স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১০ ফেব্রুয়ারি : ত্রিপুরা সরকারের প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তর পথ প্রাণীদের প্রতি মানবিক আচরণ, দত্তক গ্রহণ, পোষা প্রাণীর নিয়মিত টিকাকরণ ও পোষা কুকুরের প্রতি আরো বেশি মানবিক হওয়ার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা জানান প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তরের আধিকারিক দিপা দি নাইয়ার। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট গত ৭ই নভেম্বর জননিরাপত্তা ও প্রাণীকল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে।
সেই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে পথকুকুর নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ত্রিপুরা প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তর। এনিম্যাল বার্থ কন্ট্রোল রুল, ২০২৩ অনুযায়ী পথকুকুরদের নির্বীজন ও টিকাকরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। স্থানীয় সংস্থা ও পুর নিগম কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এনিম্যাল বার্থ কন্ট্রোল সেন্টার ও আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কার্যক্রমে প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তর ও এনিম্যাল বার্থ কন্ট্রোল রুল, ২০২৩ এ নিবন্ধিত প্রাণীকল্যাণ সংস্থা সমূহ কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে। আগরতলা পুর নিগম ইতিমধ্যে হাপনিয়াতে এনিম্যাল বার্থ কন্ট্রোল সেন্টার স্থাপন করেছে। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে আর.কে নগরে একটি প্রাণী আশ্রয়কেন্দ্র বা এনিম্যাল সেন্টার রয়েছে।
এছাড়া অন্যান্য পৌরসভাগুলিও প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তর ও প্রাণীকল্যাণ সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে অনুরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। আরো বলেন, রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো প্রাণীদের দুর্ঘটনা রুখতে ন্যাশনাল হাইওয়েস অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড, পূর্ত দপ্তর, পরিবহণ দপ্তর, পৌর সংস্থা ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে নজরদারির ব্যবস্থাপনা চালু করা হয়েছে। রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো চিহ্নিত প্রাণীদের নির্ধারিত আশ্রয় কেন্দ্র ও গোশালায় স্থানান্তর করা হচ্ছে। এই আশ্রয় কেন্দ্র গুলির মধ্যে খাদ্য, জল ও পশুচিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এছাড়াও সকল হাসপাতালে অ্যান্টি-রেবিস ভ্যাকসিন ও ইমিউনোগ্লোবুলিন মজুত রয়েছে এবং বিদ্যালয় সমূহে সচেতনতা কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দপ্তরের আধিকারিকরা।

