ্টা করছে। এতে করে তারা নিয়মিত হতে পারছে না। তাই বেকার সমস্যা সমাধান করতে নতুন করে শূন্যপদ তৈরি করা এবং নিয়মিতভাবে পূরণ করার দাবি উপস্থাপন করতে হবে। আয়োজিত সম্মেলনে বামফ্রন্টের কর্মী সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।

