স্যন্দন ডিজিটাল ডেস্ক, আগরতলা। ৯ ফেব্রুয়ারি : নেশা মুক্ত ত্রিপুরা স্লোগান বাস্তবায়ন করার জন্য যেখানে কলমচৌড়া থানার পুলিশের সবার আগে ভূমিকা থাকার কথা, সেখানে কোন এক অজ্ঞাত কারণে পুলিশ সবার পেছনে দাঁড়িয়ে ভূমিকা পালন করছে। যার কারণে কলমচৌড়া থানার পুলিশকে ঘুমে রেখে গাঁজা বিরোধী অভিযানে নামতে হচ্ছে আধা সামরিক বাহিনীকে। কিন্তু, আধা সামরিক বাহিনীর অভিযানের আগেই খবর পৌঁছে যাচ্ছে গাঁজা চাষীদের কানে। সেই খবরের ভিত্তিতে আধা সামরিক বাহিনীর উপর পরিকল্পিত আক্রমণ সংগঠিত হলো সোমবার।
এদিন কলমচৌড়া থানার অন্তর্গত উত্তর কলমচৌড়া বড়মুড়া এলাকায় গাঁজা বিরোধী অভিযানকে কেন্দ্র করে আসাম রাইফেলস জওয়ানদের উপর আক্রমণ চালায় এলাকার গাঁজা চাষীরা। ঘটনায় আসাম রাইফেলসের কর্মরত গাড়ি চালক সহ চারজন জওয়ান আহত হয়েছেন। এর মধ্যে সুমন মজুমদার নামে একজন পুলিশ কনেস্টবল রয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। হাসপাতালে চিকিৎসারত রয়েছে গুরুতর আহতরা। বর্তমানে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। জানা গেছে, গাঁজা বিরোধী অভিযানে অংশ নিতে আসাম রাইফেলসের একটি দল এলাকায় প্রবেশ করলে গ্রামবাসীদের একাংশের সঙ্গে তাদের বচসা বাধে। তারপর গ্রামের গাঁজা চাষিরা রাস্তা অবরোধ করে বসে। সিংহভাগ ছিল মহিলা। দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থায় এলাকার একদল যুবক পেছন থেকে পরিকল্পিতভাবে ছুটে এসে জওয়ানদের উদ্দেশ্যে ইট পাথর ছুটতে শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আসাম রাইফেলসের পক্ষ থেকে প্রায় চল্লিশ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে বলে খবর। ইট-পাথরের আঘাতে চারজন জওয়ান রক্তাক্ত হন। কারও মাথায়, কারও বুকে পাথরের আঘাত লাগে বলে জানা গেছে। ঘটনাস্থলেই তাদের ফার্স্ট এইড বক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কলমচৌড়া থানার পুলিশ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেয়। তবে উত্তেজিত জনতার চাপে একসময় আসাম রাইফেলসকে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে হয় বলে স্থানীয়রা জানান।
পরবর্তী সময়ে উত্তর কলমচৌড়া পাশানিয়া ও দক্ষিণ কলমচৌড়া এলাকায় গাঁজা বিরোধী অভিযান চালায় আসাম রাইফেল পুলিশ। ধ্বংস করা হয় কয়েক লক্ষ গাঁজা গাছ। এদিকে গ্রামবাসীদের দাবি, গাঁজা চাষই তাদের জীবিকার সম্বল। কিছু কিছু গাঁজা চাষী রাস্তায় গড়াগড়ি দিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।ঘটনার জেরে পুরো এলাকা জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে খবর। খবর লেখা পর্যন্ত কলমচৌড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে কাউকে গ্রেপ্তার করে নি। পুলিশ চাইলে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা নিয়ে ঘটনার তদন্ত করতে পারে এবং যেসব পাথরবাজ সেখানে ঘটনাটি সংঘটিত করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। কিন্তু কি কারনে থানার ওসি এবং মহকুমা পুলিশ আধিকারিক হাত গুটিয়ে বসে আছে সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কে কার পক্ষে, কার কি স্বার্থ? সেটা এখন বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এই ঘটনায়। বিষয়টি সুস্থ তদন্ত করে অবিলম্বে ধরপাকড় করা প্রয়োজন। নাহলে রাজ খুলবে না।

