Tuesday, February 10, 2026
বাড়িরাজ্যজল জীবন মিশনের কোটি টাকার কাজেও শুকনো সরসপুর, প্রতিবাদে পথ অবরোধ

জল জীবন মিশনের কোটি টাকার কাজেও শুকনো সরসপুর, প্রতিবাদে পথ অবরোধ

স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ১০ ফেব্রুয়ারি :নল বসানো হয়েছে, কোটি কোটি টাকা খরচ হয়েছে—তবুও কল খুললেই জল নেই। শুকনো মৌসুম শুরু হতেই গ্রাম পাহাড়ে ফের চোখে পড়ল পানীয় জলের তীব্র হাহাকার। এরই প্রতিবাদে ত্রিপুরার উত্তর জেলার ধর্মনগর মহকুমাধীন সরসপুর গ্রামে পানীয় জলের দাবিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে পথ অবরোধে শামিল হলেন স্থানীয় প্রমিলা বাহিনী সহ গ্রামবাসীরা।

জানা গেছে, সকাল প্রায় ৮টা নাগাদ সরসপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সরলা–কদমতলা সড়কের উপর কলসি ও বালতি হাতে নিয়ে বসে পড়েন স্থানীয় প্রমিলা বাহিনী ও গ্রামবাসীরা। ব্যস্ততম এই সড়কে দীর্ঘক্ষণ অবরোধ চলায় চরম দুর্ভোগে পড়েন নিত্যযাত্রীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরসপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় দীর্ঘ এক বছর ধরে পানীয় জলের মারাত্মক সংকট চলছে। এলাকায় যে পাইপলাইন বসানো হয়েছে তা অত্যন্ত সরু এবং বহু জায়গায় পাইপের ভিতরে আয়রন জমে পাইপলাইন কার্যত জ্যাম হয়ে গেছে। ফলে বাড়ি বাড়ি জল পৌঁছাচ্ছে না।

এই সমস্যা নিয়ে বারবার জলের পাম্প অপারেটর সুনীল নাথের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনও সদুত্তর দেননি বলে অভিযোগ। উল্টে গ্রামবাসীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে পাম্প অপারেটরের পাল্টা বক্তব্য, পাম্প দীর্ঘক্ষণ চালালে বিদ্যুৎ বিল কে দেবে কিংবা মোটর নষ্ট হলে তার মেরামতির দায়িত্ব কে নেবে—এই প্রশ্ন তুলে তিনি দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন। অপারেটরের এই উদাসীনতা এবং চূড়ান্ত অব্যবস্থার প্রতিবাদেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিক্ষোভকারীদের স্পষ্ট বক্তব্য—

“নল আছে, কিন্তু জল নেই। অবিলম্বে এই অপারেটরকে বদলাতে হবে এবং এলাকায় পর্যাপ্ত পানীয় জলের স্থায়ী ব্যবস্থা করতে হবে। এদিকে দুপুর প্রায় ১২টা পর্যন্ত অবরোধ চলার পর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কদমতলা থানার পুলিশ ও ডিডাব্লুএস দপ্তরের আধিকারিকরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত জলের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলে অবরোধ প্রত্যাহার করেন গ্রামবাসীরা। তবে প্রশাসনিক আশ্বাসে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন তাঁরা। জল সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। শুখা মরশুম শুরু হতেই গ্রাম পাহাড়ে পানীয় জলের যে ভয়াবহ ছবি সামনে এল, তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল—জল জীবন মিশনে কোটি কোটি টাকা খরচ হলেও তার বাস্তব সুফল এখনও পাননি সাধারণ মানুষ।

সম্পরকিত প্রবন্ধ

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য